মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মা এলেই বারান্দায় গাছ লাগিয়ে যায়—হয় ফুলের গাছ, নয় ফলের গাছ, নয় সবজির গাছ, নয় শাকের গাছ—একটা কিছু লাগাবেই। যাবার সময় বলে যাবে—রোজ সকালে অল্প অল্প করে পানি দিবি—তার মানে, মা জানে আমি টব ভাসিয়ে পানি দেই যাতে পুরো সপ্তাহে আর মগ হাতে বারান্দায় আসতে না হয়। এবার যাবার সময় ভাঙা বালতিটাতে গাছ লাগিয়ে বেলকনিতে রেখে গিয়েছে। কী গাছ বুঝতে পারছি না। বড়ো হয়ে ফল ধরলে বুঝব। রোজ সকালে বেলকনিতে দাঁত মাজতে মাজতে দেখি ডানে-বাঁয়ে আঁকুশি বাড়িয়ে ডগারা উঠে আসছে—লতায়পাতায় ছেয়ে যাচ্ছে গ্রিল।
একদিন দেখি ফুল শুকিয়ে ফল বেরিয়েছে—শসা মনে হচ্ছে—তার মানে, এটা একটা শসাগাছ হতে যাচ্ছে। ফল একটু লম্বা হবার পর আমি নিশ্চিত হলাম এটা শসাগাছই। কিন্তু ঝামেলা হয়ে গেল যখন আরেকটি ফুল শুকিয়ে আরেকটি ফল বেরুল—লম্বা হবার পর দেখলাম ওটা একটা ধুন্দুল। তাহলে কী গাছ এটা? দুই রকমের ফল ধরলে তাকে কী গাছ বলব? শুধু আম ধরলে বলতাম আমগাছ, শুধু জাম ধরলে বলতাম জামগাছ, শুধু কাঁঠাল ধরলে কাঁঠালগাছ। এক গাছ একসঙ্গে কখনো দুই গাছ হতে পারে না। মা বড়ো ঝামেলার গাছ রেখে গিয়েছে—সোশ্যল মিডিয়ায় আমি কোনো পোস্ট দিতে পারছি না। গাছের সঙ্গে সেলফি তুলে নাহয় পোস্ট দিলাম—কিন্তু ক্যাপশনে কী লিখব? আমার বারান্দার টবে শসাগাছে শসা ধরেছে, নাকি আমার বারান্দার টবে ধুন্দুলগাছে ধুন্দুল ধরেছে? এইসব ভাবতে ভাবতে আর পোস্টটাই দেওয়া হলো না।
একদিন বেলকনিতে খসখস করে দাঁত মাজতে মাজতে একগাল ফেনা করে ফেললাম। মাথা নুয়ে ঐ ভাঙা বালতিটার শুকনো মাটির ওপরে পুচ করে থুতু ফেলতে গিয়ে দেখি আসলে ওখানে দুটো গাছ। মা তাহলে দুইটা গাছ লাগিয়ে গিয়েছে! এতদিন কেবল আগার দিকেই তাকিয়েছি—আগায় ফুল ফোটে, ফল ধরে, পাতা বের হয়। কী মনোমুগ্ধকর! সেদিকে তাকিয়ে কিছুই বুঝতে পারিনি। গোঁড়ার দিকটা আজই প্রথম দেখলাম।
