স্বরূপকাঠিতে জমে ওঠেনি নৌকার হাট

আপডেট : ২৩ জুন ২০২০, ২২:২৯

করোনা পরিস্থিতিতে স্বরূপকাঠিতে এ বছর জমেনি নৌকার হাট। বিগত বছরগুলোতে উপজেলার আটঘর খালে নৌকার হাট থাকত জমজমাট। প্রবীণ ব্যবসায়ী সূত্র থেকে জানা যায়, আশির দশকের প্রথম দিকে ঐ খালে নৌকা বিক্রির হাট শুরু হয়। সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার আটঘর খালে বেচাকেনা হয় নৌকার। বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও এ বছর করোনার কারণে জমে ওঠেনি নৌকার হাট। নৌকার হাটে বিগত দিনের মতো এবার ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ভিড় কম। বর্ষা মৌসুম এলেই এ উপজেলার চামী, গগন, বিন্না, ডুবি গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী নাজিরপুরের উপজেলার বৈঠাকাটা ও বানারীপাড়ার ইলুহার, গাভাসহ বিভিন্ন গ্রামের কাঠমিস্ত্রিরা নৌকা তৈরির কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এসব এলাকার দুই সহস্রাধিক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে নৌকা-বৈঠা তৈরি ও বিক্রি করে তাদের জীবনজীবিকা নির্বাহ করে আসছে। নদীমাতৃক এ অঞ্চলের কৃষিজীবী মানুষের জীবনজীবিকার অন্যতম বাহনই হচ্ছে নৌকা। প্রায় সব ধরনের কাজেই ব্যবহূত হয় নৌকা। আটঘর খাল ও খালের পাড়ে রাস্তার ওপরে দুই পাশে বিভিন্ন সাইজের নৌকার বেচাকেনা চলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

চামী গ্রামের নৌকা তৈরির কারিগর জামাল জানান, চাম্বল, মেহগনি, রেইনট্রি, কড়াই প্রভৃতি গাছের কাঠ দিয়ে নৌকা তৈরি করেন। নৌকার সাইজ ও কাঠের প্রকারভেদে দুই থেকে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয় নৌকা। ব্যবসায়ী সূত্র জানায়, বিগত দিনে এ হাটে অনেক দূর থেকে পাইকাররা এলেও এ বছর করোনার কারণে তারা তেমন আসছেন না। হাটের ইজারাদার আবুল বাশার জানান, বিগত বছরগুলোতে প্রতি হাটে ২২৫ থেকে ২৫০টি নৌকা বিক্রি হতো। কিন্তু এ বছর করোনার কারণে হাটে নৌকা বিক্রি অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে।