প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে—একমাত্র আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় এসেছে, বাঙালি কিছু পেয়েছে। বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে। এছাড়া অন্য সময় পেছনে টেনে রাখার চেষ্টা হয়েছে। আওয়ামী লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। করোনা ভাইরাসের কারণে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান কাটছাঁট করার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনসমাগম হবে এ ধরনের সব কর্মসূচি বাতিল করেছি। কারণ, আমাদের কাছে জনগণের কল্যাণটাই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটাকেই আমরা গুরুত্ব দিই।
তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষের মধ্যে দুঃখকষ্ট আছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। ছাত্রলীগ-যুবলীগ-কৃষকলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ নেতাকর্মীরা প্রত্যেক মানুষের ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন। লাশ দাফন থেকে শুরু করে সমস্ত কাজে মানুষের পাশে আছেন। এলাকাভিত্তিক তারা কাজ করে যাচ্ছেন। ঘূর্ণিঝড়ের সময়ও তারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এখন বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণের কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন। এভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবে আওয়ামী লীগ। এটাই আওয়ামী লীগের লক্ষ্য।
শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন ইতিহাস বর্ণনা করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুু শেখ মুজিবুর রহমানসহ দলের প্রতিষ্ঠাতাদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের কথা, মানুষের অধিকারের কথা বলেছে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে প্রতিটি অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করে গেছে।
তিনি বলেন, ১৭৫৭ সালে সিরাজউদ্দৌলার পতনের মধ্য দিয়ে বাংলার যে সূর্য অস্তমিত হয়েছিল, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সেই সূর্য উদয় হয় ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের মানুষ অস্ত্র তুলে নিয়েছিল। যুদ্ধ করে ১৬ ডিসেম্বর আমরা বিজয় অর্জন করি। জাতির পিতা আজীবন সংগ্রাম করেছেন এ দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, জনগণের জন্য। তিনি তার সংগ্রামের পথে অনেক বাধা, বিপদ অতিক্রম করেছেন।
আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মানবতার সেবা করে গেছে। শোষিত-বঞ্চিত মানুষের কথাই বলেছে আওয়ামী লীগ। তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছে। আর এই সংগ্রামের পথে অগণিত নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন। তাদের ত্যাগ-তিতিক্ষায় আমরা এই স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আজকে আমরা একটা স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি। স্বাধীন জাতি হিসেবে মর্যাদা পেয়েছি। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, জাতির পিতা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব যখন পেলেন, দেশ গড়ে তুলে যখন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, সেই সময় আরেক মীরজাফর খন্দকার মোস্তাক এবং জিয়ার কুচক্রীর ফলে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়ে গেল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আমরা ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করি। এটা নিয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য, তা পালন করতে পারিনি। আজকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীও সীমিত আকারে উদ্?যাপন করছি।
করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী একটি সমস্যা। এর থেকে মানুষকে রক্ষা করা, চিকিত্সার ব্যবস্থা করা, মানুষ যাতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি রেখেই মুজিববর্ষ উদ্?যাপনের সব কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বিশেষভাবে উদ্?যাপনের কথা ছিল, সেটাও করা যায়নি।
শেখ হাসিনা বলেন, এক সময় বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু কেউ পারেনি। অবশ্য সত্যকে মোছাও যায় না। জাতির পিতা শারীরিকভাবে আমাদের কাছে নেই। কিন্তু তার অস্তিত্ব বাঙালির হূদেয় আছে। তার যে আকাঙ্ক্ষা, সেটা আমাদের পূরণ করতে হবে। আজকের দিনে এটাই শিক্ষা। বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। স্বাধীনতার পর আইয়ুব খানের সব রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙে দিয়ে জনগণের ক্ষমতায়ন ও ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রীকরণ করে দেশের আর্থসামাজিক অগ্রযাত্রা শুরু করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। কিন্তু তা সম্পন্ন করে যেতে পারেননি। তার অসমাপ্ত কাজটা শেষ করা আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।
