চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ঠাকুরপুর সীমান্তে দুই বাংলাদেশী গরু ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ’র বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই দুই গরু ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নির্যাতনের শিকার গরু ব্যবসায়ীরা হলেন- ঠাকুরপুর বাজারপাড়ার মৃত ইছাহাক আলীর ছেলে কদম আলী (৩৫) ও একই এলাকার মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে বাবু ওরফে কালু (৩০)। এরমধ্যে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কদম আলীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়রা জানান, কদম আলী ও বাবু দু’জন গরু পাচারকারীর সাথে জড়িত। গতকাল রাতে গরু আনতে ঠাকুরপুর সীমান্তের ৮১ নং মেইন পিলারের আশপাশ দিয়ে ভারতে প্রবেশ করার সময় তাদেরকে পিটিয়ে জখম করে বাংলাদেশের সীমানায় ফেলে রেখে যায় বিএসএফ সদস্যরা। পরে তাদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আরো পড়ুনঃ সাতকানিয়ায় হত্যা মামলার আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত
হাসপাতালে আহত বাবুর শয্যাপাশে থাকা তার মা রশিদা খাতুন বলেন, গতকাল শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে সীমান্তে গরু আনতে যায় বাবু ও কদম। বিএসএফ’র সদস্যরা তাদেরকে মারধর করে গুরুতর জখম করে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাদেরকে ঠাকুরপুর সীমান্তের অদূরে বাংলাদেশী সীমানা থেকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহত দু’জনের শারীরিক খবর জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহাবুবুর রহমান জানান, আহত কদম আলীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার পিঠে ৩ টি ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। তার ডান হাতের কনুইয়ে ক্ষত আছে, ডান পায়ে ক্ষত আছে। তার শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান জানান, আহত বাবু নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রথমে ঠাকুরপুর ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়। সীমান্তের অপার থেকে গরু আনার বিষয়টি সে স্বীকার করেছে। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর নেপথ্যে অন্য কোন ঘটনা আছে কি না ? তা তদন্ত করা হচ্ছে।
ইত্তেফাক/এমএএম
