বিশ্বায়ন একদিকে যেমন অভিবাসীদের জন্য কর্মের সুযোগ করেছে অন্যদিকে তাদের জীবন এবং জীবিকাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। যে কোনো জরুরি মুহূর্তে যেমন সার্স, ইরাক-কুয়েত যুদ্ধ, আরব স্প্রিং ইত্যাদির সময়ে অভিবাসীরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। কোভিড-১৯ও এর ব্যতিক্রম নয়। এখন পর্যন্ত ১৯টি দেশে ১ হাজার ১০৬ জন বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছে।
গতকাল সোমবার রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট-রামরুর প্রকাশ করা এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আয়োজিত ভার্চুয়াল সেমিনারে গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়।
গত তিন মাসে ফিরে আসা ৫০ জন অসহায় অভিবাসীর ওপর রামরু গবেষণাটি পরিচালনা করে। গবেষণায় দেখা গেছে, তিন-চতুর্থাংশ অভিবাসীকেই রাস্তাঘাট, দোকান ইত্যাদি এলাকা থেকে পুলিশ তুলে জেলে/ডিটেনশন ক্যাম্পে প্রেরণ করেছে, এক-দশমাংশ স্ব-ইচ্ছায় ফিরে এসেছে এবং বাকিরা ছুটিতে এসেছে। সাক্ষাত্কারীদের ২৬ শতাংশের ঐ দেশে কোনো দেনা-পাওনা নেই। কিন্তু ৭৪ শতাংশেরই কিছু না কিছু পাওনা রয়ে গেছে। এই পাওনার পরিমাণ ৯ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত, যেখানে গড়ে এক এক জন ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকার মতো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এগুলো মূলত তাদের পাওনা বেতন একই সঙ্গে কিছু স্থানীয় বন্ধুদের বিপদে ধার দেওয়া, ভিসা রিনিউ করার জন্য দেওয়া টাকা।
এই গবেষণা অভিবাসীদের সুরক্ষায় ১৯৯০ কনভেনশনকে আবারও সামনে আনার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ২০১৬ মাইগ্রেন্টস ইন কান্ট্রিস অব ক্রাইসিসের সুপারিশমালাকে জরুরি সময়ে অভিবাসীদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে উত্সাহিত করে। একই সঙ্গে গ্লোবাল কমপ্যাক্টে যে ধারাগুলো অভিবাসীকে এ পরিস্থিতিতে সুরক্ষা দিতে পারে সেগুলো সম্পর্কে সবাইকে পরিচিত করতে পারে।
প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন ড. রামরুর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তাসনিম সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন রামরুর নির্বাহী পরিচালক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সি আর আবরার।
নীতিনির্ধারকের মধ্যে জুমিনারে উপস্থিত ছিলেন শিরিন আকতার এমপি, আরোমা দত্ত এমপি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আহমেদ মুনিরুস সালেহিন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজি নজরুল ইসলাম, সিভিল সমাজের পক্ষে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম এবং মাইগ্রেশন ফোরাম ইন এশিয়ার সমন্বয়কারী উইলিয়াম গয়েজ প্রমুখ।
