শ্রীলংকায় মৃত মুসলিমদের দাহ করা হচ্ছে

আপডেট : ২৪ জুন ২০২০, ০০:৩৯

শ্রীলংকার সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায় বলছে, করোনা ভাইরাস মহামারির সুযোগ নিয়ে সেদেশের কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। মুসলিম কেউ মারা গেলে তার মৃতদেহ দাহ করতে বাধ্য করা হচ্ছে যা ইসলাম ধর্মে নিষিদ্ধ। ৪ মে তিন সন্তানের মা ৪৪ বছর বয়সী মুসলিম মহিলা ফাতিমা রিনোজাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ফাতিমা শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোর বাসিন্দা। তিনি শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন বলে তার করোনা ভাইরাস সংক্রমণ হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ সন্দেহ করে। যেদিন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সেদিন থেকেই কর্তৃপক্ষ তাদের পরিবারের ওপর চড়াও হয়‌ বলে অভিযোগ করেন ফাতিমার স্বামী মোহামেদ শফিক। তিনি জানান, পুলিশ এবং সামরিক বাহিনী কর্মকর্তাদের নিয়ে আমাদের বাড়ির দরজায় এসে হাজির হয়। আমাদেরকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়, সবখানে জীবাণুনাশক ছিটানো হয়, আমরা সবাই ভয় পেয়েছিলাম। তারা আমাদেরকে কুকুরের মতো করে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে নিযে যায়। এরপর তারা মায়ের মৃত্যুর খবর পান।

ফাতিমার প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে বলা হলো হাসপাতালে গিয়ে তার মায়ের মৃতদেহ শনাক্ত করতে। তাকে বলা হলো, কোভিড-১৯এ ফাতিমার মৃত্যু হওয়ায় তার মৃতদেহ পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া হবে না। ফাতিমার ছেলে বলেছেন, তার মায়ের মৃতদেহ দাহ করার অনুমতিসূচক কাগজপত্রে স্বাক্ষর করতে তাকে বাধ্য করা হয়। মুসলিম পরিবারগুলো বলছে, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনায় কোভিড-১৯ এ মারা যাওয়া লোকদের কবর দেওয়া যাবে বলে বলা হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ তাদের মৃতদেহ দাহ করতে বাধ্য করছে। -বিবিসি