ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ দেখিয়ে নামমাত্র মূল্যে একের পর এক বিক্রি করা হচ্ছে শতবর্ষী প্রাচীন সরকারি গাছ। গত দুই সপ্তাহ ধরে স্থানীয় কাঠুরিয়াদের মাধ্যমে গাছগুলো কাটা হচ্ছে। তবে কোন প্রক্রিয়ায়, কত টাকায়, কার কাছে গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে—এ বিষয়ে এসিল্যান্ড ছাড়া জানেন না নিলাম কমিটির অন্য সদস্যরা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গত দুই সপ্তাহে গৌরীপুর-কলতাপাড়া পাকা সড়কে ডৌহাখলা ইউপির তাঁতকুড়া বাজারে কাটা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকা মূল্যের তিনটি রেইনট্রি গাছ। পৌর এলাকায় ঝলমল সিনেমা হলের পেছনে কাটা হয়েছে প্রাচীন একটি বিশাল আকৃতির রেইনট্রি গাছ, রিকশাপট্টি এলাকায় একটি এবং সাবরেজিট্রি অফিসসংলগ্ন এলাকায় দুটি রেইনট্রি গাছ কাটা হয়েছে। এছাড়া উপজেলার শাহগঞ্জ বাজার এলাকায় কাটা হয়েছে একটি কাঁঠালগাছ।
তাঁতকুড়া বাজারের স্থানীয় কয়েক জন জানান, পাকা রাস্তার ওপর দুটি ঝুঁকিপূর্ণ রেইনট্রি গাছ রেখে রাস্তা থেকে প্রায় ৫ ফুট দূরে স্থানীয় দুই ব্যবসায়ীর ঘরের সামনে অবস্থিত বিশাল আকৃতির তিনটি রেইনট্রি গাছ কাটা হয়েছে। এক্ষেত্রে ডৌহাখলা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল হালিম ব্যক্তিগতভাবে সুবিধা নিয়ে এসিল্যান্ড অফিসে মিথ্যা ও ভুল তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন বলে তারা অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে ডৌহাখলা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আবদুল হালিম জানান, তাঁতকুড়া বাজারে স্থানীয় ব্যবসায়ী খলিলুর রহমানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো কাটা হয়েছে। রাস্তার ওপরে ঝুঁকিপূর্ণ দুটি রেইনট্রি গাছ কাটা হলো না কেন—এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ঐ দুটি গাছ কাটার জন্য কেউ আবেদন করেনি।
জানা যায়, তাঁতকুড়া বাজারের দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি খলিলুর রহমান ও মো. ইব্রাহীমের নির্মাণাধীন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্য বাড়াতে প্রশাসনের সহযোগিতায় কৌশলে এ তিনটি রেইনট্রি গাছ কাটা হয়েছে।
ডৌহাখলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল হক সরকার জানান, তাঁতকুড়া বাজারে যে তিনটি গাছ কাটা হয়েছে এগুলো ঝুঁকিপূর্ণ ছিল না। যে দুটি গাছ ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তার ওপরে, তা রয়ে গেছে। তিনি বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী গাছের টেন্ডার হলে গাছ বিক্রির টাকার কিছু অংশ ইউনিয়ন পরিষদে জমা হতো।
গাছ বিক্রয় কমিটির সদস্য গৌরীপুর উপজেলা বন কর্মকর্তা লুত্ফুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, সরকারি গাছ বিক্রির বিষয়ে তাকে কোনো কিছু জানানো হয়নি। বিক্রয় কমিটির অপর সদস্য গৌরীপুর উপজেলা সিনিয়র প্রকৌশলী (এলজিইডি) আবু সালেহ মোহাম্মদ ওয়াহেদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাঁতকুড়া বাজারে রাস্তার ওপর দুটি রেইনট্রি গাছ কাটার ব্যাপারে আমি সুপারিশ করেছিলাম। এখন কেন সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য ভালো গাছ কাটা হলো তা আমার বোধগম্য নয়।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেঁজুতি ধর সাংবাদিকদের জানান, তিনি খোঁজ নিয়ে দেখেছেন এসিল্যান্ড চালান রসিদের মাধ্যমে গাছ বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছেন। গাছের মূল্য কম হয়েছে কি না, অথবা প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ গাছ রেখে অন্য গাছ কাটা হয়েছে কি না, বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাসুদ রানা সাংবাদিকদের জানান, সরকারি নিয়ম মেনেই জনস্বার্থে গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে দরপত্র আহ্বান এবং কোথায় কখন টেন্ডার হয়েছে আর কারা এতে অংশগ্রহণ করেছেন, কত টাকায় গাছ বিক্রি করেছেন—এসব বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি তিনি।
