চট্টগ্রামে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থা নিজেরাই বুথ তৈরি করে করোনা ভাইরাস শনাক্তের জন্য নমুনা সংগ্রহ করছে। অনেক ক্ষেত্রেই নমুনা সংগ্রহের সময় যথাযথ মান রক্ষা করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। তাছাড়া নমুনা সংগ্রহের সময় রোগীর উপসর্গ, ঠিকানাসহ অন্যান্য তথ্যাদি সংরক্ষণ করা হচ্ছে না।
ল্যাব টেকনিশিয়ানরা জানিয়েছেন, সরকারিভাবে স্থাপিত ল্যাবের বাইরে অনেক স্থানে নানা উদ্যোগে বুথ বসিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরে এসব নমুনা পরীক্ষার জন্য ফৌজদারহাটে অবস্থিত বিআইটিআইডির ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে। অনভিজ্ঞ লোক দিয়ে এসব বুথে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ফলে নমুনা সংগ্রহের সময় যথাযথ মান রক্ষা করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইটিআইডির ল্যাবপ্রধান ডা. জাকির হোসেন বলেন, সরকারি হাসপাতালের ল্যাবে সংগ্রহকৃত নমুনা অভিজ্ঞ লোক দিয়ে সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাদের দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে সংগ্রহ করা নমুনায় যথাযথ মান রক্ষা হচ্ছে না। অনভিজ্ঞ লোক দিয়ে এসব নমুনা সংগ্রহ হচ্ছে। এতে রোগীর উপসর্গসহ অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য থাকছে না। এসব কারণে রোগী ভুল রিপোর্ট পেতে পারেন।’ এদিকে চট্টগ্রামে বিআইটিআইডি ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ল্যাবে বর্তমানে প্রায় ৩ হাজারের মতো নমুনা পরীক্ষার জন্য মজুত রয়েছে। চট্টগ্রামের ল্যাবগুলো পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারায় জুনের প্রথম সপ্তাহে ৩ হাজার নমুনা ঢাকায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি জানিয়েছেন, ঢাকায় পাঠানো নমুনার মধ্যে ১ হাজার ২০০ জনের রিপোর্ট আমরা পাইনি।’ ঢাকায় আর পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠাব না। এখন থেকে ল্যাবের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী নমুনা সংগ্রহ করা হবে। ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি ল্যাবে চট্টগ্রামের ১৪টি উপজেলা ও পার্বত্য চট্টগ্রামের নমুনা পরীক্ষার জন্য প্রতিদিন পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া বিআইটিআইডিতে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সব মিলিয়ে ল্যাবের ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি নমুনা সংগৃহীত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এই ল্যাবে প্রতিদিন ২৭০/২৮০টি নমুনা পরীক্ষা করে রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া প্রতিদিন ১৫০টি নমুনা চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে পাঠানো হয়। বর্তমানে ল্যাবে প্রায় ২ হাজারের মতো নমুনা পরীক্ষার জন্য মজুত রয়েছে। এখানে পরীক্ষা করার জন্য একটি মাত্র পিসিআর মেশিন রয়েছে। দুই শিফটে কাজ করে রিপোর্ট তৈরি করতে হচ্ছে। আরেকটি পিসিআর মেশিন বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে ল্যাব সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ল্যাবে চাপ কয়েক গুণ বেশি। প্রতিদিন ১০০টির জায়গায় ৩৫০টির মতো পরীক্ষা করা হচ্ছে। ল্যাবপ্রধান ডা. এহসানুল হক কাজল বলেন, প্রতিদিন ৪০০ এর বেশি নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। দুই শিফটে কাজ করেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। একটি মাত্র পিসিআর মেশিন রয়েছে। বর্তমানে প্রায় দেড় হাজার নমুনা পরীক্ষার জন্য মজুত রয়েছে।’
