গতকালও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায়

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৫৩

গত ৩ দিন ধরে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়ায়। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র বুধবার সকাল ৬টায় ৪ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে। যা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এখানে ক্রমান্বয়ে তাপমাত্রা কমছে। সোমবার তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার এখানে তাপমাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক মোঃ সানিউজ্জামান জানান, গত কদিন ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায় রেকর্ড করা হচ্ছে।

হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত হওয়ায় পঞ্চগড় জেলায় প্রতি বছর সবার আগে শীত আসে। এখানে শীতের স্থায়িত্বও হয় বেশি। কোনো কোনো সময় ফাল্গুন মাস পর্যন্ত এ শীতের প্রকোপ থাকে। ঘনকুয়াশা আর মৃদু শৈত্যপ্রবাহের ফলে শরীরে শীতের কাঁপন ধরে। স্থানীয়দের আশঙ্কা এবার শীতের তীব্রতা আরও বেশি হবে। বিকাল থেকে তাপমাত্রা কমতে শুরু করে। ভোর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত তাপমাত্রা একেবারেই কমে যায়।

পঞ্চগড় জেলা পরিবেশ পরিষদের সদস্য ময়দানদীঘি কলেজের ভূগোল বিভাগের প্রভাষক শেখ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পঞ্চগড়ে ব্যাতিক্রমী আবহাওয়া বিরাজ করছে। অন্যান্য বছর এ সময় সারাদিন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে। কোনো কোনো সময় ঘন কুয়াশায় আচ্ছাদিত থাকে। কিন্তু এবার সকাল ৮টার পর সূর্য উঠছে। সূর্যের তাপও বেশ। তাই দিনের বেলা গরম অনুভূত হচ্ছে। বিকালের পর থেকে ঠান্ডা শুরু হচ্ছে। সকাল ৮টা পর্যন্ত একই রকম আবহাওয়া বিরাজ করছে।

আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার প্রতীক কুমার বণিক জানান,  গত দুদিনে সদর হাসপাতালে ২৫ শিশু ভর্তি হয়েছে।

পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ গোলাম আজম জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতার্তদের মাঝে ২২ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।