প্রতিবন্ধী কিশোরীর ধর্ষককে বাঁচাতে টাকায় রফাদফা!

আপডেট : ২৪ জুন ২০২০, ২২:৩৭

রাজশাহীর দুর্গাপুরে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় এক প্রভাবশালী ধর্ষককে রক্ষায় মাত্র ৯০ হাজার টাকায় রফাদফা করেন স্থানীয় এক প্রধান শিক্ষক। তবে ধর্ষণের প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের হাতে গ্রেফতার হয় আসামি শহিদুল ইসলাম। ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে সে। রাজশাহীর প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট উজ্জ্বল মাহমুদ মঙ্গলবার তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। শহিদুল (৪৫) নির্যাতিত ঐ প্রতিবন্ধী কিশোরীর প্রতিবেশী। উভয়ের বাড়ি জেলার দুর্গাপুর উপজেলায়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) মহিদুল ইসলাম জানান, রাজশাহী শহর থেকে শহিদুলকে গত সোমবার গ্রেফতার করা হয়। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীটি এতিম। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর স্থানীয় একটি পানের বরজে ডেকে নিয়ে শহিদুল তাকে ধর্ষণ করে। পরে তার মা স্থানীয়দের কাছে বিচার চান। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালীরা তা আমলে নেননি। এরপর গত ৬ জানুয়ারি    কিশোরীর মা রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। বাদী বলেন, থানায় মামলা না নেওয়ায় তিনি আদালতে মামলা করলেন। তবে দুর্গাপুর থানার ওসি খুরশিদা বানু বলেন, ‘ঐ নারী থানায় মামলা করতে আসেননি। আদালত থেকে মামলাটি থানায় পাঠানো হলে মামলার বাদীর কাছে তিনি বিষয়টি জানতে চেয়েছিলেন। বাদী তখন জানান, স্থানীয়রা তাদের থানায় যেতেই দেয়নি।’ এসআই মহিদুল ইসলাম জানান, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল থেকে মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের জন্য দেওয়া হয়। মামলার পর আসামি শহিদুল ইসলাম স্থানীয় প্রভাবশালীদের দিয়ে ঐ কিশোরীর মাকে চাপ দিয়ে মীমাংসায় বাধ্য করেন। এ ঘটনায় স্থানীয় যুগীশো উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেকের বাসায় বৈঠক হয়। বৈঠকে আসামি শহিদুলকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ঐ ৯০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রলোভনে বাদীকে রাজশাহীতে এনে এফিডেভিট করে আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে জমাও দিয়েছেন তারা।