করোনা-বর্জ্য থেকে সাবধান!

আপডেট : ২৬ জুন ২০২০, ২২:০০

সাধন সরকার

 

নতুন সংক্রমিত করোনা রোগীদের বেশিরভাগই বাড়িতে অবস্থান করে ডাক্তারের পরামর্শ মেনে করোনা মোকাবিলা করছেন। ফলে বাসাবাড়িতে এখন ব্যাপক মাত্রায় করোনা বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। করোনা রোগীর ব্যবহূত মাস্ক-গ্লাভস-পিপিই সাধারণ বর্জ্য-আবর্জনার সঙ্গে মিলেমিশে একাকার! ব্যবহূত করোনা সুরক্ষাসামগ্রী এখন রাস্তাঘাটে, শহরের অলিতেগলিতে, ফুটপাতে, ড্রেনে, হাসপাতালের আশপাশে দেখা যাচ্ছে। বাসায় থেকে যেসব রোগী সঙ্গনিরোধের নিয়ম মেনে করোনা চিকিত্সা করে চলেছেন, স্বাভাবিকভাবেই ঐ বাসার অন্য সদস্যরাও সংক্রমণ এড়াতে করোনা সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করছেন। এসব ব্যবহূত করোনা সুরক্ষাসামগ্রী গৃহস্থালি বর্জ্যের সঙ্গে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাছে দেওয়া হচ্ছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বর্জ্য নাড়াচাড়ার মাধ্যমে করোনা সুরক্ষাসামগ্রীর (মাস্ক-গ্লাভস-গগলস-পিপিই) সরাসরি সংস্পর্শে আসছে। ফলে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

করোনায় পলিথিন আগ্রাসনও থেমে নেই! পলিথিনের তৈরি গ্লাভস, পিপিই, মাস্কসহ নানা ধরনের করোনা সুরক্ষাসামগ্রী দেদার বিক্রি হচ্ছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে নকল সুরক্ষাসামগ্রীর বিক্রিও থেমে নেই। করোনাভাইরাস অন্তত দুই-তিন দিন পর্যন্ত বাঁচতে পারে। করোনাকালে ব্যবহূত সুরক্ষাসামগ্রীর যথাযথ ব্যবস্থাপনায় মনোযোগী না হলে তা মাটি ও পানির সঙ্গে খাদ্যচক্রে প্রবেশ করতে পারে।

করোনাভাইরাস মোকাবিলার সমন্বিত উদ্যোগের মধ্যে সুরক্ষাসামগ্রীর সঠিক ও টেকসই ব্যবস্থাপনা জড়িত। বেসরকারি হিসাবমতে, প্রতি মাসে মাস্ক, গ্লাভসসহ মোট প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হচ্ছে ১৫ হাজার টনের বেশি। হাসপাতালগুলোতে এখন মেডিক্যাল বর্জ্য অনেকাংশে কমে গেছে, বেড়ে গেছে করোনা সুরক্ষাসামগ্রীর বর্জ্য। করোনাকালে বায়ুদূষণ কমলেও প্লাস্টিক ও পলিথিন সামগ্রীর ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় পরিবেশের ক্ষতি কমেনি। এসব পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য ঢাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।

পরিবেশদূষণ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার সঙ্গে চিকিত্সা-বর্জ্যের বিরাট সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের দাপট বাড়ছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই ধারণা করা যায়, ব্যবহূত সুরক্ষাসামগ্রীর বর্জ্য বাড়তেই থাকবে। এর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। হাতেগোনা কয়েকটি হাসপাতাল ছাড়া বেশিরভাগ হাসপাতাল তৈরি বর্জ্য জীবাণুমুক্ত না করেই ফেলে দেয়। করোনাকালে বাসাবাড়ি ও হাসপাতালের সুরক্ষাসামগ্রীর বর্জ্য জীবাণুমুক্ত করার পর ফেলে দেওয়া সবচেয়ে বেশি জরুরি। বাসাবাড়ির ব্যবহূত সুরক্ষাসামগ্রী আলাদা একটি ব্যাগে ভরে জীবাণুমুক্ত করা যেতে পারে। জীবাণুমুক্ত করার অনেক ধরনের রাসায়নিক (ক্লোরিনের সলিউশনসহ অন্যান্য) পাওয়া যায়। পরিবেশ আইনে হাসপাতালের বর্জ্য জীবাণুমুক্ত করার পর ফেলে দেওয়ার কথা থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেটা মানা হচ্ছে না। হাসপাতালগুলোতে মেডিক্যাল বর্জ্যের টেকসই ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া দরকার। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনও স্বল্প পরিসরে করোনায় ব্যবহূত সুরক্ষাসামগ্রী আলাদাভাবে সংগ্রহ করতে শুরু করেছে। করোনার এই মহামারিতে সার্বিকভাবে ব্যবহূত সুরক্ষাসামগ্রীর যথাযথ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা না গেলে পরিস্থিতি ভয়ানক রূপ নিতে পারে। ব্যবহূত করোনা সুরক্ষাসামগ্রী আলাদাভাবে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাছে দেওয়া এবং জীবাণুমুক্ত করে নির্দিষ্ট স্থানে রাখার জন্য জনসাধারণকে সচেতন করতে হবে। সিটি করপোরেশনকে এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে।

ঢাকা