রিমান্ড শেষে কারাগারে দুই জন
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রাইভেট কোম্পানি খুলে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া জামাল হোসেন ইমন ওরফে মনিরুজ্জামান ও খালেদ নুরের দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মহানগর হাকিম ধীমান্ড চন্দ্র মণ্ডল এ আদেশ দেন। গতকাল রিমান্ড শেষে তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। গত মঙ্গলবার তাদের দুই জনের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেন। গ্রেফতার হওয়া ২০ জনকে এদিন ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। কাফরুল থানায় প্রতারণার মামলায় জামাল ও খালেদকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করে পুলিশ। অপরদিকে বাকি ১৮ জনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে বিচারক দুই জনের দুই দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং বাকি ১৮ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
প্রতারণার শিকার বেশ কয়েক জন ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব-১১-এর একটি দল গত সোমবার ঢাকার কাফরুল থানাধীন ডিওএইচএস মহাখালী এলাকার গাজী ইন্টারন্যাশনাল ও ভিশন বিজনেস সেন্টার নামের দুইটি অফিস কক্ষে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৫১টি চাকরির আবেদনপত্র, গাজী ইন্টারন্যাশনালের ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের সিল, রিক্রুটিং অফিসারের সিল, ভিশন বিজনেস সেন্টার নামীয় সিল, আইডি কার্ড, ল্যাপটপ, বিপুল পরিমাণ ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের রশিদ ও নিবন্ধন ফরমসহ নগদ অর্থ জব্দ করা হয়।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি কাউসার আহমেদ নামে একই ব্যক্তির নামে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন থেকে ‘গাজী ইন্টারন্যাশনাল লি.’ ও ‘ভিশন বিজনেস সেন্টার’ নামে দুইটি ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে মহাখালীর ডিওএইচএস এলাকায় দুইটি অফিস খোলে। বিভিন্ন পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি ফেসবুক, অনলাইন ও লিফলেটের মাধ্যমে প্রচার করে। কোম্পানির ইউনিট ম্যানেজার, ব্রাঞ্চ ম্যানেজার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার প্রভৃতি পদে ২০-৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণ-তরুণীদের প্রলুব্ধ করে। চাকরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে আবেদন ফি বাবদ ১ হাজার টাকা ও প্রশিক্ষণ বাবদ ৮-১২ হাজার টাকা করে নেয়। দুই প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত্ করেছে তারা। তবে চাকরি পাওয়ার পর মাসের পর মাস অফিসে আসা-যাওয়া করে বেতন না পেয়ে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে অনেকে টাকা ফেরত চাইলে বিপত্তি বাধে। তাদেরকে মারধর, কখনো ভয়-ভীতি দেখিয়ে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়া হয়।
