করোনায় এলোমেলো রাজস্ব আদায়

আপডেট : ২৪ জুন ২০২০, ২২:৩৬

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে এলোমেলো অর্থনীতি। এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে সরকারের রাজস্ব আদায়েও। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই থেকে মে) কমিয়ে আনা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও প্রতিষ্ঠানটির আদায়ে ঘাটতি প্রায় ৭৭ হাজার কোটি টাকা। আর অর্থবছরের প্রথম দিকে নেওয়া লক্ষ্যমাত্রা বিবেচনায় নিলে ঘাটতি ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া গত ১১ মাসে এর আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি না হয়ে উলটো কমে গেছে (নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি) ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশ গত প্রায় পাঁচ দশকে রাজস্বে প্রবৃদ্ধি কম-বেশি হলেও নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখেনি। এবারই নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখছে বাংলাদেশ।

এ পরিস্থিতির জন্য মূলত বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের প্রভাবকে দায়ী করছেন তারা। মার্চ থেকে অর্থবছরের শেষ চার মাসে মূলত রাজস্ব আদায় বেশি হয়ে থাকে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে স্থবির হয়ে যাওয়া সেই হিসাব এলোমেলো হয়ে গেছে। ফলে আদায় বাড়ার চেয়ে মার্চ, এপ্রিল ও মে-তে এসে বরং ব্যাপকভাবে কমে গেছে। চলতি জুনেও কমার এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে করোনা পরিস্থিতি থেকে সহসা উত্তরণের কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। অথচ এমন পরিস্থিতিতেই আগামী অর্থবছরের জন্য ফের বিশাল রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। সরকার বাজেটে আগামী অর্থবছরের জন্য রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক              করেছে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। ফলে আগামী অর্থবছরেও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বিশাল ঘাটতি হতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। অর্থনীতিবিদ ও পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর ইত্তেফাককে বলেন, এই পরিস্থিতিতে আগামী বছরও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি হতে পারে। বর্ধিত লক্ষ্যমাত্রা দেওয়ায় সাধারণ করদাতা ও ব্যবসায়ীদের হয়রানি বাড়ার আশঙ্কাও করছেন তিনি।

তবে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব কমার জন্য করোনা পরিস্থিতি অনেকাংশে দায়ী হলেও এনবিআরের ব্যর্থতাকে দায়ী করে তিনি বলেন, এনবিআর সবসময় সহজ রাজস্ব আদায়ের পথেই হাঁটছে। এজন্য ঘুরেফিরে টেলিকম, ব্যাংকসহ কিছু খাতের ওপরই কর বাড়ায়।

সূত্র জানিয়েছে, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত মোট ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এ সময়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় কম হয়েছে প্রায় ৭৭ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় আদায় কমেছে ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ। গত অর্থবছরের মে পর্যন্ত সময়ে আদায় হয়েছিল ১ লাখ ৯৩ হাজার ২০২ কোটি টাকা। ওই সময় প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ।