মো. আমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় করোনাকালেও শ্রমিক-কর্মচারীরা কাজ করছেন। দেশের চাহিদার কথা বিবেচনা করে কারখানায় মেরামত করা হচ্ছে ১০১টি কোচ। সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা কাজ করছেন।
সরজমিনে দেখা যায়, সরকারের স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কোচ মেরামতের কাজ করছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। কেউ বডি স্থাপন করছেন, কেউবা যন্ত্রপাতি লাগাচ্ছেন কেউবা আবার পেইনটিংয়ের কাজ করছেন।
ভারী মেরামতের কাজ চলছিল জেনারেল ওভার হোলিং শপে। শপ ইনচার্জ আরিফুর রহমান জানান, সাধারণ ছুটি শেষে গত ১ জুন থেকে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে। এখন আমরা খুবই ব্যস্ত। রেলওয়ে কারখানার ২৮টি শপে (উপ-কারখানা) চলছে ব্যাপক কর্মব্যস্ততা।
দেশের বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা বা অকেজো কোচগুলো কারখানায় এনে মেরামত করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২০টি কোচ মেরামত শেষ করে ট্রাফিক বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকিগুলোর মেরামত কাজ চলছে পুরোদমে। আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে মোট ১০১টি কোচ মেরামত করা হবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। এসব কোচের মধ্যে ব্রডগেজ ৭৫টি ও মিটার গেজ লাইনের ২৬টি কোচ রয়েছে।
সূত্র মতে, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় মঞ্জুরি ২ হাজার ৮২৫ জনের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৯১৮ জন। এই অল্পসংখ্যক জনবল দিয়ে রেলকারখানায় চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। দীর্ঘদিনেও কারখানায় জনবল নিয়োগ না করায় অল্পসংখ্যক শ্রমিককে বেশি কাজ করতে হচ্ছে।
কারখানার কার্য ব্যবস্থাপক (ডব্লিউএম) শেখ হাসানুজ্জামান জানান, সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানায় কাজ করছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। অতীতে চারটে পর্যন্ত কাজ হলেও বর্তমানে করোনা সংকটে বেলা দুইটা পর্যন্ত টানা কাজ চলছে। ফলে অল্প সময়ে বেশি কাজ করতে হচ্ছে আমাদের।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) মো. জয়দুল ইসলাম জানান, করোনাকালে নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। শ্রমিক-কর্মচারীদের গ্লাভস, মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। সেই সঙ্গে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে কারখানায়।
