স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি রোধে হার্ডলাইনে দুদক

আপডেট : ২৬ জুন ২০২০, ২৩:২৭

স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি প্রতিরোধে হার্ডলাইনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ব্যাপারে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, কমিশন আগে থেকেই স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি প্রতিরোধে সক্রিয় ছিল, এ খাতের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু প্রতিকার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

এরই মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি-অনিয়মের ১১টি মামলায় ১৪ ঠিকাদারকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ঠিকাদারদের ঐ তালিকা আরো বড় হবে। মূলত স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি অনিয়মের ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স’ (শূন্য সহিষ্ণুতার) নীতি নিয়েছে কমিশন। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতিসহ অন্যান্য দুর্নীতি-অনিয়ম সংক্রান্ত দুদকের গোয়েন্দা বিভাগের একটি বিশেষ প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনাকালে দুদক চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, কমিশন ২০১৭ সালেই স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক টিম গঠন করেছিল। স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বর্তমান কমিশন প্রতিকার ও প্রতিরোধমূলক বেশ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ২০১৯ সালের প্রারম্ভে স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির (১১টি) উত্স ও তা নিয়ন্ত্রণে ২৫ দফা সুনির্দিষ্ট সুপারিশ সংবলিত কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত একটি প্রতিবেদন দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিবের কাছে হস্তান্তর করেন। এ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন বাস্তবায়ন করা গেলে হয়তো স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির লাগাম কিছুটা হলেও টেনে ধরা সম্ভব হতো।

ইকবাল মাহমুদ আরো বলেন, ঢাকা, সাতক্ষীরা, রংপুর, চট্টগ্রাম, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিত্সাসামগ্রী ক্রয়ে দুর্নীতির অভিযোগেও কমিশন থেকে ১১টি মামলা দায়ের করা হয়। এই ১১টি মামলায় সম্পৃক্ত ১৪টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়। সংশ্লি­ষ্ট এসব অনুসন্ধান এখনো শেষ হয়নি। হয়তো আরো মামলা হবে, আরো প্রতিষ্ঠান কালো তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করা হবে। সব মিলিয়ে স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কমিশন শূন্য সহিষ্ণুতার নীতি অনুসরণ করছে।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ দুদকের সংশ্লি­ষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশেই দুদককে আইনি দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। করোনা ভাইরাস দুদকের দুই জন কর্মকর্তার মূল্যবান জীবন কেড়ে নিয়েছে। এখনো ১৫ জনের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী চিকিত্সা নিচ্ছেন। অনেকের পরিবারের সদস্যরাও করোনায় আক্রান্ত। আমি তাদের সবাইর রোগমুক্তি কামনা করি। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিত্সাসামগ্রী কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগ পেয়ে তা অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এই অনুসন্ধানটি হতে হবে নির্মোহ ও পূর্ণাঙ্গ। মানুষকে সব কিছু জানাতে হবে। তিনি আরো বলেন, ত্রাণ আত্মসাত্কারীদের আমরা আগেই সতর্ক করেছিলাম। তার পরও কতিপয় লোভী মানুষকে প্রতিরোধ করা যায়নি। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অনেকে গ্রেফতার হয়েছে।

তিনি বলেন, দুদক ২৫টি প্রাতিষ্ঠানিক টিম গঠন করেছিল মূলত বিজনেস প্রসেস রি-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে সরকারি পরিষেবা প্রাপ্তিতে জনগণের হয়রানি ও দুর্নীতি লাঘবে সংশ্লি­ষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহকে সহযোগিতা করার জন্য। বেশ কিছু প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান কিছু সুপারিশ বাস্তবায়নও করেছে। এখন কমিশন থেকে এসব কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। আমরা চাই সকলের সমন্বিত উদ্যোগে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান দুর্নীতিমুক্ত হোক। 

গতকাল দুদক চেয়ারম্যানের কাছে প্রদানকৃত দুদকের গোয়েন্দা অনুবিভাগের পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর স্বাক্ষরে প্রণীত এ প্রতিবেদনে বলা হয়, কমিশনের অনুমোদনক্রমে বিগত তিন মাসে ত্রাণ দুর্নীতি, সরকারি খাদ্য গুদামের খাদ্যসামগ্রী আত্মসাত্, অবৈধভাবে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২৩টি মামলা দায়ের করেছে কমিশন। প্রতিটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাও নিয়োগ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লি­ষ্ট কর্মকর্তাদের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোভিড-১৯-এর চিকিত্সার নিমিত্ত নিম্নমানের মাস্ক, পিপিই ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি ক্রয়সহ বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দ্রুততার সঙ্গে অনুসন্ধান করা হচ্ছে।