তারুণবান্ধব বাজেট আলোচনা

আপডেট : ২৩ জুন ২০২০, ২১:১১

২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে ইত্তেফাক ও ইউনিস্যাবের যৌথ উদ্যোগে গত ১৯ ও ২০ জুন ২০২০ (শুক্রবার ও শনিবার), রাত ৮টায় ‘তরুণবান্ধব বাজেট’ শীর্ষক ফেসবুক লাইভ আলোচনার আয়োজন করা হয়। ইউনিস্যাব ট্রাস্ট্রিবোর্ডের কো-চেয়ারম্যান ও ইয়াং বাংলার আহ্বায়ক নাহিম রাজ্জাক এমপির সঞ্চালনায় ইত্তেফাক ফেসবুক পেজের এই লাইভে অংশগ্রহণ করেন নীতি নির্ধারক, বিশেষজ্ঞ, উদ্যোক্তা, উন্নয়ন সংগঠন প্রতিনিধি সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানে আলোচকদের বক্তব্যে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন। 

‘টেকসই উন্নয়নের জন্য দক্ষ

মানবশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে’

নাহিম রাজ্জাক এমপি

কো-চেয়ারম্যান, ইউনিস্যাব ট্রাস্টি বোর্ড ও

আহ্বায়ক, ইয়াং বাংলা

স ঞ্চা ল না য়

বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে সবকিছুই আমাদের ভিন্ন ভাবে ভাবতে হচ্ছে। তাই জাতীয় বাজেট ২০২০-২১ বিভিন্ন কারণেই গুরুত্বপূর্ণ। এবার ৫,৬৮,০০০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। আমাদের ভবিষ্যত্ উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি দেশের প্রায় ৫ কোটি ৩০ লাখ তরুণ। এই তরুণসমাজকে সামনে রেখেই ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, ২০৩৩ সালের মধ্যে বিশ্বের ২৪তম বৃহত্ অর্থনৈতিক শক্তির দেশ হিসেবে উন্নীতকরণ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু কোভিড-১৯ এর কারণে বর্তমানে দেশের তরুণরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। তাই তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় আনতে হবে আমূল পরিবর্তন। সংস্কার আনতে হবে শিক্ষাব্যবস্থায় এবং প্রয়োজন তথ্যপ্রযুক্তিতে আরো নির্ভরশীলতা। সেইসঙ্গে টেকসই উন্নয়নের জন্য চাই দক্ষ মানবশক্তি এবং কৃষিভিত্তিক যুব উদ্যোক্তা তৈরি করাও জরুরি।  

প্র ব ন্ধ  উ প স্থা প না য়

প্রথম পর্ব

‘যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে জাতীয় বাজেটের পরিমাণ খুবই নগণ্য’

ড. সৈয়দ শাইখ ইমতিয়াজ, চেয়ারম্যান, ইউনিস্যাব ট্রাস্টি বোর্ড

 

বাজেটের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে ইউনিস্যাব ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ শাইখ ইমতিয়াজ বলেন, ‘বর্তমানে আমরা অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখোমুখি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এমন কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি আর হয়নি বাংলাদেশ। এখন প্রয়োজন দূরদর্শিতা ও সাহসী পদক্ষেপ। এবারের বাজেট অন্যান্য বছরের তুলনায় তিনটি বিশেষ কারণে গুরুত্বপূর্ণ; সেগুলো হলো—কোভিড-১৯ পরিস্থিতি, সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা শেষ হচ্ছে ও অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা শুরু হতে যাচ্ছে এবং ২০০৮ সালে ঘোষিত ভিশন-২০২১ এর মূল লক্ষ্য পূরণের শেষ বছর।’ তরুণবান্ধব বাজেট আলোচনায় বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত বাজেট নিয়ে তিনি বলেন, ‘যুব বাজেট হলো যুবদের স্বাস্থ্যসম্মত দীর্ঘমেয়াদি টেকসই অগ্রগামীতার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি বরাদ্দ নিশ্চিত করা। জাতীয় বাজেটের বিভিন্ন খাতের বরাদ্দ গবেষণা করলে বাজেট কতটা যুবকেন্দ্রিক সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। কমপক্ষে ২২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে যুববিষয়ক ও যুবসংক্রান্ত বিষয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হিসাবে চিহ্নিত করা যেতে পারে।’ অবশেষে বলা যেতে পারে যুববিষয়ক মন্ত্রণালয়ে জাতীয় বাজেটের পরিমাণ খুবই নগণ্য।

শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও পরিবর্তন

প র্যা লো চ না

‘সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে শিক্ষা খাত’

মহিবুল হাসান চৌধুরী

উপমন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়

 

শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে আমরা ১৫% বরাদ্দ পেয়েছি। সেখানে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক শিক্ষা ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ আছে। সেখানে পাশাপাশি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়েরও বরাদ্দ আছে। সব মিলিয়ে শিক্ষার যে সার্বিক ইকোসিস্টেম আছে সেখানে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর বাইরেও কিন্তু শিক্ষা কার্যক্রম আছে যেমন— প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে টেকনিক্যাল এডুকেশন বোর্ডের প্রশিক্ষণগুলোই দেওয়া হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রতিটি বাজেটে শিক্ষায় সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়। ২০০১ সালে আমাদের যে স্বাক্ষরতার হার ছিল, সেটি ২০০৬ সালে প্রায় ১০% কমে যায়। এজন্যই প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে নিজেই সবসময় সতর্ক থাকেন এবং শিক্ষার জন্য বেশি বরাদ্দ দিয়ে থাকেন। টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল এডুকেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ২০০৯ সালে যখন দায়িত্ব নেয়, তখন এনরোলমেন্টের হার হাস্যকর একটা পরিস্থিতিতে ছিল। সেটা ০ (শূন্য) পার্সেন্ট সামথিং ছিল। পৃথিবীর কোনো উন্নয়নশীল দেশে টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল এডুকেশনে জিরো পার্সেন্ট নেই। 

‘শিক্ষা ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ অনেক’

অধ্যাপক শিবলী রুবায়েতুল ইসলাম

ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগ, সিন্ডিকেট সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং চেয়ারম্যান, বিএসইসি

 

বাংলাদেশের অর্থনীতি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেভাবে আমরা উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। শিক্ষাব্যবস্থায় আমাদের দক্ষ শিক্ষকের সত্যিই অভাব। এখানে আরেকটি জিনিসের খুবই অভাব-সেটি হলো ইন্টারন্যাশনাল গ্রুমিং। এছাড়াও আমরা যে চ্যালেঞ্জটা দেখতে পাচ্ছি—সেটি হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বুয়েট বা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীরই ফাইনান্সিয়াল সমস্যা থাকে। যখন আমরা রেগুলার অনলাইন ক্লাস শুরু করতে গেলে, রিমোট এরিয়াতে থাকে তাদের পক্ষে এত হাই ব্যান্ডউইথ রেগুলার কিনে ক্লাস করাটা সম্ভব হচ্ছে না।

‘পলিসি রিওরিন্টেশনের মধ্যে যেতে হবে’

সাব্বির বিন সামস্, নির্বাহী পরিচালক, সিআরআই

নতুন একটা শিক্ষানীতি ফরমুলেশনের সঙ্গে প্লান অব অ্যাকশন এবং একটা মিডটার্ম বাজেটেরই ফ্রেমওয়ার্ক এডুকেশন সেক্টরের জন্য করা গেলে ইন্টারনাল ইফিসিয়েন্সিগুলোকে অ্যাড্রেস করা সম্ভব হবে। কোভিড আসলে একটা সুযোগ সৃষ্টি করেছে। রিসেন্ট্রালাইজেশান সবচেয়ে বড় উদ্যোগ হতে পারে। এছাড়া ডিসিশান মেকিং, লোকাল বাজেট প্রসেস, লোকাল এডুকেশন ম্যানেজার, এডুকেশন স্টেকহোল্ডার স্থানীয়দের হাতে দিতে পারি। এটি হলে কোভিড পরবর্তী সময়ে এডুকেশন সেক্টর স্থানীয় অর্থনীতিকে সাহায্য করবে। এক্সটেনসিভ টিচিং লার্নিং প্রসেস, যেটা আট ঘণ্টা করে ক্লাসের মধ্যে বসিয়ে রাখে সেই জায়গায় একটি ইনটেনসিভ টিচিং লার্নিং প্রসেস যদি করা যায়, তাহলে অনেক বাজেট কাট হতে পারে।

আইসিটির একীভূতকরণ ও গুরুত্ব

প র্যা লো চ না

‘বাজেটে বরাদ্দ কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং কিভাবে তা ব্যবহার করছি তা গুরুত্বপূর্ণ’

জুনাইদ আহমেদ পলক, প্রতিমন্ত্রী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ

 

বাজেটে কতটুকু বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সেটি বড় কথা নয়। বরাদ্দের ব্যবস্থাপনাই বড় বিষয়। পরিমাণের থেকে পরিকল্পনাটা বেশি দরকার। আইসিটি খাতে এক হাজার আটচল্লিশ কোটি টাকা উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের ৬৪টি জেলায় শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেশন সেন্টার, ৫ হাজার শেখ রাসেল ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব, ৪০ হাজার আইটি ফ্রিল্যান্সার তৈরি করার জন্য ২০০ ঘণ্টার ট্রেনিং, আইবিএ’র সাথে ল্যাবরেটরি আইসিটি প্রজেক্ট, চুয়েটে শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেশন ট্রেনিং সেন্টার ও কুয়েটে বিজনেস ইনকিউবেশন সেন্টার করা হবে। এছাড়াও চট্টগ্রামে ও সিলেটে হাইটেক পার্কের কাজ চলছে। বাংলাদেশে গত দশ বছরে অন্তত ১০টি স্টার্টআপ তৈরি হয়েছে। একশ থেকে এক হাজার ডলার দিয়ে শুরু করা সেই কোম্পানিগুলো আজ একশ কোটি থেকে এক হাজার কোটি টাকার কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে।

‘স্টার্টআপের জন্য বরাদ্দ আরো বাড়ানো উচিত

জারা মাহবুব, কান্ট্রি ডিরেক্টর, কাজী আইটি সেন্টার লি.

 

বর্তমান বাজেটে কিছু খুবই ভালো বিষয় রয়েছে। তার মধ্যে দেশে তৈরি লোডেড প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড, আনলোডেড পিসিবি ও রাউটারের ওপর ভ্যাট কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মোবাইল ফোনের কলের ওপর চার্জ ১০-১৫% বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি সার্বিকভাবে তথ্য প্রযুক্তিকে বাধাগ্রস্ত করবে। স্টার্টআপ কোম্পানির জন্য একশ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এটি একটু বাড়াতে পারলে ভালো হতো। যত স্টার্টআপ আসবে তত আইসিটি সেক্টর জেনারেট হবে। সত্যিকারভাবে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে চাইলে সারাদেশে নিরবিচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুত্ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশে যে কাজগুলো করা হচ্ছে, আন্তর্জাতিকভাবে সেগুলোর প্রচুর মার্কেটিং করতে হবে। যারা আউটস্ট্যান্ডিং কাজ করে তাদের বিশেষ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। বিভিন্ন হাইটেক পার্কগুলোকে ফোকাস করে প্রাইভেট সেক্টরে অন্তর্ভুক্তি এবং বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে আরো ইনোভেশন নিয়ে আসা যাবে।

শিল্পোদ্যোগ, কর্মসংস্থান ও বৈচিত্র্যকরণ

প র্যা লো চ না

‘বাজেট বরাদ্দ দিয়ে কী করা হবে তা নির্দিষ্ট

করা দরকার’

নিহাদ কবির

 

সভাপতি, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ঢাকা (এমসিসিআই)

 

বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত হতে হবে। তরুণরা শিক্ষা জীবন শেষ করার পর তাদের জন্য বেসরকারি খাত বেশিরভাগ কর্মসংস্থান তৈরি করে। দেশে প্রতিবছর ২০-৩০ লাখ তরুণ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করে, তাদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। ফরমাল শিল্পখাতে সবার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা একেবারেই অসম্ভব, আবার বাংলাদেশের ৮০% অর্থনীতি ইনফরমাল সেক্টরেই চলে। এই বিষয়টি আমরা পরিকল্পনা করার সময় মাথায় রাখি না। বাজেটের বরাদ্দ নিয়ে প্রথমে পরিকল্পনা তারপর বাস্তবায়ন করা দরকার। আমরা স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেখেছি কিন্তু সেখানে ব্যবস্থাপনার অভাব। অপব্যয়-অপচয় না করে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করা উচিত। কর্মসংস্থান ও শিক্ষার জন্য যে প্রকল্প নিব, সেটির বাস্তবায়ন শেষে আমরা কী চাই? বেসরকারি ও শিক্ষাখাতে সবসময় মতবিনিময়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

‘সামনে কি আছে সেটাও আমরা জানি না’

ফাহমিদা খাতুন, নির্বাহী পরিচালক, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)

 

কোভিড মোকাবিলা করার জন্য সরকার থেকে যে প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়া হয়েছে, সেটি জিডিপির ৪ শতাংশ। বর্তমান অর্থনীতির জন্য যা নেহাত কম নয়। কোভিডের কারণে যে আনপ্রিসিডেন্ট ইফেক্ট পড়েছে সেটি থেকে বের হয়ে আসতে যে প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়া হয়েছে সেটি যেন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে যথোপযুক্ত ব্যক্তিদের কাছে যায় সেটি দেখতে হবে। বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্বে জিডিপির অনুপাত ১১.৪ শতাংশ মাত্র। তাই এটির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। প্রণোদনা প্যাকেজটি দেওয়ার ব্যাপারে ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে ব্যাংক-ক্লায়েন্টের সম্পর্কের ভিত্তিতে ঋণ দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে কেবল ব্যাংকই জানে তাদের কোনো ক্লায়েন্টগুলো কেমন। আবার ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে, যেখানে ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপির সংখ্যাই বেশি। এই বিষয়টির দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

 

‘স্টার্টআপগুলোর জন্য বাজেটে কোনো নির্দেশনা নেই’

এ আর আমান, উন্নয়ন অর্থায়ন ও বাজেট বিশ্লেষক এবং সহ-সভাপতি, গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন

 

চলমান কোভিড-এর কারণে প্রচুর স্টার্টআপ ও তরুণদের অনেক উদ্যোগ এই মুহূর্তে ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছে। তাদের পরিত্রাণের জন্য আমাদের ব্যাংকব্যবস্থা— সেখানে তারা কিভাবে ইনসেন্টিভ, রিবেট নিতে পারে সেই বিষয়ে দিক-নির্দেশনা আমাদের দরকার। হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর, কর্পোরেট ট্যাক্স ইত্যাদির ব্যাপারে তারা কী ধরনের রিবেট ও ইনসেন্টিভ আগামী এক-দুই বছর পেতে পারেন, সেই রকম কোনো নির্দেশনা অর্থমন্ত্রীর বাজেট থেকে পাওয়া যায়নি। কৃষিতে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। তরুণরাও কৃষি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। কৃষিতে কী করে তরুণদের ফিরিয়ে আনা যায় সেটা ভাবতে হবে। গ্রামীণ ও নগর তরুণদের ফিরিয়ে আনতে সরকার ঘোষিত প্রণোদনা তারা সরাসরি কিভাবে পেতে পারে সেটা ঠিক করতে হবে। 

 

‘তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য কতটা সুযোগ আছে?’

ফারজিন ফেরদৌস আলম, সামাজিক উদ্যোক্তা, অগ্রভেনচার

 

বর্তমানে আমার দুটো এগ্রিকালচার কোম্পানির ক্যাশ ফ্লো নেগেটিভে চলে গেছে। এগ্রিকালচারের জন্য যে এসএমই আছে সেখানে এসএমই’র জন্য গ্র্যান্ড ফ্যাসিলিটিজ আছে কি-না দেখতে হবে। কোভিড পরিস্থিতিতে যদি সরকার থেকে এই ধরনের সহযোগিতা করে তাহলে টিকে থাকা সহজ হবে। অনেক তরুণই কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চায়। তবে এটি একটি সোশ্যাল ট্যাবুর মধ্যে চলে এসেছে। তরুণদের কৃষিতে আনতে হলে এসএমই লোন, ট্রেনিং, প্রযুক্তিগত অ্যাডভান্সমেন্ট প্রয়োজন।

 

দ্বিতীয় পর্ব

‘এটা তরুণদের বাজেট’

এম এ মান্নান, মন্ত্রী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম থেকে বলে আসছেন এবারের বাজেটটা হবে রিকোভারির বাজেট, পুনর্বাসনের বাজেট, উত্তরণের বাজেট। এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য প্রাধান্য পেয়েছে, কারণ এখানে অনেক ঘাটতি রয়েছে। এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য ও কৃষিক্ষেত্রে আগের বছরের তুলনায় বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে বাড়তি বরাদ্দ এসেছে। এটি তরুণবান্ধব অর্থাত্ তরুণদের বাজেট। আইসিটি ও ডিজিটাল—এখানে অনেক বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাজেটে বরাদ্দ না, আসল বিষয়টি হলো বরাদ্দের ব্যবহার। বর্তমানে তরুণরা সবকিছুতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। কর্মী, ব্যবস্থাপক, উদ্যোক্তা ও নানা ধরনের আইডিয়া নিয়ে ইকোনমির নানা ক্ষেত্রে তাদের সরব উপস্থিতি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের নজরকাড়া সাফল্য রয়েছে। সবাই মিলে যদি আমরা কাজ করি তাহলে বাজেটের যে রূপরেখা আছে সেটি আমরা বাস্তবায়ন করতে পারব।

যুব উন্নয়ন

প র্যা লো চ না

‘গ্রামে যাওয়া মানুষের জন্য

সেখানে আত্মকর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে’

মো. জাহিদ আহসান রাসেল

প্রতিমন্ত্রী, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়

 

এই বাজেটে যুব ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কোভিড-১৯ এর কারণে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং গ্রামে চলে যাচ্ছেন, তাদের জন্য সেখানে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি, দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে বেশকিছু উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে; তার মধ্যে সমন্বিত যুব উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে ‘করোনা উত্তর পরিস্থিতিতে যুবদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ’ নামক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে’ যার মাধ্যমে ১২ লাখ পাঁচ হাজার যুবককে বিভিন্ন বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও ঋণ প্রদানের মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। তাছাড়া কর্মসংস্থান ব্যাংকের সহযোগিতায় মুজিব বর্ষ উপলক্ষে দুই লাখ যুবকের মাঝে ‘বঙ্গবন্ধু যুবঋণ’ প্রদান প্রকল্প চালু করা হয়েছে। ভার্চুয়াল স্কিল ডেভলপমেন্ট একাডেমির মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। সামগ্রিকভাবে প্রতিটা মন্ত্রণালয়কে যদি ধরি, সেক্ষেত্রে একটি বৃহত্ পরিমাণ বাজেট যুবকদের জন্য বর্তমান সরকার দিয়েছে।

‘সবচেয়ে বড় দুর্বলতা প্রকল্প ডিজাইনে’

আসিফ সালেহ, নির্বাহী পরিচালক, ব্র্যাক বাংলাদেশ

 

আমরা বাজেটে বরাদ্দ নিয়ে অনেক সময় ব্যয় করি। বরাদ্দ যা হয় তার সঠিক ব্যবহার হলে অনেক বেশি ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো প্রকল্প ডিজাইনের সময়। প্রকল্প গৃহীত হয়ে গেলে ওই প্রকল্পের ডিজাইন পরিবর্তনের সুযোগ থাকে না। তখন প্রকল্পও তেমন কার্যকর হয় না— এনজিও, সামাজিক সংগঠনগুলোকেও জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। সরকারি প্রকল্পগুলোতে মানুষকে সম্পৃক্ত করার কাজে এনজিওদের সাথে সম্পৃক্ততা বাড়ালে প্রকল্পের কার্যকারীতা বাড়বে। কোভিড-১৯ প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতার ব্যাপারটিকে ত্বরান্বিত করেছে। মানুষকে বাধ্য হয়ে প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তাই আইটি সেক্টরে দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়ে অনেক বেশি জোর দিতে হবে।

‘ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ’

নাবিরা রহমান, গিয়ার লিড, আইএফসি

 

আমাদের অনেকগুলো এজেন্ডার ভেতর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো—বৈচিত্র্যতা আনা, তা শুধু জাতীয় ক্ষেত্রে নয়। আমাদের এগিয়ে যেতে এবং সব ধরনের সম্ভাবনা অর্জন করতে তরুণদের ওপর বিনিয়োগ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের আইএফসি ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম আছে যেটি গত দুই ২-৩ বছর ধরে হয়ে আসছে। আমাদের ইইউডব্লিও’র সাথে পার্টনারশিপ রয়েছে। আমরা যাতে ডাইভার্স পুল অব ক্যান্ডিডেট থেকে ইন্টার্নশিপ সুযোগ তৈরি করতে পারি। গত ২-৩ বছরে ডাইভার্স ব্যাকগ্রাউন্ট থেকে আসা বেশকিছু মেয়ে সফলভাবে আমাদের এখানে ইন্টার্ন করেছে। তাদের কয়েকজন দীর্ঘমেয়াদে আইএফসি’র সঙ্গে কাজ করছে। এডুকেশন মানে শুধু ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হওয়া নয়, ভোকেশনালের মতো অন্য সেক্টরগুলো কিভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়—সেটিও লক্ষ্য রাখতে হবে।

নারীর ক্ষমতায়ন

প র্যা লো চ না

‘আমাদের জীবন

বাঁচানোর বাজেট’

মেহের আফরোজ চুমকি এমপি

সভাপতি, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি

 

প্রায় প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়ে লিঙ্গভেদে বাজেট তৈরি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দকৃত বাজেট বাধ্যতামূলকভাবে নারীদের উন্নয়নে ব্যয় করতে হবে। গার্মেন্টস সেক্টরে বিশালসংখ্যক নারী কাজ করে। গার্মেন্টস সেক্টরে কোনো সমস্যা হলে এই নারীদের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। সেই বিবেচনায় বাজেটে পোশাক খাতকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য ছোট ছোট গার্মেন্টস শিল্পগুলোর জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বড় বড় যে গার্মেন্টসগুলো আছে বা ফ্যাক্টরি আছে সেখানে ৩০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এখনই দ্রুততার সঙ্গে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি মূল্যায়ন করে গার্মেন্টসগুলোকে এই বরাদ্দের বড় অংশগ্রহণ করতে হবে। কিশোর-কিশোরী ক্লাব আছে, এগুলো আরো উন্নত করে আগামী প্রজন্মকে তৈরি করার কার্যক্রম চালাতে হবে।

‘মানুষের অনিশ্চিত এক অর্থনীতি, নারী নির্যাতন বাড়ছে’

ফারাহ কবীর, কান্ট্রি ডিরেক্টর, এ্যাকশন এইড বাংলাদেশ

কোভিডের কারণে বর্তমানে শহরে হোক বা গ্রামে, সবখানে নারী নির্যাতন বেড়েছে। দরিদ্রতা বেড়ে যাচ্ছে। সামনে একটা অনিশ্চিত অর্থনীতি আসছে। আমরা যখন যুব বলে আলোচনা করি তখন যে চিত্রটা আসে সেটি মূলত পুরুষদেরকে কথা চিন্তা করে আসে। আমরা আরএমজি সেক্টরের কথা বলছি, প্রবাসী ফেরতদের কথা বলছি, তাদের জন্য আমরা কী ট্রেনিং দিব? কী সার্ভিস দিব? সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অনলাইনে ব্যবসা করা দেশের অনেক নারী বর্তমানে বসে আছেন। নিম্ন-মধ্যবিত্ত বা মধ্যবিত্ত পরিবারের যারা ছিল তারা বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তারা ঘরোয়া সহিংসতার কারণে মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাদের অর্থনীতি বাঁচিয়ে রাখার অবস্থা নেই। ডিভোর্সী নারী, তৃতীয় লিঙ্গ ও সেক্স ওয়ার্কার যারা, তারা কোনো কাজ পাচ্ছে না। ঢাকা শহরে যারা সুইপার, তারাও কিন্তু অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

‘নারীর স্টার্টআপগুলোকে সহায়তায় গুরুত্ব দেওয়া উচিত’

মিয়া সেপ্পো, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক

এই মহামারীর ‘নিউ নরমাল’ অবস্থায় কী হতে যাচ্ছে তা আমরা জানি না। গৃহ নির্যাতন বর্তমানে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও বাড়ছে; যে কারণে কর্মক্ষেত্রগুলো যেন বন্ধ না হয়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কেননা, তারা যত বেশি পরনির্ভরশীল থাকবে তত বেশি নির্যাতনের শিকার হবে। শ্রমিকদের দেশের বাইরে পাঠানোর ক্ষেত্রে, আরএমজি সেক্টরে নতুন যে অর্থনৈতিক চাহিদা তৈরি হবে শ্রমিকদেরকে তার ওপর ভিত্তি করে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। দক্ষভাবে তৈরি করতে না পারলে তরুণ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগানো সম্ভব নয়। বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে খরচ হচ্ছে কি-না সেটির প্রাইভেট মনিটরিং, সিভিল সোসাইটির মনিটরিং থাকা জরুরি। নারীরা যেন প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুযোগের অভাবে পিছিয়ে না পড়ে সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। সেই সঙ্গে নারীর স্টার্টআপগুলোকে সহায়তা এবং অর্থ আয়ের সুযোগ তৈরি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য অগ্রাধিকার

প র্যা লো চ না

‘স্বাস্থ্য খাতের গবেষণায় বরাদ্দ বাড়াতে হবে’

অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত এমপি

সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি

 

স্বাস্থ্য খাতে গবেষণার জন্য বাজেটে বরাদ্দ খুবই কম এই ক্ষেত্রে বরাদ্দ বাড়ানো উচিত। যদি গত বছরের স্বাস্থ্য বাজেট দেখেন স্বাস্থসেবার ৬৭ শতাংশই বেসরকারি, বাকি ৩৩ শতাংশ হয় সরকারি ব্যবস্থাপনায়। কিন্তু কোভিডের সময়ে এসে দেখলাম যারা দেশের ৬৭ ভাগ স্বাস্থ্যসেবা দিতেন, তারা যেন হঠাত্ করে পিছিয়ে গেলেন। সরকারি ব্যবস্থাপনাকে এগিয়ে এসে ৯৫ ভাগ স্বাস্থ্যসেবা দিতে হচ্ছে। গত বছর যে বাজেট দেওয়া হয়েছিল, তার থেকে এবারের বাজেট সব অংকেই বেশি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটা বড় দুর্বলতা হলো টাকা ছাড়করণ। বাংলাদেশে মেডিক্যাল কাউন্সিলে যারা গবেষণা করেন তাদেরকে গত কয়েক বছর ধরে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ৪-৫ কোটি টাকা। এই টাকা দিয়ে তাদের বেতন-ভাতা দেওয়ার পর গবেষণার সুযোগ থাকে না। আর যদি প্রাথমিক লেভেলে গবেষণা করতে চাই তাহলে এটি কোনো বরাদ্দই না।

‘এফিসিয়েন্সি না বাড়িয়ে শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না’

ড. তৌফিক জোয়ার্দার, নির্বাহী পরিচালক, পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ

 

আমাদের স্বাস্থ্য খাতে এই বছরও বরাদ্দ অপ্রতুল। কার্যকারিতা না বাড়িয়ে শুধুমাত্র বরাদ্দ বাড়িয়ে স্বাস্থ্য খাতের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। আমাদের একটি সমস্যা হলো আমরা বায়োমেডিক্যাল রিডাকশান অ্যান্ড প্যারাডিমিক্যাল দিক থেকে দেখার চেষ্টা করি। আরেকটি বড় সমস্যা হলো—তরুণীদের আঠারো বছরের নীচে বিয়ে হয়ে যায়; যা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় সোশ্যাল ডিটারমিনেশান হেলথ কেয়ার অ্যাড্রেস করতে হবে। দেশে অপর্যাপ্ত শারীরিক কর্মকান্ডের হার নারীদের মধ্যে ৬৯% এবং পুরুষদের মধ্যে ৬৩%। প্রোপার আরবান প্লানিং, শরীর চর্চার ব্যাপারে নারীদের যে সামাজিক প্রতিবন্ধকতা আছে সেগুলো অ্যাড্রেস না করতে পারলে কেবল বরাদ্দ বাড়িয়ে লাভ নেই।

‘স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে তৈরি হয়েছে আস্থার সংকট’

ড. আশিকুর রহমান, সিনিয়র অর্থনীতিবিদ, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)

 

আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় একটা সংকট রয়েছে। এই সংকটের কারণে অনেকগুলো অপ্রস্তুতজনিত ব্যাপার দেখেছি। জনগণের কষ্টকে স্বীকৃতি দিতে হবে। একটা সমস্যা হচ্ছে আমাদের দেশের অভিজাত লোকজনের বেশিরভাগই স্বাস্থ্যসেবা নিতে দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে পাশ কাটিয়ে বিদেশে চলে যায়। আর এই কারণে দেশীয় স্বাস্থ্য সেবার  মান আমরা বিচার করতে পারি না। দুঃখজনকভাবে বর্তমানে আমাদের অর্থনৈতিক চিন্তা অনেকটাই গ্রোথ অবসেসড। কিন্তু আমাদের ইতিহাস বলে—অল্প গ্রোথ বা অল্প পার ক্যাপিটাল ইনকাম থাকা সত্ত্বেও সোশ্যাল সেক্টরে আমাদের ভালো অর্জন রয়েছে। আমাদের মাথাপিছু আয় বা সুশাসনের দৃষ্টান্ত অনুযায়ী আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অর্জন বেশি। স্বাস্থ্যখাতে বর্তমানে আউট অব পকেট ব্যয় ৬৭%, ২০০০ সালে যেটি ৫৭% ছিল। তার মানে, স্বাস্থ্য খাতকে আমরা অতিরিক্ত বাণিজ্যিক করে ফেলেছি।

১ম পর্বে ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট-এর গবেষক মোহাম্মদ মামুন মিয়া ও দ্বিতীয় পর্বে ইউনিস্যাবের প্রেসিডেন্ট শ্যামী ওয়াদুদের প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে আলোচনা অনুষ্ঠান শেষ হয়। এ সময় তারা মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কারদের দক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষা বিষয়ে শর্টকোর্স, তথ্য প্রযুক্তিতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে কাজ করা, স্টিমুলেড প্যাকেজ নিয়ে আলোচকদের আলোচনার ওপর প্রশ্ন রাখেন।