করোনা সংকটের মধ্যে রোগীরা হাসপাতালে না গিয়ে বাড়িতে বসেই যাতে চিকিত্সা নিতে পারে সেই লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছিল অনলাইনভিত্তিক চিকিত্সাসেবা কার্যক্রম ই-ডক্টরস। ফেসবুকে যাত্রা শুরু করা এই ফ্রি চিকিত্সার প্ল্যাটফরম থেকে বর্তমানে প্রতিদিন ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার রোগীকে অনলাইনে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা। মাত্র ১১ জন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক নিয়ে যাত্রা শুরু করা ই-ডক্টরসে এখন ২ শতাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক যুক্ত হয়েছেন।
ই-ডক্টরস থেকে চিকিত্সা নিতে হলে রোগীকে তার সমস্যা নিয়ে প্রথমে ই-ডক্টরস গ্রুপে পোস্ট দিতে হয়। এরপর একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে রোগীর নাম ট্যাগ করে দেওয়া হয়। তখন সেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মেসেঞ্জারের ইনবক্সে রোগীকে চিকিত্সা দিয়ে থাকেন। মূলত করোনা সংকটে রোগীকে চিকিত্সাসেবা দেওয়া এবং একই সঙ্গে চিকিত্সকদের সুরক্ষা দেওয়ার কথা মাথায় রেখেই এ গ্রুপের যাত্রা শুরু হয়েছিল।
মে মাসের প্রথম সপ্তাহে দুই বছরের ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়ায় কাজী মামুন নামের একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক দুশ্চিন্তার পড়ে যান। পরে তিনি ই-ডক্টরসে সন্তানের অসুস্থতার কথা জানিয়ে পোস্ট করেন। ই-ডক্টরস থেকেই চিকিত্সা নিয়ে সুস্থ হয়েছে তার সন্তান। মামুন বলেন, করোনার সময়ে হাসপাতালে যেতেও মারাত্মক ভয় পাচ্ছিলাম। এক বন্ধুর মাধ্যমে ই-ডক্টরস গ্রুপের কথা জানতে পেরে সেখান থেকে চিকিত্সা নিয়েছি।
ই-ডক্টরস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, এপ্রিলের ২১ তারিখ প্রথমে ১১ জন বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিয়ে এবং ৯টি বিভাগ দিয়ে শুরু হয়েছিল এ গ্রুপের কার্যক্রম। বর্তমানে ৩০টি বিভাগের ২০০ বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক আছে। আর এই প্ল্যাটফরমে বর্তমানে সদস্য সংখ্যা ৮০ হাজার। এ গ্রুপের সদস্য চিকিত্সক ও রোগী সকলে। যে কোনো বড় হাসপাতালের বহির্বিভাগ থেকে যে পরিমাণ রোগী চিকিত্সা নেন তার চেয়ে বেশিসংখ্যক রোগী চিকিত্সা নিচ্ছেন এখান থেকে। ই-ডক্টরসের উল্লেখযোগ্য বিভাগগুলো হলো মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি, চর্মরোগ, শিশু, শিশু সার্জারি, নিউরোমেডিসিন, নিউরোসার্জারি, চক্ষু, দন্ত, নাক -কান-গলা, বক্ষব্যাধি, অর্থোপেডিক, কার্ডিওলজি, কার্ডিয়াক সার্জারি, গাস্ট্রোএনট্রোলজি, নেফ্রোলজি, ইউরোলজি, অনকোলজি, ফিজিক্যাল মেডিসিন, ইমার্জেন্সি মেডিসিন, অ্যান্ডোক্রাইন ও ডায়াবেটিস, সাইকিয়াট্রি, কলোরেক্টাল সার্জারি, রেডিওলজি ও ইমেজিং, এনেসথেসিওলজি, প্যাথলজি, ভাইরোলজি, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি ও পুষ্টি বিভাগ।
তারা বলেন, আমরা শুধু অনলাইনে চিকিত্সা দিয়েই বসে থাকিন না। প্রতিদিন আমরা করোনা রিলেটেড বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে লাইভ অনুষ্ঠান করি। এর ফলে মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা বাড়ে এবং রোগী ইচ্ছা করলে লাইভ অনুষ্ঠানে সরাসরি ডাক্তারকে প্রশ্ন করতে পারেন এবং পরামর্শ নিতে পারেন। eDoctors নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলও রয়েছে। লাইভ অনুষ্ঠানগুলো সেখানে পাওয়া যায়।
করোনা ভাইরাসের রোগীদের জন্য কোভিড-১৯ টিম থেকে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষকে ফ্রি সেবা ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিদিন দেওয়া হচ্ছে। এ দলে অন্যতম ভূমিকা রাখছেন ডা. তন্ময় সাহা, ডা. আলবার্ট সঞ্জীব মণ্ডল, ডা. ইফতেখার সিরাজী, ডা. রেজা হক, ডা. জিল্লুর রনি, ডা. আমির হোসেন ও ডা. নাজমুল ইসলাম। এছাড়া এডমিন হিসেবে রয়েছেন ডা. নাজমুল ইসলাম, ডা. মাহমুদুল হাসান পান্নু, ডা. রাসেল ফারুক, দিনা আমিন, ডা. তনময় সাহা, ডা. আমির হোসেন, ডা. রেজা হক, ডা. আসাদুজ্জামান লিটন, ডা. জিল্লুর হাসান রনি, ডা. ইসমাইল হোসেন, ডা. সাইদা আফরিন। ই-ডক্টরস পেইজের মডারেটর হিসেবে আছেন ডা. জিয়াউর রহমান, ডা. আফিফা ফেরদৌস, ডা. কাজী নিয়াজুর রহমান, ডা. ওমর ফারুক, ডা. সানজানা আহমেদ, ডা. সাজিয়া আক্তার, ডা. ফারহানা ইসলাম সোমা, ডা. রিয়াজ উদ্দিন, ডা. আলবার্ট সঞ্জিব মণ্ডল, ডা. খালেদ হাসান, ডা. ইফতেখার সিরাজী, ডা. তানভির শুভ, ডা. শামিম আহমেদ, ডা. সালসাবিল ফেরদৌস, ডা. স্বপ্নিল, ডা. আফরিনা সামস চৌধুরী, ডা. হাবিবুল হক, ডা. আরাফাত, ডা. নাসিফ, ডা. ইসমাইল আবু সালেহ, ডা. জুবের আলম, ডা. আতিকুর রহমান, ফারজানা সুলতানা নিলা, ফাতেমাতুজ জোহরা মুন্নি প্রমুখ।
