‘ওহ! আপনাদের দেশে কি টিভি আছে?’

আপডেট : ২৬ জুন ২০২০, ২০:২০

ওয়াহিদ ইবনে রেজা। বাংলাদেশের এই মেধাবী তরুণ তার ক্যারিয়ারে যেসব বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন তা এক কথায় ঈর্ষণীয়। কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে একটি বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন এই মেধাবী তরুণ। বিশ্বখ্যাত অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র নির্মাতা ওয়াহিদ ইবনে রেজা অ্যাভেঞ্জার্স, ব্যাটম্যান, স্পাইডার ম্যান, এক্সট্রাকশন থেকে শুরু করে ব্লকবাস্টার মুভিগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। সম্প্রতি ‘জীবন যেখানে যেমন’ অনুষ্ঠানে নিজের জীবনের গল্প বললেন মেধাবী এই তরুণ। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন তানভীর তারেক

নিজের জীবনে আজকের এই অবস্থানে আসার পেছনে সবচেয়ে সহযোগী ভূমিকার কথা শুনতে চাইলে কী বলবেন—

অনেকের কথাই বলা যায়। তবে ব্যক্তিজীবনে আমি খুবই ফরচুনেট। ভীষণ ইচ্ছে ছিল উন্মাদে কাজ করবো। একটা বাড়তি মোহ কাজ করতো। একবার বইমেলায় উন্মাদের স্টলে গিয়ে বললাম, আমি উন্মাদে কাজ করতে চাই। ব্যাপারটা তখন এমনই আগ্রহের পর্যায়ে ছিল যে, যদি বলা হতো উন্মাদ পত্রিকা ডালিতে করে বিক্রি করতে হবে। তবে আমি তাই-ই করতাম। এরপর তো কাজ করতে করতে সেখানকার সহযোগী সম্পাদক হিসেবেও কাজ করা হয়েছে আমার।

অভিনয়জীবনেও আপনি সফল। বিজ্ঞাপন চিত্রে যে অল্প কিছু কাজ করেছেন সেখানেও দারুণভাবে দর্শকরা গ্রহণ করেছে...

ঠিক গ্রহণ না বর্জন করেছে, সেটা আমি জানি না। তবে আমি কাজ করে গেছি। মনে পড়ে, আমি যখন বিয়ের সিদ্ধান্ত নিই সেসময়ও আমি বেকার ছিলাম। হঠাত্ ফোনালাপে আমাকে একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কপিরাইটার হিসেবে কাজের অফার করে। আমি তার অফার শুনে কোনোকিছু না বুঝে রাজি হই। কারণ আমার কাছে তখন যেকোনো একটি পেশাগত পরিচয় প্রতিষ্ঠা করাটা ভীষণ জরুরি ছিল। তখনকার প্রেমিকা বা আমার বর্তমান স্ত্রীকে বলে দিলাম যে আমার চাকরি হয়ে গেছে।

এরপর হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক, তার নাটকে কাজ করা। এমনকি হুমায়ূন আহমেদ তার একটি বইও আপনাকে উত্সর্গ করেছেন। এসব প্রাপ্তিকে কিভাবে দেখেন?

ঐ যে বললাম না, আমি ভীষণ ভাগ্যবান একটা ছেলে। উন্মাদ থেকে আমার এক কলিগ একবার হুমায়ূন আহমেদের ইন্টারভিউ নিয়ে আসে। সেই কলিগের অভিনয়ের শখ। সেই সূত্রে হুমায়ূন স্যারের সঙ্গে শখ্য গড়তে চায় সে। কিন্তু বলতে পারে না। এরপর সেই ইন্টারভিউয়ের কপিটা আমরা তার বাসায় দিয়ে আসতে যাই। প্রথমে হুমায়ূন আহমেদ দেখা করতে রাজি ছিলেন না। আমরা কাতর হয়ে বলি। তিনি সম্মতি দেন। সেই সাক্ষাতে আমাকে দেখেই হুমায়ূন আহমেদ বলেন, ‘তুমি কী অভিনয় করবা? আমি থ বনে যাই। জীবনে কী লাগে। সব তো পাওয়া হয়ে গেল! ব্যাপারটা সত্যিই তখন আমার এ রকম। এরপরদিন নুহাশ পল্লীতে আমার শুটিং। তার নির্দেশনায় কাজ করা। এরপর অনেক গল্প, শখ্য। অনেক স্নেহ পেয়েছি এই মানুষটার, যা বলে শেষ করা যাবে না।

এখন এত বড় বড় ব্যানারে অ্যানিমেটর হিসেবে কাজ করছেন। দেশের হয়ে কোনো বড় প্রজেক্টে যদি অফার করা হয় আপনার কী সময় হবে বা কাজ করতে চাইবেন?

আমি বিদেশের মাটিতে বিশ্বখ্যাত ছবিগুলোতেও যখন কাজ করি তখনও খুব গর্বের সঙ্গে উচ্চারণ করি যে, আমি বাংলাদেশি। আমি নিজেই বরং আগ্রহী ভীষণ দেশের বড় কোনো প্রডাকশনে কাজ করার ক্ষেত্রে। এর ভেতরে একটি কাজের কথা হয়েও আর হলো না। নিজের দেশকে দেওয়ার চেয়ে আনন্দ আর কিছু নেই।

[আগামীকাল সমাপ্য]