প্রিয় কচি-কাঁচা বন্ধুরা, ইংরেজি নতুন বছরের শুভেচ্ছা। নতুন বছরে সবাই নতুন শ্রেণিতে উঠেছ, সবার হাতেই নতুন নতুন বই। নতুন বইয়ের গন্ধ কী মজার তা-ই না! আশা করি সবাই পড়াশোনা শুরু করেছ। হ্যাঁ, পড়াশোনা হচ্ছে জীবনটাকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার মূল চাবিকাঠি। আর লেখাপড়ার জন্য শরীরটাকে সুস্থ রাখতে হয়। কেননা, শরীর সুস্থ থাকলে দেহ ও মন সজীব ও প্রফুল্ল থাকে। সুস্থ দেহ গঠনের উত্কৃষ্ট সময় হচ্ছে ছাত্রজীবন। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি তোমার শরীরকে সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম রাখার জন্য নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ এবং স্বাস্থ্য পরিচর্যার প্রতি বিশেষ লক্ষ রাখতে হবে।
ক্ষুধা পেলে আমরা খাবার খাই। আর খাবার গ্রহণের মাধ্যমে আমাদের দেহে পুষ্টি সাধিত হয় এবং স্বাস্থ্য ভালো থাকে। খাদ্য থেকেই এই পুষ্টি পাওয়া যায়। এই পুষ্টিই আমাদের শরীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ ঘটিয়ে শরীরকে সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম রাখে। দেহের চাহিদামতো পুষ্টিকর খাবার না খেলে মানুষ অপুষ্টির শিকার হয়। অপুষ্টির কারণে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং শরীরে বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়। অপুষ্টির কারণে একটি শিশু একদিকে যেমন দুর্বল ও স্বাস্থ্যহীন হয়; অপরদিকে তার মেধার বিকাশ হয় না, স্কুলের পড়া সহজে শিখতে ও তা মনে রাখতে পারে না। এমনকি খেলাধুলার প্রতিও তার কোনো আগ্রহ থাকে না। পুষ্টিহীন শিশুর দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। শুনে অবাক হবে যে, অপুষ্টির কারণে আমাদের দেশের শিশুরা রাতকানা, অন্ধত্ব, চর্মরোগ, ম্যারাসম্যাস, কোয়াশিয়কর, বেরিবেরি, মুখ ও ঠোঁটের কোণে ঘা, স্কার্ভি, রক্তস্বল্পতা প্রভৃতি রোগে আক্রান্ত হয়। পুষ্টিহীনতার কারণে দেশের বয়স্ক পুরুষ ও মহিলারাও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে পারে না। তাই পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলেন, শিশু, কিশোর-কিশোরী তথা পূর্ণ বয়স্ক সকল মানুষের শরীরকে সুস্থ-সবল, রোগমুক্ত ও কর্মক্ষম রাখার জন্য পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা অপরিহার্য।
পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান ছয়টি। এগুলো হচ্ছে—প্রোটিন বা আমিষ, শর্করা, স্নেহ বা চর্বি, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি। সু্স্থ দেহের জন্য সব রকম পুষ্টি উপাদানেরই পরিমিত পরিমাণে প্রয়োজন। এ ছয়টি উপাদানের মধ্যে প্রোটিন একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। মানব দেহের ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধি সাধনের জন্য প্রোটিন জাতীয় খাদ্য খাওয়া একান্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশু ও বাড়ন্ত কিশোর-কিশোরী এবং গর্ভবর্তী ও প্রসূতি মায়ের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের দরকার অত্যন্ত বেশি। মজার কথা কী জান? প্রোটিনের জন্য সব সময় প্রথম শ্রেণির খাদ্য যথা—বড় মাছ, মাংস, ডিম ও দুধ না হলেও চলে। প্রচুর ডাল, ছোট মাছ (মলা, ঢেলা ইত্যাদি), সিমের বিচি এসব খাবার গ্রহণ করেও প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ করা যায়। আর ভাত, রুটি, গোল আলু, মিষ্টি আলু ইত্যাদি খাদ্যের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় শর্করা সংগ্রহ করা যায়। এ ধরনের খাবার আমাদের শরীরে কাজ করার শক্তি জোগায়। এছাড়া পর্যাপ্ত ভোজ্য তেল, বাদাম ও মাছের তেল থেকে স্নেহ জাতীয় খাদ্যের অভাব মেটানো সম্ভব হয়। দেহে তাপ ও কর্মশক্তি সরবরাহ করা স্নেহ পদার্থের প্রধান কাজ। মাছ, মাংস, কলিজা, ডিমের কুসুম, দুধ, ঘি, মাখন এসব দামি খাবার ছাড়াও সস্তা দামের বিভিন্ন ধরনের গাঢ় সবুজ ও হলুদ রঙের শাক-সবজি ও ফলমূল বিশেষ করে পাকা পেঁপে, আম, কাঁঠাল, কলা, পেয়ারা, আনারাস, কচুশাক, পুঁইশাক, ডাঁটাশাক, পালংশাক, গাজর, টমেটো, মিষ্টি কুমড়া ইত্যাদি গ্রহণ করে ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ এবং খনিজ লবণের অভাব পূরণ করা যায়। বিজ্ঞানীরা বলেন, আমাদের দেহের সুষ্ঠু গঠন ও বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা লাভের জন্য ভিটামিন ও খনিজ লবণের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বন্ধুরা, পানির অপর নাম যে জীবন, একথা তো তোমরা নিশ্চয়ই জান। খাদ্যদ্রব্য হজম ও শরীর সুস্থ রাখার জন্য পানি পান করা দরকার। পানির সাহায্যে দেহের অনেক দূষিত পদার্থ মল, মূত্র ও ঘামের আকারে দেহ থেকে বের হয়ে যায়। পানি কম পান করলে কোষ্ঠ-কাঠিন্য হয়। তাই প্রতিদিন অন্তত ৭/৮ গ্লাস আর্সেনিকমুক্ত বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানি পান করা উচিত। আর্সেনিকযুক্ত পানি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই লাল দাগওয়ালা আর্সেনিকযুক্ত টিউবওয়েলের পানি কখনো পান করবে না। সবুজ দাগওয়ালা আর্সেনিকমুক্ত টিউওয়েলের পানি সংগ্রহ করে তা সবাই পান করবে।
বন্ধুরা, পুষ্টি বিষয়ক এ চিঠির বিষয়সমূহ অবসরে বারবার পড়ে ভালোভাবে বুঝাতে চেষ্টা করবে। আর সে মতে দেহের পুষ্টিসাধন ও সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রতিদিন নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার খাবে। দেখবে কিছুদিনের মধ্যে স্বাস্থ্য খুব সুন্দর হয়েছে এবং শরীর সুস্থ আছে। আর সুস্থ শরীর মানেই আনন্দময় সুন্দর জীবন।
