মিথ্যাচার নয়, পরামর্শ থাকলে দিন :বিএনপির প্রতি কাদের

আপডেট : ২৬ জুন ২০২০, ২৩:২৫

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি করোনা সংকট মোকাবিলায় কোনো কাদা ছোড়াছুড়ি না করে সরকারের ভুল থাকলে তা ধরিয়ে দিতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘এখন কোনো রাজনীতি নয়। এখন একটাই রাজনীতি সংক্রমণ রোধ ও মানুষকে বাঁচানো। কাজেই চিরায়ত ভঙ্গির মিথ্যাচার বন্ধ করে সংকট সমাধানে কোনো পরামর্শ থাকলে দিন। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন। যে কোনো গঠনমূলক সমালোচনা বা পরামর্শ গ্রহণ করার সত্ সাহস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের আছে।’

গতকাল শুক্রবার দুপুরে সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবন থেকে এক অনলাইন ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি করোনা সংকটের শুরু থেকেই দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের ভূমিকা পালন না করে সরকারের সমালোচনাকে নিজেদের রাজনৈতিক কৌশল কিংবা দর্শন হিসেবে নিয়েছে। এতে বিএনপির আদৌ জনসমর্থন বেড়েছে কি?’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার শুরু থেকেই নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও দিনরাত পরিশ্রম করে সংক্রমণ রোধ, চিকিত্সা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, সুরক্ষা সামগ্রী সংগ্রহসহ অসহায় কর্মহীন মানুষের সুরক্ষায় কাজ করছে।      ‘সরকার তথ্য গোপন করছে’—বিএনপির এমন অভিযোগ অস্বীকার করে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রযুক্তি আর সামাজিক যোগাযোগের উন্মুক্ত প্রবাহের কালের তথ্য গোপনের কোনো সুযোগ নেই এবং সরকারের সেই ইচ্ছাও নেই। সরকারের নানান সীমাবদ্ধতা আছে। সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে শেখ হাসিনা সরকার ক্রমশ সক্ষমতা অর্জন করছে। এ পর্যন্ত দেশে সোয়া ১ লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে আল্লাহর রহমতে ৫০ হাজারের বেশি সুস্থ হয়েছে। সংখ্যাগত হিসেবে এটিও কম নয়। চিকিত্সক-নার্স, টেকনিশিয়ানসহ ফ্রন্টলাইনে পুলিশ-সেনাবাহিনী জনপ্রশাসন জীবনবাজি রেখে কাজ করছেন। সেবা দিতে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন। কই বিএনপি তাদের ধন্যবাদ দিয়ে কথা বলেন না, তাদের মনোবল যাতে ভেঙে না যায় তা নিয়ে বক্তব্য রাখেন না। নেতিবাচকতা তাদের এতই গ্রাস করেছে যে তারা দিনের আলোতেই রাতের আঁধার দেখতে পায়। তিনি এই সংকটে দলীয় নেতাকর্মীদের জনগণের পাশে থাকার আহ্বান জানান। করোনা সংক্রমণকালে মেডিক্যাল বর্জ্যের বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা করার পরামর্শ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, মাস্ক, গ্লাভস, স্যানিটাইজারের কৌটা ইত্যাদি পরিত্যক্ত সামগ্রী নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা এবং পাশাপাশি হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যাতে স্বাস্থ্যসম্মত হয় সেদিকে সংশ্লিষ্টদের নজর দিতে হবে। কিছু পরিবহনের বিরুদ্ধে বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তুলে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, করোনা সংক্রমণকালে গণপরিবহনের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যাত্রী সংকট রয়েছে। দূরপাল্লার বাস চলছে স্বল্পসংখ্যক। অথচ কিছু পরিবহন অধিক ভাড়া আদায় করছে । আমি বিআরটিএকে এ বিষয়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।