কুয়েতে মানবপাচার ও অর্থপাচারের অভিযোগে গ্রেফতার বাংলাদেশি সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম ওরফে কাজী পাপুলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকায় আরো দুই জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বর্তমানে তারা পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন কাজী পাপুলের কাছ থেকে প্রায় ২৮ কোটি টাকার (১০ লাখ কুয়েতি দিনার) চেক নিয়েছেন। রবিবার সূত্রের বরাত দিয়ে কুয়েতের সংবাদমাধ্যম আরব টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এদিকে কাজী পাপুলের পক্ষে মিথ্যা সাফাই গেয়ে বাংলাদেশ সরকারকে বিভিন্ন সময় বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ায় দেশটিতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত এস এম আবুল কালামকে পদ থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
গত ৬ জুন মানবপাচার, অর্থপাচার ও কর্মী শোষণের অভিযোগে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কাজী পাপুলকে গ্রেফতার করে কুয়েতি সিআইডির সদস্যরা। আটক করা হয়েছে তার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মূর্তজা মামুনকে।
ইতিমধ্যে এমপি পাপুলের বিরুদ্ধে কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশনের কাছে সাক্ষ্য দিয়েছেন ১২ বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মী। জানা গেছে, পাপুলের বিরুদ্ধে জালিয়াতি করে কর্মী নিয়োগ, রেসিডেন্সি আইনের লঙ্ঘন ও ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ আনা হচ্ছে। ইতিমধ্যে তিনবার তার জামিন আবেদন নাকচ হয়েছে। আগামী ৬ জুলাই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ওপর শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কাজী পাপুল ও তার কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে থাকা প্রায় ১৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা জব্দ করতে কুয়েতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছে দেশটির পাবলিক প্রসিকিউশন।
রাষ্ট্রদূতকে সরানোর সিদ্ধান্ত
কাজী পাপুলের পক্ষে মিথ্যা সাফাই দেওয়ায় কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এস এম আবুল কালামকে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
জানা গেছে, কুয়েতে গত ফেব্রুয়ারিতে কাজী পাপুলের বিরুদ্ধে যখন প্রথম মানবপাচারের অভিযোগ উঠেছিল তখন এক চিঠিতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে তিনি জানান যে, এসব অভিযোগ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।
চিঠিতে মোট তিনবার সব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন রাষ্ট্রদূত। এমনকি বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজী পাপুলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এগুলো ‘বাতাসের কথা’।
রাষ্ট্রদূত কালামের এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ইত্তেফাককে বলেন, রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসের অন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো তদন্তের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে বোধহয় চিঠি দিয়েছিলেন, এটা হয়তো ব্যক্তিগত চিঠি, আমি জানি না। অবশ্যই বড়ো অ্যাকশন হবে। আমরা ইতিমধ্যে নতুন রাষ্ট্রদূত ওখানে কে যাবেন, সেটা নির্ধারণ করেছি। তিনি দায়িত্বে না থাকলেও তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তদন্ত করা হবে।
