লাম্ফি স্কিন রোগ

নীলফামারীতে মারা গেছে ৯টি গরু দিশাহারা কৃষক ও খামারিরা

আপডেট : ২৩ জুন ২০২০, ২২:৩১

নীলফামারী জেলায় গত এক মাসের ব্যবধানে হাজার হাজার গরু লাম্ফি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ উপজেলায় আক্রান্ত হয়েছে ১০ হাজারের বেশি। মারা গেছে ৯টি গরু। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই গরুর ঐ ভাইরাসজনিত রোগে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে গরু খামারি ও কৃষকরা। বিশেষ করে কোরবানির ঈদকে ঘিরে গরুর এই রোগ বড়ো ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

জানা গেছে, সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর গ্রামে পাঁচটি, জেলা সদরের বাহালি পাড়া গ্রামে দুইটি ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই গ্রামে দুইটিসহ ৯টি গরু মারা গেছে। স্থানীয় খামারি ও কৃষকরা বলছেন, তারা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। রোগের কোনো ওষুধ পাওয়া যায় না।

জেলা সদরের রামনগর ইউনিয়নের বাহালি পাড়া সরকার পাড়া গ্রামের কৃষক সেকেন্দার আলী জানান, তার গরু তিনটির পিছনে ১০ হাজার টাকার খরচ করেও সুস্থ হয়নি। একই পাড়ার আশরাফ আলী জানান, খামারিসহ ব্যক্তিপর্যায় কোরবানির জন্য পালন করা গবাদি পশুর মধ্যে নতুন এই ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে।

উপজেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের দিঘলটারী গ্রামের কৃষক আবুল কালাম আজাদ জানান, করোনা পরিস্থিতে টাকাপয়সা হাতে না থাকায় আক্রান্ত গরুর চিকিত্সা চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পশুর মালিককে। দেখা মেলেনি সরকারি চিকিত্সকের।

জেলার সৈয়দপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেদুল হক জানান, মাঠ পর্যায়ে মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। আক্রান্ত পশুকে লক্ষণ দেখে চিকিত্সায় ভালো ফল পাওয়া যায়।

সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শাহিদুল ইসলাম জানান, জনবল সংকটের কারণে কিছুটা বিলম্ব হলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনটি ভ্যাটেনারি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। এতে তিন জন ডাক্তারের নেতৃত্বে উপজেলার পৌরসভাসহ ১৫টি ইউনিয়নে গোট-টিস্যু ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তিনি বলেন, নীলফামারী সদরে ১ লাখ ৫০ হাজার গরু রয়েছে। এর মধ্যে ১৪৫টি গরুর চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মোনাক্কা আলী জানান, লাম্ফি স্কিন রোগ-প্রতিরোধে মশা, মাছি থেকে গবাদি পশুকে নিরাপদে রাখার জন্য মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।