রংপুর মেডিক্যালেও মিলছে না চিকিত্সা

আপডেট : ২৫ জুন ২০২০, ২৩:০৪

করোনা ভাইরাসের মহামারির কারণে রংপুরের বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বেশির ভাগই এখনো বন্ধ। এ অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালই এ অঞ্চলের রোগীদের একমাত্র ভরসা। কিন্তু এখানেও মিলছে না পর্যাপ্ত চিকিত্সাসেবা। গত প্রায় দুই সপ্তাহে এ হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে প্রায় দেড় শতাধিক রোগীর।

কামলাকাছনা এলাকার এসকেন্দার মিয়া ডায়াবেটিসসহ বেশ কিছু জটিল রোগ নিয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু উপযুক্ত চিকিত্সা না পেয়ে একপর্যায়ে বাসায় চলে যান। এর দুই দিন পর ব্রেইন স্ট্রোক হয়। বাধ্য হয়ে পুনরায় হাসপাতালে আনা হয় তাকে। কিন্তু চিকিত্সাধীন অবস্থায় গত শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

সম্প্রতি ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন নগরীর খাসবাগ এলাকার এক রোগী। ঠিকমতো চিকিত্সাসেবা না পেয়ে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে এনে প্রাইভেট ডাক্তার দেখানোর উদ্যোগ নেন স্বজনরা। কিন্তু নগরীতে কোনো নিউরো সার্জন গত তিন মাস ধরে তাদের চেম্বারে বসছেন না। নিরুপায় স্বজনরা রোগীকে নিয়ে বাড়িতেই চরম উত্কণ্ঠায় সময় পার করছেন। এই করোনাকালে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও সুষ্ঠু চিকিত্সাসেবা না মেলায় হতাশায় ভুগছেন অসংখ্য রোগী।

সরেজমিনে দেখা যায়, ১ হাজার শয্যার এই হাসপাতালে আগে যেখানে গড়ে ২ হাজারের বেশি রোগী থাকতেন এখন সেখানে বেশির ভাগ ওয়ার্ডই ফাঁকা পড়ে আছে। ভর্তি থাকা রোগীদের অনেকেই জানান,          চিকিত্সক-নার্সরা ঠিকমতো তাদের কাছে আসেন না। দিনে একবার এসে হয়তো দূর থেকে প্রেসক্রিপশনে শুধু ওষুধ বদলে দিয়ে চলে যান। এছাড়া করোনা সংক্রমণের ভয়ে একান্ত দায়ে না পড়লে রোগীরাও হাসপাতালে আসতে চান না। শিশু ওয়ার্ডে চিকিত্সাধীন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের ছয় মাস বয়সি শিশুর মা তাহেরা বেগম বলেন, ‘ছাওয়ার (সন্তান) অসুখ বাবা, সেইবাদে দায়ে পড়ি আছি। দাক্তার (ডাক্তার) আইসে না, এ্যাটে এ্যালা আগের মতন চিকিত্সা নাই।’ লাশ হস্তান্তরের দায়িত্বে থাকা সর্দার (হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী) আব্দুর রশিদ জানান, আগে প্রতিদিন হাসপাতালে পাঁচ থেকে ছয় জন রোগীর মৃত্যু হতো। এখন গড়ে ১০ জনের বেশি রোগীর মৃত্যু হচ্ছে।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘চিকিত্সায় অবহেলার বিষয়টি ঠিক নয়। হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক কমেছে। তবে মৃত্যুর হার কিছুটা বেড়েছে।’

রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. হিরম্ব কুমার রায় বলেন, ‘চিকিত্সাসেবা দিতে রংপুরের বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা না মানা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’