রাহু
ঘুমের বিভ্রমে আমি রেখেছি স্বপ্নের গায়ে হাত
কণ্টকিত সর্বদেহ
সে আমাকে ছুঁড়ে ফ্যালে অগ্নিকটাহে
দুলে ওঠে রোমাঞ্চিত ঘর
মশারির অন্তরালে একা এক রাহুগ্রস্ত চাঁদ
তামসভৈরবী
এ সকাল তামসভৈরব
উগ্রঘোরা চামুণ্ডা মাতঙ্গী
এ সকাল অদৈবী ত্রিশূল
বিঁধে আছে ফসলের গায়ে
আজানুলম্বিত অভিশাপ
তীর্যকরেখায় তার ক্ষত
বহু করো তাকে, ব্রীহি করো; ইথারে ভেসেছে নামগান
সূর্যবীজ ঠোঁটে তুলে চলেছে বাতাস কেটে মত্ত কুরঙ্গম
পিঠে তার বিঁধে আছে আপন শিঙের ভার
এইখানে ঊষা ও প্রদোষ একাকার
কোথায় লুকোবে তার মুখ উপমার ভারে নুব্জ একলা স্তবক
পঙক্তি ভাঙার খেলা শুধু
কোথা শাঁস কোথা তার খোসা
স্নান শেষে ডুব শেষে উঠে দেখি পাঁক ও পলিতে ঢেকে ডুবন্ত আকাশ
আনুবিস
অবগাহনের দিনে মেখেছিলে দধি ও নবনী
কূটকক্ষে গান গায় পাখির নিভন্ত ঠোঁট
আনুবিস শিবামুখ এ কোন দেবতা এলে
উপচে উঠছে নদী লোহা-লোহু-ধাতুমল
কাকে-চিলে ঠুকরে খায় বটছায়া, গূঢ় নিমফুল
চকমকি
কাঠঠোকরার স্বর উঠে আসে বাকল ফাটিয়ে
কাঁটাখসা সূর্যঘড়ি
সময় দাঁড়িয়ে আছে স্থির
তবে কি বিপরীতবিহারে যাব
মুখে তুলে নিয়ে যাব ভাটালাগা চাঁদ
অম্লগন্ধ। সিট্রোনেলা ঘাস
চুষে খাব রোদের সাধনা
নিয়ে আসি চকমকি; ঘষা লেগে জ্বলছে অক্ষর
