শুদ্ধিকরণ (পর্ব ১৫)
মো. কামরুল হাসান, সহকারী শিক্ষক
ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল
জাহানাবাদ সেনানিবাস, খুলনা।
৫. বিরামচিহ্ন বা যতিচিহ্ন বা ছেদচিহ্ন-এর ব্যবহার
কমা (,)
নাম : কমা
চিহ্ন : (,)
বাক্যে অবস্থান : মধ্যে
বিরতিকাল : ১ (এক) বলতে যতটুকু সময় লাগে।
ফাঁক (space) : আগে ফাঁক থাকবে না, তবে পরে ফাঁক থাকবে।
ব্যবহারের নিয়ম :
১. বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য কমা বসে। যেমন : সুখ চাও, সুখ পাবে পরিশ্রমে। কারণ, জানা গিয়াছে যে, যত বয়সই হোক, জীবিতদের মধ্যে জন্মে কেউ কখনও এমন গরম নাকি দেখেননি।
২. সমজাতীয় একাধিক পদ পরপর থাকলে কমা বসে। যেমন : পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র আমাদের বড়ো নদী। পরিত্যক্ত বাড়িতে ইঁদুর, তেলাপোকা, চামচিকা, উইপোকা ইত্যাদির উত্পাত বেড়ে গেছে।
৩. সম্বোধন পদের পরে কমা বসে। যেমন : রনি, পড়তে বসো। হেনা, এদিকে এসো।
৪. উদ্ধৃতিচিহ্নের আগে কমা বসে। যেমন : মা বললেন, “অঙ্ক করতে বসো।” তিনি বললেন, “আমি বাড়ি যাব না।”
৫. একজাতীয় একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ পাশাপাশি ব্যবহূত হলে কমা বসে। যেমন : সজল শ্রেণিকক্ষে ঢুকল, বই রাখল, তারপর বেরিয়ে গেল।
৬. অন্যথাসূচক অব্যয় যদি বাক্যে ব্যবহূত হয়—তাহলে ঐ অব্যয়ের পূর্বে কমা বসে। যেমন : কাল অফিসে যেও, নইলে তোমার চাকরি থাকবে না।
৭. অনেক অঙ্ক পরপর বসিয়ে সংখ্যা প্রকাশের ক্ষেত্রে কমা বসে। যেমন : ১,৪৭,৫৭০। [এক্ষেত্রে আগে ও পরে ফাঁক থাকবে না।]
৮. তারিখ লেখার সময় অনেক সময় কমা বসে। যেমন : ৮ মাঘ, বুধবার, ১৩৭৫ সাল।
৯. বাড়ি বা রাস্তার নম্বরের পরে কমা বসে। যেমন : ৯, ইকবাল রোড, ঢাকা।
১০. নামের পরে ডিগ্রিসূচক পরিচয় সংযোজিত হলে কমা বসে। যেমন : ড. ছিদ্দিকুর রহমান, এম.এ., এম.এড.।
সেমিকোলন (;)
নাম : সেমিকোলন
চিহ্ন : (;)
বাক্যে অবস্থান : মধ্যে
বিরতিকাল : ১ (এক) বলার দ্বিগুণ সময়সীমা
ফাঁক (space) : আগে ফাঁক থাকবে না, তবে পরে ফাঁক থাকবে
ব্যবহারের নিয়ম :
১. যদি বাক্যের মধ্যে একাধিক বক্তব্য থাকে, তাহলে অর্থ স্পষ্ট করার জন্য একেকটি বক্তব্যের পরে সেমিকোলন বসে।
যেমন : বাবা বললেন, “মিথ্যা বলার দরকার নেই; তুমি বলো, ‘আমি জানি না’।”
২. কোনো তালিকায় একাধিক ব্যক্তির নাম ও তাঁদের পদের উল্লেখ থাকলে তা বুঝার সুবিধার জন্য সেমিকোলন ব্যবহার করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
যেমন : অনুষ্ঠানে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হলেন : শামসুর রহমান, সভাপতি; আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক; চিন্ময় দত্ত, প্রচার সম্পাদক।”
৩. অভিধানে সমার্থক শব্দ থেকে ভিন্নার্থক শব্দকে কিংবা সামান্য ভিন্নার্থক শব্দকে পৃথকভাবে বুঝানোর জন্য সেমিকোলন ব্যবহূত হয়।
যেমন : ‘তারিখ’ শব্দের অর্থ হলো মাসের দিকনির্দেশক সংখ্যা; তিথি।
