পাহারার নামেই ব্যয় সোয়া ২ কোটি টাকা

আপডেট : ২৬ জুন ২০২০, ২৩:২৯

অনিয়ম অব্যবস্থাপনা আর অপচয়ের কারণে গত পাঁচ বছরে সরকারি প্রতিষ্ঠান কেরুজ কৃষি খামারে লোকসান হয়েছে প্রায়  ১৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু তদারকির অভাব ও কৃষি খামারের সর্বক্ষেত্রে নানা অনিয়মের কারণে বছরের পর বছর লোকসান গুনেই যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন কেরু অ্যান্ড কোম্পানির এক প্রতিবেদন মতে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে কেরুজ কৃষি খামার লোকসান করেছে ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা।  ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩ কোটি ৫১ লাখ টাকার লোকসান হয়েছে কেরুজ কৃষি ফার্মে। জানা গেছে, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন কেরু অ্যান্ড কোম্পানি ১৯৩৮ সাল থেকে ৯টি কৃষি খামার নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। সেই সময় থেকেই চাষিদের উত্পাদিত আখের পাশাপাশি কেরুজ কৃষি খামারে উত্পাদিত আখ দিয়ে মিলটির বড় চাহিদা পূরণ হতো।

কিন্তু গত পাঁচ বছরের একটি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে জানা যায়, কেরুজ কৃষি খামারে প্রতি বছর গড়ে ১ হাজার ৫০০ একর জমিতে আখ চাষ করা হয়। যার থেকে প্রতি বছর প্রায় ২৫ হাজার টন আখ পাওয়া যায়। যার বাজার মূল্য ৭ কোটি ৭৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। এ পরিমাণ আখ উত্পাদন করতে কেরুজের প্রতিবছর গড়ে খরচ হয় ১১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এ হিসাবে প্রতিবছর এ বাবদ গড়ে ৩  কোটি ৭০ লাখ টাকা লোকসান হয়। বছরের পর বছর এ লোকসান হওয়ার পরেও কেরুজ কৃষি খামারের কার্যক্রম চালিয়ে রাখায় নানা প্রশ্ন উঠছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, কৃষি খামারে শিডিউল অনুযায়ী লেবাররা কাজ না করেই অতিরিক্ত বিল উত্তোলন, খামারের আখের জমিতে সার প্রয়োগের জন্য মিল থেকে সার উত্তোলন করার পর তা যথাযথভাবে প্রয়োগ না করে অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া, সেটআপ অনুযায়ী খামারে যে পরিমাণ পাহারাদার প্রয়োজন তার চেয়ে তিনগুণ বেশি পাহারাদারের বিল উত্তোলন করায় প্রতি বছরই খামারের লোকসান বাড়ছে।

 কেরু অ্যান্ড কোম্পানির তৈরি করা এক গোপন প্রতিবেদনে জানা গেছে,    শুধু খামারের পাহারাদারের বিল বাবদই প্রতি বছর ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়। এ টাকা সবাই মিলে ভাগ করে নেয়। প্রকৃতপক্ষে কোনো পাহারাদারই সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন না বলে ঐ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়াও আখ মাড়াই মৌসুমে খামারের আখ কাটার টেন্ডারেও ব্যাপক অনিয়ম করা হয়। প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে নিজস্ব লোকের বাইরে অন্য কাউকে টেন্ডারে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয় না। এর ফলে  আখ কাটতে উচ্চ মূল্যে ঠিকাদার নিয়োগ করে ব্যাপকহারে অর্থের অপচয় করা হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু তদারকির অভাব ও কৃষি খামারের সর্বক্ষেত্রে নানা অনিয়মের কারণে বছরের পর বছর লোকসান লেগেই আছে বলে চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে। এ অবস্থায় মিলের নিজস্ব জমিতে আখ চাষের পদ্ধতিগত পরিবর্তন দরকার বলে মনে করছেন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।