লিভারপুল ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানের দুরন্ত জয় দিয়ে শিরোপা থেকে মোটে এক ধাপ দূরে চলে এসেছে। দিনের অন্য ম্যাচে শেফিল্ড ইউনাইটেডকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে শীর্ষ চারের সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেছে।
প্রিমিয়ার লিগে ফেরার দিনে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী এভারটনের বিপক্ষে অনেকটা খেটেখুটেই ড্র করেছিল লিভারপুল। একটু এদিক ওদিক হলে হেরেই যেতে পারত কোচ য়ুর্গেন ক্লপের শিষ্যরা। সে শোধটাই বোধহয় অলরেডরা তোলে ক্রিস্টালের ওপরে।
নিজেদের মাঠ অ্যানফিল্ডে তারা বুধবারের ম্যাচে শুরু থেকেই রক্ষণাত্মকভাবে ছিল আঁটসাঁট। ২৩ মিনিটে ট্রেন্ট অ্যালেক্সান্ডার আর্নল্ডের ফ্রি কিকে এগিয়ে যায় তারা। লিভারপুল ব্যবধান বাড়ায় ৪৪ মিনিটে মোহামেদ সালাহর গোলে। দ্বিতীয়ার্ধে ৫৫ আর ৬৯ মিনিটে ফাবিনহো-সাদিও মানের গোলে ভর করে ৪-০ ব্যবধানের দারুণ জয় পায় তারা।
এর ফলে সালাহরা শিরোপা থেকে তিন পয়েন্টের দূরত্বে চলে আসেন। ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে জিতলেই শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যাবে ক্লপের শিষ্যদের। তবে গতরাতে সিটি চেলসির বিপক্ষে হেরে থাকলে এতক্ষণে সেটা নিশ্চিত হয়েও গেছে তাদের।
দিনের অন্য ম্যাচে শেফিল্ড ইউনাইটেডকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ম্যানইউ। ৭, ৪৪ আর ৭৪ মিনিটে অ্যান্থনি মার্শিয়াল গোল করে পূরণ করেন হ্যাটট্রিক। এর ফলে ৩১ ম্যাচে ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম অবস্থানটি ধরে রেখেছে কোচ ওলে গুনার সোলসারের শিষ্যরা।
সংখ্যায় সংখ্যায়
০- লিভারপুল বিপত্সীমায় ক্রিস্টাল প্যালেসের ‘টাচ’ সংখ্যা। কোচ য়ুর্গেন ক্লপের দল বুধবার রাতে নিজেদের বক্সে বলই স্পর্শ করতে দেয়নি প্রতিপক্ষকে। ২০০৮-০৯ মৌসুম থেকে অপ্টার তথ্য সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতিপক্ষ বক্সে বলে পা-ই ছোঁয়াতে না পারার ঘটনা ঘটেনি আর কখনো।
১২- বুধবারের ম্যাচে গোল হজম না করে চলতি মৌসুমে ক্লিনশিটের সংখ্যা ১২-তে উন্নীত করলেন গোলরক্ষক এলিসন বেকার। মজার ব্যাপার হচ্ছে, চলতি মৌসুমে ক্লিনশিট রাখার চেয়েও কম (১১) গোল হজম করেছেন!
১৫- ঘরের মাঠে সালাহ চলতি মৌসুমে করেছেন ১৫ গোল। প্রিমিয়ার লিগের আর কোনো খেলোয়াড়ই ২০১৯-২০ মৌসুমে ঘরের মাঠে ১০টির বেশি গোল পাননি।
২৩- নিজেদের মাঠ অ্যানফিল্ডে শেষ ২৩ ম্যাচেই জয় পেয়েছে লিভারপুল, গড়েছে ঘরের মাঠে টানা জয়ের ইংলিশ রেকর্ডও। সব মিলিয়ে শেষ ৫৫ লিগ ম্যাচে ঘরের মাঠে অপরাজিত তারা।
২৬১৯- রবিন ফন পার্সি অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করার পর পেরিয়ে গিয়েছিল ঠিক ২৬১৯টি দিন। তার অবসান ঘটিয়ে গত বুধবার অ্যান্থনি মার্শিয়ালের কল্যাণে ঘুচেছে প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হ্যাটট্রিক খরা। প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ দলগুলোর ভেতরে আর কেউ হ্যাটট্রিকের জন্যে এতো বড় সময় অপেক্ষা করেনি। ২০০৩ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত ১৮৬৮ দিন অপেক্ষা করে দ্বিতীয় স্থানে আছে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার সিটি।
