রিফাত হত্যার ১ বছর

ন্যায়বিচার প্রত্যাশা পরিবারের

আপডেট : ২৬ জুন ২০২০, ২৩:২৭

বহুল আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের এক বছর পার হয়েছে গতকাল শুক্রবার। গত বছরের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে রিফাতকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে কিশোর গ্যাং বন্ড বাহিনী। পরে একই দিন সে মারা যায়। রিফাতের মৃত্যুর একদিন পর তার বাবা মো. আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ১২-১৩ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দ্রুত গতিতে এ মামলার বিচার কাজ চললেও দেশে করোনা ভাইরাসের কারণে আদালত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় থেমে আছে বিচার কাজ।                               এছাড়া এখনো পলাতক রয়েছে এ মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ৬ নম্বর আসামি মো. মুসা বন্ড।

এ দিকে রিফাতের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গতকাল দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে তার বন্ধুরা। পারিবারিকভাবেও আয়োজন করা হয় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের। এছাড়াও স্বল্প পরিসরে দোয়ার আয়োজন করেন রিফাতের শ্বশুর মো. মোজাম্মেল হোসেন কিশোরও।

রিফাতের ওপর হামলার ভিডিও ফুটেজ সে সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর এ হামলার ঘটনায় দেশব্যাপী নিন্দার ঝড় ওঠে। দাবি ওঠে ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিতের। এরই মধ্যে রিফাতের ওপর হামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড গত বছরের ২ জুলাই ভোর রাতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। অন্যদিকে রিফাত হত্যাকাণ্ডের ২০ দিন পর গত বছরের ১৬ জুলাই নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রধান সাক্ষী থেকে মিন্নি আসামি হয়ে যাওয়ায় মামলাটি মোড় নেয় অন্যদিকে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, রিফাত হত্যাকাণ্ডের দুই মাস ছয়দিন পর বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্তবয়স্ক এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই ভাগে বিভক্ত করে দুটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। এদের মধ্যে ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক আসামি এবং ১৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। তদন্ত প্রতিবেদনে নিহত রিফাতের স্ত্রী এবং এ মামলার প্রধান সাক্ষী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে করা হয় ৭ নম্বর আসামি।

এ দিকে প্রায় শেষ পর্যায়ে মামলার বিচারকাজ থেমে থাকা নিয়ে নিহত রিফাতের বাবা ও মামলার বাদী মো. আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের কারণে আমার ছেলে হত্যার বিচারকাজ থেমে আছে। আমি প্রত্যাশা করি খুব দ্রুত আবার আদালতের কার্যক্রম শুরু হবে এবং ছেলে হত্যার সুবিচার পাব।

এ বিষয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ভূবন চন্দ্র হাওলাদার বলেন, রিফাত হত্যা মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আর মাত্র তিন-চার কার্যদিবস পেলেই প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।