চট্টগ্রামে গার্মেন্টস খোলা রেখে এলাকা লকডাউন

আপডেট : ২৩ জুন ২০২০, ০২:০৮

চট্টগ্রামে কয়েকটি এলাকাকে রেডজোন ঘোষণা ও একটি এলাকাকে লকডাউন করা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। কিছুদিন আগে নগরীর ১০টি ওয়ার্ডকে রেডজোন ঘোষণা করে শুধুমাত্র উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডকে লকডাউন করা হয়। পরবর্তীতে আবার ঐ ১০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৯টিকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র উত্তর কাট্টলীকে রেডজোন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে লকডাউন বহাল রাখা হয়েছে। আবার সেখানেও রয়েছে বিভ্রান্তি। পুরো উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ড লকডাউন করার কথা বলা হলেও সাগরিকা এলাকায় চারটি পোশাক কারখানা খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের কারণে লকডাউন অর্থহীন হয়ে পড়েছে বলে এলাকাবাসী মনে করেন। লকডাউন এলাকায় সরকার ছুটি ঘোষণা করলেও অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই নিয়ম মানছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেকে জানিয়েছেন, তাদের অফিস থেকে নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তাদের চাকরিচ্যুত করা হতে পারে বা বেতন কাটা হতে পারে বলে অফিস থেকে সতর্ক করা হচ্ছে। এ কারণে অনেকেই চাকরি বাঁচানোর জন্য লকডাউন এলাকায় নিজের বাসাবাড়ি ছেড়ে অন্য এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। লকডাউন এলাকাতেই যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না থাকে তাহলে অন্যান্য এলাকায় করোনা সংক্রমণ আরো ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

এদিকে করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে তেমন একটা আগ্রহ নেই। দোকানপাট, কাঁচাবাজার, ব্যাংক, গার্মেন্টস কারখানাসহ অধিকাংশ কলকারখানা খোলা রয়েছে। তবে কোথাও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বালাই নেই। অন্যান্য সময়ের মতো এখনো গণপরিবহনগুলোতে রয়েছে যাত্রীদের গাদাগাদি ভীড়। যাত্রীদের অনেকের মুখে নেই মাস্ক। আবার মাস্ক থাকলেও তা ঠিকমত পরেন না অনেকে। রিকশা ও অটোরিকশাচালকরা মাস্কবিহীন অবস্থায় যাত্রী পরিবহন করেন যা খুবই বিপজ্জনক। চলন্ত অবস্থায় চালকের থুথু-কাশি গিয়ে পড়ে যাত্রীর গায়ে।

কাঁচাবাজারের পরিবেশও খুবই অস্বাস্থ্যকর। নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে মাছ, তরকারি বিক্রি হচ্ছে। বাজারের দোকানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দূরের কথা, দোকানদারের মুখে মাস্ক থাকে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করলেও বাজারের পরিবেশের ন্যূনতম উন্নতি হয়নি। দোকানপাট বিকাল ৪টার মধ্যে বন্ধ করার কথা থাকলেও পাড়া মহল্লার দোকানপাট সন্ধ্যার পরেও খোলা থাকে। এসব দোকানের সামনে জমজমাট আড্ডা গভীর রাত পর্যন্ত চলে। পুলিশের টহল গাড়ি দিনে দুয়েকবার বড়ো রাস্তায় টহল দিলেও পাড়া মহল্লায় প্রবেশ করে না।

চট্টগ্রামে ইতিমধ্যেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয় হাজারের কাছাকাছি বলে জানা গেছে। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বী গতকাল ইত্তেফাককে জানান, ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট তিন জন মারা গেছে। এই নিয়ে চট্টগ্রামে মারা গেছে ১৪৪ জন। এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ১৯২ জনসহ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৬ হাজার ৪৮৩ জন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৪০ শতাংশ সুস্থ হয়েছেন বলে জানান তিনি। মানুষ যদি ঘরে না থাকে তাহলে দেশের বৃহত্তম শহর চট্টগ্রামে আক্রান্তের সংখ্যা আরো দ্রুতগতিতে বাড়বে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, মানুষ নিজে থেকে যদি সচেতন না হয় তাহলে সরকারের একার পক্ষে কোনোমতেই এই মহামারি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছিরউদ্দিন করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকানোর ক্ষেত্রে নিয়ম মানার বিষয়ে মানুষের উদাসীনতাকে একটি বড়ো বাধা বলে মনে করেন। তিনি বলেন, এই বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলেও অনেকেই আমলে আনছেন না। এই উদাসীনতাও একটি মারাত্মক ব্যাধি। যারা জেগে ঘুমায়, তাদের জাগানো যায় না।

ইত্তেফাক/এসআই