বন্ডসুবিধার অপব্যবহার :রুখিতে হইবে সিন্ডিকেট

আপডেট : ২৫ জুন ২০২০, ২২:১৫

শিল্প খাতের কাঁচামাল সংরক্ষণের জন্য বন্ডসুবিধা একটি আধুনিক ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় একজন কারখানার মালিককে কাঁচামালের অনিশ্চয়তায় থাকিতে হয় না। একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তিনি কাঁচামাল আনিয়া মজুত রাখিতে পারেন। কারণ, রপ্তানি আদেশ পরিপালন করিতে যাইয়া সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করিতে না পারিলে তাহা অর্থনীতির জন্যই ক্ষতিকর। লিড টাইমসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় লইয়া বন্ডসুবিধাটি খুবই উপযুক্ত একটি শিল্পসহায়ক ব্যবস্থা; কিন্তু এমন একটি সুন্দর ব্যবস্থাকে বিতর্কিত করিয়া দিয়াছে কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী। যাহারা নিয়ম ভঙ্গ করিয়া বন্ডসুবিধায় আনা কাঁচামাল বাহিরে বিক্রয় করিতেছে। ইহাদের বড় সিন্ডিকেট রহিয়াছে। এই ধরনের গর্হিত কাজের কারণে সরকার যেমন রাজস্ববঞ্চিত হইতেছে, তেমনি দেশের শিল্প উদ্যোক্তারা অনিশ্চয়তায় পড়িয়া যাইতেছেন। একজন কারখানার মালিক বিনিয়োগ করিয়া, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করিয়া এমন অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়িবেন তাহা কোনোভাবেই কাম্য হইতে পারে না। ব্যাংকের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত শিল্প যদি কিছু অসাধু গোষ্ঠীর কারণে রুগ্ণ হইয়া যায়, তাহা হইলে শুধু উদ্যোক্তাই নহে, ব্যাংকও ধরাশায়ী হয়। কর্মসংস্থান হারায় বিপুল পরিমাণ লোক। সেই কারণেই বন্ডসুবিধার অপব্যবহার রোধ করিতে বিভিন্ন সময় কঠোর নজরদারির দাবি উঠিয়াছে।

এই কথা ঠিক যে, বন্ডের কাঁচামাল বিক্রির কিছু নির্দিষ্ট জায়গা রহিয়াছে। তাহার মধ্যে ঢাকার নয়াবাজার অন্যতম। এই বাজারে কাস্টমস কর্মকর্তারা বহুবার হানা দিয়াছেন। ধরিয়াছেন ট্রাকসমেত শুল্কবিহীন আমদানিপণ্য। তাহার পরেও ইহা রোধ করা যাইতেছে না। ইহা লইয়া পত্রপত্রিকায়ও কম লেখালেখি হয় নাই। আবার অজ্ঞাত কারণে ইহাদের বিরুদ্ধে অভিযানও বন্ধ হইয়া যায়। যদিও কাস্টমস বিভাগ হইতে ভিন্ন কথা শুনিতে হয়। তাহারাও সিন্ডিকেটের কাহারও নিকট যেন অসহায়। ‘রাঘববোয়াল’দের ধরিতে গিয়া কোনো কোনো কর্মকর্তা বদলির শিকার হইয়াছেন—এমনটিও অনেকের জানা। কেহ কেহ ইহাও বলিয়া থাকেন যে, বন্ড কমিশনারেটের কিছুসংখ্যক অসাধু কর্মকর্তার সহিত যোগসাজশে ঐ সিন্ডিকেট বন্ডসুবিধা গ্রহণ করিয়া থাকে। পরে তাহা কাজে লাগাইয়া শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আনিয়া খোলা বাজারে বিক্রি করে। এই অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চলিলেও ইহা অব্যাহত রহিয়াছে। অভিযোগ রহিয়াছে—ব্যবসায়ীদের একটি সংগঠনের কিছুসংখ্যক নেতাও ঐ সিন্ডিকেটকে মদত দিয়া থাকে। এই সকল অসাধু মদতদাতাদের রুখিতে হইবে, অর্থনীতির এই শত্রুদের প্রতিহত করিতে আরো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে হইবে। তাহা না হইলে করোনাকালীন এই সময়ে অর্থনীতির যেই হাল, তাহা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হইবে না। আমরা মনে করি, সিন্ডিকেট যত শক্তিশালীই হউক না কেন, সরকারের চাইতে অধিক শক্তিশালী নহে।