রাজশাহীর বানেশ্বর সড়কে আমের হাট

আপডেট : ২৩ জুন ২০২০, ২২:২৮

উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্ আমের মোকাম রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর হাট। এই হাট বসে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মাঠে। বর্তমানে বাজারে ব্যাপক আম আসায় সেখানে স্থান সংকুলান হচ্ছে না। ফলে অনেকেই ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের ওপর আম বেচাকেনা করছেন। এতে করে দিনের বেশির ভাগ সময় প্রায় এক কিলোমিটার মহাসড়ক জুড়ে ভয়াবহ যানজট লেগে থাকে। যানবাহন চালক ও পথচারীদের অভিযোগ, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও বাজার কমিটির গাফিলতির কারণে আমের মৌসুম আসলেই এই মহাসড়কে জনদুর্ভোগ দেখা দেয়।

মঙ্গলবার দুপুরে বানেশ্বর আমের হাট ঘুরে দেখা যায়, ভূমি অফিসের পশ্চিম পাশ থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের ওপর আমের বেচাকেনা চলছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বেচাকেনা চলে বিকাল পর্যন্ত। সড়কের ওপর আম বেচাকেনা হওয়ায় রাজশাহীতে আগত ও ছেড়ে যাওয়া দূরপাল্লার যানবাহন, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস ও সাধারণ পথচারীদের আমের বাজারের আধা কিলোমিটার পার হতে কখনো কখনো এক ঘণ্টা লেগে যায়।

ঐ এলাকায় ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশের লোকজন রয়েছে কেবল নামমাত্র। তারা সড়কের ওপর আমের বেচাকেনা বন্ধে কোনো পদক্ষেপ দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। সড়কের ওপরের আম বিক্রেতারা বলছেন, হাট কমিটির লোকজনের নির্দেশে তারা মহাসড়কের পাশে আম বিক্রি করতে দাঁড়িয়েছেন। তবে সড়কের সঙ্গে দাঁড়ানোর কারণে মাঝে মধ্যে বিভিন্ন যানবাহন স্টাফদের সঙ্গে তাদের বাগিবতণ্ডা লেগেই থাকছে।

বানেশ্বর বাজার ব্যবসায়ীরা বলেন, আমের বাজার মূলত ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মাঠে বসার কথা। কিন্তু সেখানে আমের তুলনায় জায়গা অনেক কম। যার কারণে ক্রেতা-বিক্রেতারা মহাসড়কের পাশে কেনাবেচা করছেন। এতে করে ক্রেতা-বিক্রেতাদের পাশাপাশি সড়কের যানবাহন ও পথচারীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বিষয়টি স্থানীয় ব্যবসায়ীরা হাট ইজারাদার ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করলেও কোনো সুফল আসছে না। বানেশ্বর হাট ইজারাদার ওসমান আলী বলেন, আমের এই কয়দিন মহাসড়কে একটু উনিশ-বিশ হতেই পারে। তবে যানজট নিরসন করতে পুলিশের পাশাপাশি আমাদের লোকজন কাজ করছে। এ বিষয়ে পবা হাইওয়ে পুলিশ (শিবপুরহাট ফাঁড়ি) ইনচার্জ ও উপ-পরিদর্শক কাজল কুমার নন্দী বলেন, আম হাটে থানা ও ট্রফিক পুলিশের পাশাপাশি হাইওয়ে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন।

পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওলিউজ্জামান বলেন, মহাসড়ক যানজট মুক্ত রাখতে হাইওয়ে ও থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপর দিকে হাট কমিটির লোকজনকে বলা হয়েছে, তাদের কিছু লোক দিয়ে যানজট মুক্ত কাজে সহায়তা করার জন্য।