ভালোবাসা নিতান্তই সংজ্ঞাহীন হতে পারে, তবে রংহীন নয়। এমনই এক রঙিন ভালোবাসা ধারণ করে আছে আমাদের সবার প্রিয় ক্যাম্পাস; যে ভালোবাসার রং রঙিন করে রেখেছে ক্যাম্পাসিয়ান পরিবারের সব সদস্যকে। এমনই এক রঙের সংস্পর্শে যেতে কাতর হয়ে রয়েছে সবাই। সবাই যেন ফিরে যেতে চাই প্রিয় ক্যাম্পাসের সেই সবুজের সমারোহে, সেই সবুজ প্রকৃতি, সবুজ গাছপালা, সবুজে ঘেরা প্যারাইডাইস রোড, ফরেস্ট রোড, প্যারিস রোডে। আবার কেউবা ফিরে যেতে চাই লাল রঙের চায়ের আড্ডায়, টং-এর দোকানে। কেউবা ফিরে যেতে চাই হাজারো স্মৃতিতে ঘেরা লাল বাসে। যে বাসের সঙ্গে ক্যাম্পাসিয়ানদের রয়েছে আত্মার সম্পর্ক। আবার কেউবা ফিরে যেতে চাই প্রিয়তমার নীল রঙের শাড়িতে এবং একসঙ্গে হাঁটতে, যেতে চাই ক্যাম্পাসের মফিস লেকে কিংবা প্যারাডাইস রোডে। আবার কেউবা ফিরে যেতে চাই নীল রঙে বাইন্ডিং করা অ্যাসাইনমেন্টের প্রচ্ছদে। প্রতিনিয়ত টিউশনি করে আয় হতো তাদের, যা ক্যাম্পাসে ফিরে না গেলে আর সম্ভব নয়। কেউবা ফিরে যেতে চাই হলুদ রঙের হিমু রূপের সাজে। ফিরে যেতে চাই ক্লাসের সাদা-কালো বোর্ডগুলোয়; যেখানে শিক্ষার্থীদের দুষ্টুমি করে লেখালিখিসহ থাকত নানান চিত্রকর্ম। আবার কেউবা ফিরে যেতে চাই সাদা দেয়ালে ঘেরা ক্লাসরুমে। কেউবা ফিরে যেতে চাই সাদাকালো ড্রেসে। যে ড্রেসে হতো ভাইভা এবং ভাইভার দিনের ফটোশুট। আবার কেউবা ফিরে যেতে চাই ক্যাম্পাসের লাল, নীল, হলুদ, সবুজ রঙের ফুলের বাগিচায়।
এমনি এক ভালোবাসার রঙে রঙিন হতে যেন চির উদগ্রীব ক্যাম্পিসিয়ানের সবাই। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস যেন মুহূর্তের মধ্যেই রংহীন করে দিয়েছে সবাইকে। এখন যেন শুধু একাকিত্বের রং রাঙিয়ে রেখেছে তাদের। ক্যাম্পাসিয়ানরা যেন আবারও ফিরে যেতে চাই সেই লাল, নীল, হলুদ, সবুজ চিরচেনা রঙে। যে রং রাঙিয়ে রাখে প্রিয় ক্যাম্পাসের প্রতি সবার ভালোবাসা...।
