শাকসবজি কাটা শেষ করে ঘর মুছতে যায় হিরা। এরপর ধুতে হবে বাথরুম, থালাবাটি ও কাপড়চোপড়। এসব এখন তার ভাগের রুটিন কাজ। সব রান্নার দায়িত্ব ইরার। বাকি কাজ পড়েছে মেয়ের ভাগে। নিজেরাই নিয়েছে ভাগ করে। কেননা, করোনার ভয়ে বুয়াদের এখন বাসায় আসা নিষেধ। হিরা ঘর মোছে আর ভাবে, করোনা যদি তাড়াতাড়ি না যায় তাহলে অনাহারেই মারা যাবে অনেক মানুষ।
ঠিকমতো ঘর মোছা হচ্ছে কি না খেয়াল করে ইরা। বলে, এভাবে কি ঘর মোছা হয়? এই যে, একটা চুল পড়ে আছে এখানে।
হিরা বলে, আমি কী করব? বারবার মুছলেও সব যায় না। চুল ঘরে না ফেললেই হয়।
হঠাত্ বিক্ষোভ মিছিলের মতো চড়া হয় ইরার গলা, অ, বুঝছি, আমার দোষ! আমি পরিষ্কার রাখতে চাই তো, তাই ভালো লাগে না। তোমার মা-বোনদের মতো জঙ্গল করে রাখতাম বাড়িঘর, তাহলে খুব ভালো লাগত!
এবার মুখ খোলে মেয়ে, মা, তুমি থামো তো। এসব সিলি ম্যাটার নিয়ে অশান্তি করো কেন?
আরো রেগে ওঠে ইরা, এই, একদম কথা বলবি না। দাদি-ফুফুর কথা বললে খারাপ লাগে? কোন কাজটা ঠিকমতো করিস তোরা? বুয়াদের মতোই তোদের পিছনেও লেগে থাকতে হয় আমার। আর এখন বলছিস, আমি অশান্তি করি। ঠিক আছে, আমি আর কিছু বলবও না, করবও না।
লকডাউন চলছে এলাকায়! চুপচাপ আইসোলেশনে চলে যায় হিরা। আস্তে আটকে দেয় রুমের দরজা। ভাবে, বুয়াদের বেতন আসলেই খুব কম!
