মোবাইলফোন ও ইন্টারনেট অবাধ তথ্যপ্রবাহকে ত্বরান্বিত করেছে। বিটিআরসির তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে মোবাইলফোন গ্রাহকের সংখ্যা সাড়ে ১৬ কোটির বেশি। একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইলফোন অপারেটর ‘টেলিটক’-এর পাশাপাশি রয়েছে আরো চারটি অপারেটর কোম্পানি। ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে টেলিটকের গ্রাহক অর্ধকোটির কাছাকাছি। অন্যান্য অপারেটরের তুলনায় সাশ্রয়ী কলরেট, ব্যবহারকারীদের ভিন্নতা ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন সুবিধার সমন্বয়ে আলাদা আলাদা সিম ও প্যাকেজ চালুর পরেও গ্রাহক সংখ্যা কম হওয়ার মূল কারণ দেশের সব জেলা ও উপজেলায় নেটওয়ার্কের নাজুক পরিস্থিতি। বিভাগীয় শহরগুলোতেও নেটওয়ার্কের দুর্বলতা নিয়ে গ্রাহকদের বিড়ম্বনার অন্ত নেই। তাই প্রায় ১০ কোটি গ্রাহক মোবাইলফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করলেও তাতে টেলিটকের ব্যবহারকারী আহামরি নয়। পার্বত্য জেলাগুলোতে প্রথমদিকে টেলিটকের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রাহক থাকলেও সব জায়গায় নেটওয়ার্ক না থাকা, বিদ্যুত্ গেলে নেটওয়ার্কও চলে যাওয়া এবং থ্রিজি বা ফোরজির আওতায় নিম্নমানের সেবার কারণে গ্রাহক সংখ্যা কমছে। অন্যান্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান কলরেট ও ইন্টারনেট প্যাকেজের মূল্য অপেক্ষাকৃত বেশি হলেও শক্তিশালী ও বিস্তৃত নেটওয়ার্ক সুবিধাপ্রাপ্তির ফলে গ্রাহকরা ‘টেলিটক’ ব্যবহার করতে পারছে না। সরকার বঞ্চিত হচ্ছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে। তাই সকল জেলা ও উপজেলায় নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং সুবিধা উন্নয়নে টাওয়ার স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
আবু ফারুক
ভাগ্যকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,
বান্দরবান
