মাদকব্যবসায়ীর ছুরিকাঘাতে মাদক নির্মূল কমিটির আহ্বায়ক নিহত

আপডেট : ২৩ জুন ২০২০, ১৪:২০

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ইয়াবা ব্যবসার প্রতিবাদ করার জের ধরে এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর ছুরিকাঘাতে মাদক নির্মূল কমিটির আহ্বায়ক নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন অপর ছোট ভাই। নিহত যুবকের নাম মোসাদ্দেকুর রহমান (৩৬)। আহতর নাম মোহাম্মদ ফয়সাল (৩২)। তারা ওই এলাকার মাহবুবুর রহমানের ছেলে। ঘটনাটি ঘটে সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টার সময় উপজেলার সদর ইউনিয়নের আদর্শ পাড়া এলাকায়। ছুরিকাঘাতকারী মাদক বেপারীর নাম মোহাম্মদ সোহেল। সে একই এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসা ও সেবন মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়ে গেলে মোসাদ্দেকসহ এলাকার গণ্যমান্যরা এ সমাজ বিধ্বংসী অপতৎপরতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। গত ৬ মাস আগে সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নে এলাকায় গণ্যমান্যদের নিয়ে মাদক নির্মূল কমিটি নামে একটি কমিটি গঠিত হয়। ওই কমিটির প্রধান উপদেষ্টা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেন মোসাদ্দেকুর রহমান। কমিটি গঠনের পর এলাকায় মাদক বিরোধী তৎপরতা শুরু হলে এলাকার চিহ্নিত মাদক বেপারী সোহেলসহ সকলেই মোসাদ্দেকের উপর ক্ষিপ্ত হয়। গত কয়েক দিন ধরে মাদক নির্মূল কমিটির লোকজনকে চিহ্নিত ইয়াবা কারবারী সোহেল বিভিন্ন হাকাবকা, গালিগালাজ ও হুমকি ধমকি দিতে থাকে। সোমবার বিকালে বিষয়টি কমিটির লোকজনের কানে আসলে মোসাদ্দেকসহ আরো ৮/১০ প্রতিবাদ করতে সোহেলের কাছে যান। ইউনিয়নের আদর্শ পাড়া মোবারকের বাড়ির পশ্চিম পাশে ইয়াবা ব্যবসায়ী সোহেলকে পেয়ে গালি দেয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকটি ও ধাক্কা-ধাক্কি হয়। এক পর্যায়ে সোহেলের কোমরে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে মোসাদ্দেকের পেটে আঘাত করে। সাথে সাথে মোসাদ্দেকের নাড়িভূড়ি বের হয়ে যায়। এ সময় মোসাদ্দেকের ছোট ভাই ফয়সাল সোহলেকে ধরতে গেলে তাকেও পেটে ছুরিকাঘাত করে সোহেল পালিয়ে যায়। ছুরিকাঘাতে ফয়সালও গুরুতর আহত হন।

অন্যরা তাদের দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে লোহাগাড়া একটি বেসরকারী হাসপাতালে নিয়ে যান পরে অবস্থার অবনতি হলে রাতে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরদিকে গুরুতর আহত নিহতের আপন ছোট ভাই মোহাম্মদ ফয়সালকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত ফয়সাল বর্তমানে চমেক হাসপাতালে ২৭নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন। নিহত মোসাদ্দেকুর রহমান চট্টগ্রাম নগরীর রিয়াজ উদিদ বাজারে আল মদিনা নামে একটি হোটেল ব্যবসা পরিচালনা করতেন। অপরদিকে তারই সহোদর গুরুতর আহত মোহাম্মদ ফয়সাল উপজেলা কেরানীহাট এলাকায় পুষ্টি কোম্পানীর  ভোজ্য তেলের সোল এজেন্ট হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করতেন।

সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নেজাম উদ্দিন বলেন, আমার ইউনিয়নের বিগত কয়েক মাস আগে মাদক নির্মূল কমিটি নামে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির তৎপরতা শুরু করলে মাদক ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময় তাদের গালিগালাজ ও মারার হুমকি দিতে থাকে। গত সোমবার আছরের নামাজের পর আদর্শ পাড়া এলাকার মাদক ব্যবসায়ী সোহেলের কাছে মোসাদ্দেক ও তার ভাই ফয়সালসহ কমিটির আরো ৮/১০ জন প্রতিবাদ করতে গেলে সোহেল তাকে ছুরিকাঘাত করে। মোসাদ্দেক আসলে খুবই ভদ্র। তার প্রতিবাদের ভাষাও ছিল শান্ত। অপরদিকে মাদক ব্যবসায়ী সোহেল গত ২ মাস আগে জেল থেকে বের হয়। সে একজন এলাকার দাগী আসামি।

সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সফিউল কবীর বলেন, ছুরিকাঘাতকারী সোহেলের বিরুদ্ধে থানায় আপতত ১টি মাদক মামলার নথি খুঁজে পেয়েছি। সে এলাকার খুচরা মাদকের ব্যবসা করত। গত সোমবারের ঘটনার সময় সদর ইউনিয়নের আদর্শ পাড়া এলাকায় সোহেলকে পেয়ে মোসাদ্দেক ও তার ভাই ফয়সালসহ আরো কয়েকজন কেন মাদক ব্যবসা কর- এ কথা বলার পর তাদের মধ্যে তর্ক হয়। এ সময় সোহেলের কাছে থাকা ছুরি দিয়ে মোসাদ্দেকের পেটে মারলে তার নাড়িভূড়ি বের হয়ে যায়। পরে ভাই ফয়সাল এগিয়ে গেলে তাকেও পেটে ছুরিকাঘাত করে সোহেল। খুনি সোহেলেকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

ইত্তেফাক/আরকেজি