বগুড়ার সিভিল সার্জন গউসুল আজিম চৌধুরী এবং সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সামির হোসেন করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) ‘পজিটিভ’ হয়েছেন। সঙ্গে করোনায় সংক্রমিত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন জেলার আরও আটজন চিকিৎসক। এ ছাড়া জেলার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হাসিবুর রহমানও করোনা ‘পজিটিভ’ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৬ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ৩৩৫টি নমুনা পরীক্ষা করে এই ফলাফল পাওয়া গেছে। এই নিয়ে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬০২ জনে।
শুক্রবার বেলা ১১টায় বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা.মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান। ২৪ ঘণ্টায় জেলায় কেউ মারা যায়নি। তাই মারা যাওয়ার সংখ্যা ৪৩ জনে রয়েছে।
ডেপুটি সিভিল সার্জন জানান,২৪ জুন বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ ও বেসরকারি টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজের ল্যাবে ৩৩৫ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষা করে ৩৫ জনের পজিটিভ এসেছে। বেসরকারি টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজে ১৪৭টি নমুনা পরীক্ষা করে ৫১ জনের পজিটিভ এসেছে। আক্রান্ত ৮৬ জনের মধ্যে ৬১ জন পুরুষ,২০ জন নারী ও ৫ জন শিশু রয়েছে। আক্রান্ত ৮৬ জনের মধ্যে বগুড়া সদরে ৫৪,শাজাহানপুর ৩,গাবতলীতে ৫, কাহালু ২, শেরপুরে ১০, ধুনটে ৪, সারিয়াকান্দি ৪, শিবগঞ্জ ৩, ও দুপচাঁচিয়ায় একজন আক্রান্ত হয়েছেন।
শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ রেজাউল আলম বলেন, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) মেডিকেল কলেজের আরটি-পিসিআর ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষায় সিভিল সার্জন গউসুল আজিম চৌধুরী, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সামির হোসেনের কোভিড পজিটিভ ধরা পড়ে। সামির হোসেন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) বগুড়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদকও। দীর্ঘ সময় ধরে বগুড়ার প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় মধ্যরাতে বিনা পয়সায় ভাসমান ছিন্নমূল মানুষ এবং সুবিধাবঞ্চিতদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছেন তিনি। বগুড়ার স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের কাছে তিনি ‘গরিবের ডাক্তার’ হিসেবে বেশি পরিচিত। সামির হোসেন করোনাকালে বগুড়া শহরে রেকর্ড সংখ্যক মানুষের নমুনা পরীক্ষায় অনন্য ভূমিকা পালন করে প্রশংসিত হন। নমুনা সংগ্রহে তার এ উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম এগিয়ে আসেন। তিনি তার ক্যারিয়ারের ঐতিহাসিক ব্যাট বিক্রির অর্থে সামির হোসেনের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহের জন্য বগুড়া শহরে চারটি বুথ স্থাপন করে সাড়া ফেলেন। এ বগুড়া পৌরসভার কাছ থেকে গাড়ি চেয়ে নিয়ে বগুড়া সদরের বিভিন্ন পাড়ামহল্লা ঘুরে নমুনা সংগ্রহ করছিলেন সামির হোসেন।
বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সিভিল সার্জন এবং সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসোলেশনে নেওয়া হচ্ছে। আক্রান্ত অন্য চিকিৎসকেরাও হাসপাতালের আইসোলেশনে থাকবেন।
ইত্তেফাক/এমআরএম
