করোনার ব্যাপকতা জুলাইয়ে

সরকার অন্ধকার ঘরে কালো বিড়াল খুঁজছে :জাফরুল্লাহ

আপডেট : ২৫ জুন ২০২০, ২৩:১২

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, দেশে করোনা ভাইরাসের মূল প্রবাহ এখনো আসেনি। সংক্রমণের মূল সময় আসবে জুলাইয়ে। জুনের বাকি দিনগুলোতেও সংক্রমণের ব্যাপকতা থাকবে। জুনের বাকি দিনগুলোতে ও জুলাইয়ে তা গ্রামেগঞ্জে ছড়িয়ে পড়বে। কিন্তু সরকার অন্ধকার ঘরে কালো বিড়াল খুঁজে বেড়াচ্ছে। করোনা সমস্যা কীভাবে সমাধান করা হবে সেই চিন্তা সরকারের নেই। পরিস্থিতি উত্তরণে শক্ত করে স্বাস্থ্য আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

করোনামুক্ত হওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথমবার গণমাধ্যমের সামনে এসে তিনি করোনার এই ভয়াবহতার আশঙ্কার   কথা জানান। রাজধানীর ধানমন্ডিতে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে করোনা ভাইরাস থেকে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর রোগ মুক্তি, তার চিকিত্সা ব্যয় এবং হাসপাতালে বসেই তার লেখা ‘করোনা বনাম বিশ্ব পুঁজিবাদ :২০২০-২১ বাংলাদেশ বাজেট’ বিষয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় কথা বলেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, করোনা মোকাবিলায় এখনই সুষ্ঠু স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। ওষুধের দাম কমাতে হবে। জাতীয় ওষুধ নীতি বদলালে ওষুধের দাম কমে যাবে। এই পরিবর্তনের জন্য জনগণের পক্ষ থেকে আওয়াজ আসতে হবে। নিজের চিকিত্সা ব্যয় সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের চিকিত্সা ব্যবস্থায় মানুষ ফতুর হয়ে যায়। আপনারা যদি আমার বাজেট প্রবাহটা দেখেন, সেখানে কিছু দিকনির্দেশনা আছে। এটা জনগণের দাবি উঠানো ছাড়া, আওয়াজ  তোলা ছাড়া বাস্তবায়ন সম্ভব না।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রায় একমাস ধরে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিত্সা নিচ্ছেন। করোনা সেরে গেলেও তার অসুস্থতা পুরোপুরি যায়নি। তার এ অসুস্থতার সময়ে যারা পাশে ছিলেন এবং দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি  নেত্রী খালেদা জিয়া আমার খোঁজ নিয়েছেন, তাদের শুভেচ্ছা আমার দ্রুত রোগ মুক্তিতে সহায়ক হয়েছে। এজন্য তাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। সম্ভবত আমি বাংলাদেশের সবচেয়ে ভাগ্যবান করোনা রোগী। জাফরুল্লাহ  চৌধুরী বলেন, আপনারা যে আমার জন্য দোয়া করেছেন, তা অকল্পনীয়। একজন মানুষকে যে, মানুষ এত ভালোবাসতে পারে, তা আগে জানতাম না। সেটা যুদ্ধের পরে এই দেখলাম। একাত্তরে যুদ্ধে পেয়েছিলাম ভালোবাসা। এখন এবার সেই ভালোবাসা পেলাম।

জাফরুল্লাহ চৌধুরীর চিকিত্সক ও গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের অধ্যাপক মামুন মুস্তাফী বলেন, জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বুকের প্রায় ৮০ শতাংশ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল। সেটার কারণেই নানা সমস্যা হয়েছে। তিনি জানান, জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে চিকিত্সা দেওয়া সহজ ছিল না। যে কোনো চিকিত্সা দেওয়ার আগে তাকে সেটা সম্পর্কে ভালো করে বুঝাতে হতো। কারণ জানাতে হতো। জাফরুল্লাহ মনে করেন যে, গ্রামের একজন মানুষ বা শ্রমিক যে ওষুধ কিনতে পারবে না তা তিনি নেবেন না। তার সিটিস্ক্যানও করা যায়নি। রেমডিসিভিরের দাম বেশি বলে সেটাও নেননি। তবে জাফরুল্লাহর মানসিক শক্তি অনেক ছিল। ঢাকা মেডিক্যালে তার চিকিত্সার ব্যবস্থা ও কেবিন ঠিক করা হলেও তিনি সেখানে যাননি; বলেছেন, তিনি মরলে এখানেই মারা যাবেন।

জাফরুল্লাহ চৌধুরীর চিকিত্সা ব্যয় সম্পর্কে মামুন মুস্তাফী বলেন, তার চিকিত্সায় এই এক মাসে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা লেগেছে। তবে এটা যদি কোনো করপোরেট হাসপাতালে হতো তাহলে ১০ লাখ টাকার মতো লাগত। এই টাকা খরচ করেও উনি চিন্তিত যে, দেশের সাধারণ মানুষ এই টাকা খরচ করতে পারবে না।

মামুন মুস্তাফী বলেন, করোনা ভাইরাস মোকাবিলার জন্য ডায়াগনোসিসের অবারিত সুযোগ করে দেওয়া উচিত এবং মানুষ যেন যখন যাবে তখন করোনা পরীক্ষা করাতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে।

আলোচনা সভায় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না এবং অনলাইনে যুক্ত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল অবস্থা তুলে ধরেন। তারা স্বাস্থ্য আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ মুহিবুল্লাহ খোন্দকারের সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন অর্থনীতিবিদ বিনায়ক সেন, পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের চিকিত্সক নাজিব মোহাম্মদ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি দিলারা চৌধুরী ও ডাকসু ভিপি নুরুল হক। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা সাদেক খান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দপ্তর প্রধান জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু।