বাংলা বানানোর নিয়মকানুন

আপডেট : ২৬ জুন ২০২০, ২০:২০

শুদ্ধিকরণ (পর্ব ১৫)

 

মো. কামরুল হাসান, সহকারী শিক্ষক

ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল

জাহানাবাদ সেনানিবাস, খুলনা।

 

৫. বিরামচিহ্ন বা যতিচিহ্ন বা ছেদচিহ্ন-এর ব্যবহার

কমা (,)

নাম : কমা

চিহ্ন : (,)

বাক্যে অবস্থান : মধ্যে

বিরতিকাল : ১ (এক) বলতে যতটুকু সময় লাগে।

ফাঁক (space) : আগে ফাঁক থাকবে না, তবে পরে ফাঁক থাকবে।

ব্যবহারের নিয়ম :

১. বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য কমা বসে। যেমন : সুখ চাও, সুখ পাবে পরিশ্রমে। কারণ, জানা গিয়াছে যে, যত বয়সই হোক, জীবিতদের মধ্যে জন্মে কেউ কখনও এমন গরম নাকি দেখেননি।

২. সমজাতীয় একাধিক পদ পরপর থাকলে কমা বসে। যেমন : পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র আমাদের বড়ো নদী। পরিত্যক্ত বাড়িতে ইঁদুর, তেলাপোকা, চামচিকা, উইপোকা ইত্যাদির উত্পাত বেড়ে গেছে।

৩. সম্বোধন পদের পরে কমা বসে। যেমন : রনি, পড়তে বসো। হেনা, এদিকে এসো।

৪. উদ্ধৃতিচিহ্নের আগে কমা বসে। যেমন : মা বললেন, “অঙ্ক করতে বসো।” তিনি বললেন, “আমি বাড়ি যাব না।”

৫. একজাতীয় একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ পাশাপাশি ব্যবহূত হলে কমা বসে। যেমন : সজল শ্রেণিকক্ষে ঢুকল, বই রাখল, তারপর বেরিয়ে গেল। 

৬. অন্যথাসূচক অব্যয় যদি বাক্যে ব্যবহূত হয়—তাহলে ঐ অব্যয়ের পূর্বে কমা বসে। যেমন : কাল অফিসে যেও, নইলে তোমার চাকরি থাকবে না।

৭. অনেক অঙ্ক পরপর বসিয়ে সংখ্যা প্রকাশের ক্ষেত্রে কমা বসে। যেমন : ১,৪৭,৫৭০। [এক্ষেত্রে আগে ও পরে ফাঁক থাকবে না।]

৮. তারিখ লেখার সময় অনেক সময় কমা বসে। যেমন : ৮ মাঘ, বুধবার, ১৩৭৫ সাল।

৯. বাড়ি বা রাস্তার নম্বরের পরে কমা বসে। যেমন : ৯, ইকবাল রোড, ঢাকা।

১০. নামের পরে ডিগ্রিসূচক পরিচয় সংযোজিত হলে কমা বসে। যেমন : ড. ছিদ্দিকুর রহমান, এম.এ., এম.এড.।

সেমিকোলন (;)

নাম : সেমিকোলন

চিহ্ন : (;)

বাক্যে অবস্থান : মধ্যে

বিরতিকাল : ১ (এক) বলার দ্বিগুণ সময়সীমা

ফাঁক (space) : আগে ফাঁক থাকবে না, তবে পরে ফাঁক থাকবে

ব্যবহারের নিয়ম :

১. যদি বাক্যের মধ্যে একাধিক বক্তব্য থাকে, তাহলে অর্থ স্পষ্ট করার জন্য একেকটি বক্তব্যের পরে সেমিকোলন বসে।

যেমন : বাবা বললেন, “মিথ্যা বলার দরকার নেই; তুমি বলো, ‘আমি জানি না’।”

২. কোনো তালিকায় একাধিক ব্যক্তির নাম ও তাঁদের পদের উল্লেখ থাকলে তা বুঝার সুবিধার জন্য সেমিকোলন ব্যবহার করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

যেমন : অনুষ্ঠানে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হলেন : শামসুর রহমান, সভাপতি; আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক; চিন্ময় দত্ত, প্রচার সম্পাদক।”

৩. অভিধানে সমার্থক শব্দ থেকে ভিন্নার্থক শব্দকে কিংবা সামান্য ভিন্নার্থক শব্দকে পৃথকভাবে বুঝানোর জন্য সেমিকোলন ব্যবহূত হয়।

যেমন : ‘তারিখ’ শব্দের অর্থ হলো মাসের দিকনির্দেশক সংখ্যা; তিথি।