সাতক্ষীরায় করোনার উপসর্গ নিয়ে এক স্কুলছাত্রসহ চার জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) বিকালে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তির ২০ মিনিট পর ওই ছাত্রের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে সাতক্ষীরায় করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ জনে।
মারা যাওয়া ওই স্কুলছাত্র (১৩) তারালী ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও তেঁতুলিয়া বিটিজিআর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। বাকিরা হলেন, কলারোয়া উপজেলার গোয়ালচাতর গ্রামের জাহাবক্স দালালের ছেলে গোলাম রব্বানী (৬২), ঢাকায় একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত তালা উপজেলার শাকদাহ গ্রামের মৃত সামছুদ্দিন সরদারের ছেলে ইউনুস আলী (৪২) ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁশদহা গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে রুস্তুম আলী (৭০)।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সাতক্ষীরায় একই পরিবারের তিনজনসহ নতুন করে আরও পাঁচজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এনিয়ে জেলায় মোট ১০০জন করোনা আক্রান্ত হলেন। সোমবার বিকালে খুলনার পিসিআর ল্যাবের রিপোর্টের বরাত দিয়ে সাতক্ষীরার স্বাস্থ্য বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে।
নতুন করোনা আক্রান্তরা হলেন, সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল গ্রামের আমিনা খাতুন, তার স্বামী আহসান উল্লাহ ও ছেলে জিহান, এছাড়া শহরের মধ্যকাটিয়া এলাকার আরিফুর রহমান এবং সদর উপজেলার তেজনা নামের একজন।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের প্রধান ডা. মানস কুমার মণ্ডল জানান, ১৩ বছরের এক স্কুলছাত্রকে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে সোমবার দুপুরের পর মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়। আইসোলেশনে ভর্তির ২০ মিনিট পর শ্বাসকষ্টে ওই স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের করোনা বিষয়ক মুখপাত্র ডা. জয়ন্ত কুমার সরকার জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই মেডিকেলে মারা যাওয়া ওই স্কুল ছাত্রকে দাফন করা হবে। মৃত অন্য তিন জনেরই নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের বাড়ি লক ডাউন করার প্রস্তুতি চলছে। এনিয়ে সাতক্ষীরা জেলায় ২০ জন করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেলেন। এরমধ্যে আগে পাঠানো ১৪টির নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। সব কটির রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।
তিনি আরও বলেন, জেলায় নতুন করে পাঁচজনের শরীরে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০০ জনে।
করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়েছেন ৩১ জন। বাকি ৬৫ জন নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন আছেন এবং ৪ জন প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসাধীন আছেন বলে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে।
ইত্তেফাক/এমআর
