রাউজানের সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপিসহ সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন স্থানের এমপিদের ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্থানে কথিত বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে মানবিক সহায়তার কথা বলে চট্টগ্রামের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি সহ সরকারী আমলাদের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে দীর্ঘদিন প্রতারণা করে আসছিলেন একটি প্রতারক চক্র।
২২ শে জুন ( সোমবার) দুপুরে রাউজান থানা সম্মেলন কক্ষে প্রতারক চক্রদের সাথে নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাউজান থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেপায়েত উল্লাহ পিপিএম এই তথ্য দেন।
তিনি জানান, ২১ জুন রাতে উপজেলার বিনাজুরী ইউনিয়নের কাগতিয়া এলাকায় দুই যুবকের সন্দেহজনক আনাগোনা দেখে স্থানীয়রা তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তখন এক যুবক নিজেকে সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী বলে পরিচয় দেন এবং অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। এতে করে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের।
তখন স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করেন। এই সময় তাদের কাছ হতে পলিথিন মোড়ানো ২০০ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আটককৃতরা হলেন পটিয়া থানার শোভনদন্ডী ইউপির ৫ নং ওয়ার্ডের জাফর আহমেদের ছেলে মো. এহসানুল হক (২৬), চন্দনাইশ থানার কাঞ্চনপুর ইউপির ১ নং ওয়ার্ডের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে মো.নুরুল আলম প্রকাশ সুমন (৪০)।
তাদের থানায় নিয়ে এসে সাংসদের ব্যক্তিগত সহকারীর ও পূর্বের প্রাপ্ত প্রতারণার অভিযোগের সূত্র ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর প্রতারণার তথ্য।
প্রতারক এহেসানুল হক পাঁচ বছর পূর্বে পটিয়ার সাংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ শামসুল হক চৌধুরীর বাসার গৃহকর্মী হিসেবে বাজার করতো। নানান অপরাধের কারণে তাকে সেখান হতে বের করে দেওয়া হয়। এরপর হতে আশ্রয় নেন প্রতারণার কাল্পনিক দুর্ঘটনার গল্প সাজিয়ে তাৎক্ষণিক মানবিক সহযোগীর অনুরোধ করতেন এই প্রতারক। প্রতারণার মাধ্যমে আদায়কৃত অর্থ বিকাশের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হত।
বিকাশের টাকা সংগ্রহে বিপদগ্রস্ত পরিবারের কথিত অসহায় নারী সদস্য হিসাবে ব্যবহার করা হত সহযোগী প্রতারক মো. নুরুল আলম প্রকাশ সুমনের স্ত্রী তারানা নাজ শবনবকে (৩৮)। টাকা সংগ্রহের পর তারা মোবাইল বন্ধ করে দিলে ভুক্তভোগীরা বুঝতে পারতেন তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। রাউজান থানার পুলিশ আটককৃত প্রতারকদের তথ্য মতে একই রাতে ডবলমুরিং থানা পুলিশের সহযোগিতায় থানার পানওয়ালা পাড়ার তিন রাস্তার মোড় সংলগ্ন ফারুক বিল্ডিংয়ের নিচ তলা ভাড়া বাসা হতে শবনামকে আটক করা হয়। এই সময় তার কাছ হতে প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত দশ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও উদ্ধার করা হয় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত সিমকার্ড সহ তিনটি মোবাইল সেট।
পুলিশ জানায়, আটককৃত প্রতারক এহসানুল হকের বিরুদ্ধে সিএমপি কোতয়ালী, পাঁচলাইশ থানা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা, এসএমপি কোতয়ালী মডেল থানা, মীরসরাই ও পটিয়া থানায় প্রতারণা, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে রাউজান থানায় ২০১৮ সনের ২৩/২৪(২)/৩৫ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/এসআই
