করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করবে বিশ্বের দ্রুততম কম্পিউটার

আপডেট : ২৩ জুন ২০২০, ২১:৫৭

২০১১ সালের পর এ সপ্তাহেই প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে ছাপিয়ে কম্পিউটার প্রসেসিং দক্ষতার শীর্ষে পৌঁছেছে জাপান। তাদের ফুগাকু সুপার কম্পিউটারটি যুক্তরাষ্ট্রে ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির নির্মিত সামিট সিস্টেমের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি গতিবেগে গণনা সম্পাদন করতে পারে। করোনা ভাইরাসের কার্যকর প্রতিষেধক খুঁজে পেতে এবার বিশ্বের দ্রুততম সেই সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করতে যাচ্ছে জাপান।

জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কোবের একটি সরকার সমর্থিত গবেষণা ইনস্টিটিউট রিকেন এবং জাপানি প্রযুক্তি জায়াট ফুজিত্সুর মাধ্যমে গত ছয় বছরে ফুগাকু সুপার কম্পিউটারের উন্নয়ন করা হয়েছে। এতে দেড় হাজার উচ্চ পারফরম্যান্স সমৃদ্ধ প্রসেসিং ইউনিট রয়েছে এবং তারা সপ্তাহে কয়েক হাজার পদার্থ পরীক্ষা করতে পারে। সাধারণ কম্পিউটারের তুলনায় ১ হাজার গুণ বেশি গতিসম্পন্ন সুপার কম্পিউটার পারমাণবিক বিস্ফোরণের অনুকরণ, ভার্চুয়াল অস্ত্র পরীক্ষা এবং মডেল জলবায়ু সিস্টেমে ব্যবহার করা যেতে পারে।

নিক্কির ব্যবসায়িক সংবাদপত্রের খবরে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পপ্রবণ জাপানে ফুগাকু সুপার কম্পিউটার ভূমিকম্প ও সুনামির প্রভাবের নমুনাও তৈরি করবে। আগামী বছরের আগে পর্যন্ত অবশ্য ফুগাকু পুরোপুরি কার্যকর হবে না। তবে বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন যে, এক দশমিক দুই বিলিয়ন ডলারের এই সুপার কম্পিউটার প্রায় ২ হাজার ওষুধের মধ্যে করোনা ভাইরাসের যথাযথ চিকিত্সা পদ্ধতি নির্ণয়ে সহায়তা করবে। এসব ওষুধের মধ্যে এখনও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পর্যায়ে পৌঁছায়নি এমন ওষুধও রয়েছে। এক বিবৃতিতে এ বিষয়ে কথা রিকেনের সেন্টার ফর কম্পিউটেশনাল সায়েন্সের প্রধান সাতোশি মাত্সুওকা বলেন, ‘আমি আশা করি ফুগাকুর জন্য তৈরি করা কাটিং এজ প্রযুক্তি কোভিড-১৯ এর মতো কঠিন সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বড়ো ধরনের অবদান রাখবে।’