সাহিত্যের সালতামামি ২০১৮

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:০৯

সাহিত্যের ‘সালতামামি’ বলতে বছরের সমাপ্তিকে কেন্দ্র করে সাহিত্যের বিশেষ কিছু সংবাদভিত্তিক কথামালাকে বোঝায়—যেখানে সৃজনশীল রচনা, ব্যক্তিত্ব এবং সাহিত্যের আয়োজন-উপলক্ষকে মূলত আলোকপাত করা হয়। বিগত একটি বছরের আলোচিত বা উল্লেখযোগ্য, ভালো-মন্দ খবর বা গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক সংক্ষেপে এই বিবরণে প্রাধান্য পায়। সাহিত্যের সালতামামি’র কথা বিস্তারিত লিখতে গেলে প্রথমেই আসে নোবেল পুরস্কার স্থগিতের দুঃখজনক ঘটনার কথা। ২০১৮ সালে ‘সুইডিশ একাডেমি’ সাহিত্যে ‘নোবেল পুরস্কার’ প্রদান করেনি। তবে ২০১৯ সালে সাহিত্যে দুটি পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। একটি ২০১৮ ও অপরটি ২০১৯ সালের জন্য। সুইডিশ অ্যাকাডেমির সদস্য কাটারিনা ফ্রস্টেনসনের স্বামী জাঁ-ক্লোদ আর্নোর বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগ সংক্রান্ত ‘সংকট’-এর কারণেই নাকি এই পুরস্কার স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর্নোর বিরুদ্ধে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত ব্যক্তিদের নাম ফাঁস করারও অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে ফ্রস্টেনসন নিজে নোবেল কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন। তবে তিনি সুইডেনের সাংস্কৃতিক মহলের একজন প্রভাবশালী নারী। অবশ্য তিনি সব ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করলেও সুইডিশ একাডেমি স্বীকার করেছে যে, ‘অগ্রহণযোগ্য আচরণ’ ঘটেছে, এতে একাডেমির সুনামের যে হানি ঘটেছে, তা রোধ করা যায়নি—যে কারণে একাডেমি দৃশ্যত এ বছরের নোবেল সাহিত্য পুরস্কার স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। সুইডিশ একাডেমি আরো উল্লেখ করেছে যে, নোবেল সাহিত্য পুরস্কার ঘোষণা পিছিয়ে দেওয়ার ঘটনা এই প্রথম নয়। ১৯১৫, ১৯১৯, ১৯২৫, ১৯২৬, ১৯২৭, ১৯৩৬ এবং ১৯৪৯ সালে একটি ‘সংরক্ষিত পুরস্কার’ ঘোষণা করা হয় ও তার মধ্যে পাঁচটি পুরস্কার পরের বছরের পুরস্কারের সঙ্গে একযোগে প্রদান করা হয়েছিল। তবে পুরস্কার স্থগিত করা হলেও এর বিকল্প হিসেবে ২০১৮ তে প্রদান করা হয়েছে ‘নিউ একাডেমি প্রাইজ’। ফ্রান্সের কথাসাহিত্যিক ম্যারিস কোনডে এ পুরস্কার লাভ করেন।

 

২.

সাহিত্যের ক্ষেত্রে আমাদের দেশে বছরের (২০১৮) প্রথম অনুষ্ঠান ও সৃজনশীলতার ময়দানটি উন্মুক্ত হয় ১ ফেব্রুয়ারিতে। একইদিন সকালে ‘জাতীয় কবিতা উত্সব’ শুরু হয় এবং বিকেলে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেন ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’। ‘দেশহারা মানুষের সংগ্রামে কবিতা’ স্লোগানে বাংলাদেশসহ নয়টি দেশের কবিদের মানবিক-মর্মন্তুদ সব কবিতা নিয়ে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলেছে জাতীয় কবিতা উত্সব। এই আসরটি কবিতা উত্সবের ৩২তম আসর ছিল। জাতীয় কবিতা পরিষদের পক্ষ থেকে পুরস্কারের প্রচলন করা হয়েছে। উত্সবের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রতি এক বছর অন্তর কবিতা পরিষদ একজন কবিকে পুরস্কারটি প্রদান করবে। কাব্যক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখায় ‘কবিতা পরিষদ পুরস্কার-২০১৮’ পেয়েছেন কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী। উল্লেখ্য, কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী ২০ ডিসেম্বর বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। 

অন্যদিকে বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে গ্রন্থমেলা তিন দশক পেরিয়ে এখন বিশ্বের দীর্ঘস্থায়ী বইমেলা হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্য-তালিকায় স্থান পাওয়ার দাবিদার হয়ে উঠেছে। আবার ২০১৯ সালে একুশের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি (আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস) লাভের ২০ বছর পূর্ণ হবে। ২০১৮ সালে মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলায় সব মিলিয়ে ৭০ কোটি ৫০ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। এই মেলায় চার হাজার ৫৯১টি নতুন বই প্রকাশিত হয়। এগুলোর মধ্যে মাত্র ৪৮৮টি বইকে ‘মানসম্পন্ন’ মনে করেছে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ। নতুন বইয়ের মধ্যে কবিতার বইয়ের সংখ্যা ছিল বেশি। ‘অমর একুশে’ বইমেলা চলাকালীন প্রতিদিন বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা সভা, কবিতা পাঠের আসর, লেখক আড্ডাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন করে থাকে বাংলা একাডেমি। সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভাষার চেতনাকে গৌরবান্বিত করা হয়। সাবেক মহাপরিচালক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখক শামসুজ্জামান খানের আমলে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বই প্রকাশিত হয়েছে বাংলা একাডেমি থেকে। শেখ হাসিনার উত্সাহে এই মহাপরিচালক ২০১৮ সালে প্রকাশ করেন বঙ্গবন্ধুর ‘কারাগারের রোজনামচা’ গ্রন্থটি। পাঠকমহলে গ্রন্থটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

অন্যান্য বছরের মতো ২০১৮ সালের ২২ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে বাংলা একাডেমিতে ‘আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন’-এর আয়োজন করা হয়। উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালে বিশ্বের খ্যাতনামা কবি-লেখক-পণ্ডিতদের অংশগ্রহণে ‘বাংলা একাডেমি’ প্রাঙ্গণে প্রথম বাংলা সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এর উদ্বোধন করেছিলেন। এবারের সম্মেলনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বেশকিছু দেশের নামকরা লেখকবৃন্দ অংশ নিয়েছেন।

সাহিত্যের সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানটির সম্পর্ক অতি গভীর। কেবল ভাষা আন্দোলন ও একুশের চেতনায় গ্রন্থমেলা নয়, এই প্রতিষ্ঠান থেকে সাহিত্যিকরা স্বীকৃতি পেয়ে নিজেকে গৌরবান্বিত মনে করেন। ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’সহ অন্যান্য কতগুলো স্বীকৃতিমূলক অনুষ্ঠান পরিচালনা করে যেখানে কবি-সাহিত্যিকদের অংশগ্রহণ থাকে উত্সাহব্যঞ্জক। ১৯৬০ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রবর্তিত হয়। এ পর্যন্ত ১০৭ জন এই প্রতিষ্ঠানের ফেলোশিপ পেয়েছেন। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের জন্ম-মৃত্যুতে নিয়মিত আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে একাডেমি। সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় ২০১৮ সালের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে ঘোষিত ২০১৭ সালের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন ১০ বিভাগে ১২ জন বিশিষ্ট কবি, লেখক ও গবেষক। পুরস্কারপ্রাপ্তদের কয়েকজন হলেন—কবিতায় মোহাম্মদ সাদিক ও মারুফুল ইসলাম, কথাসাহিত্যে মামুন হোসাইন, প্রবন্ধে অধ্যাপক মাহবুবুল হক, গবেষণায় রফিকউল্লাহ খান, অনুবাদসাহিত্যে আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যে কামরুল ইসলাম ভূঁইয়া ও সুরমা জাহিদ, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিতে মোশতাক আহমেদ, নাটকে মলয় ভৌমিক। এছাড়া গুণীজনদের স্মৃতিতে ২০১৮ তে চারটি ‘স্মৃতি পুরস্কার’ দিয়েছে বাংলা একাডেমি। এগুলো হলো—‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’, ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’, ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’, ‘শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’। ‘আয়েশা ফয়েজ সাহিত্য পুরস্কার’ও ঘোষণা করা হয়েছে।

 

৩.

বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিককে ‘একুশে পদক ২০১৮’ প্রদান করা হয়েছে। তার মধ্যে ‘ভাষা ও সাহিত্য’ ক্যাটাগরিতে পেয়েছেন ৫ জন—কবি হায়াত্ সাইফ, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, সুব্রত বড়ুয়া, রবিউল হুসাইন, খালেকদাদ চৌধুরী। এঁরা প্রত্যেকেই সৃজনশীলতার দুনিয়ায় পরিচিত ব্যক্তিত্ব।

‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০১৮’ পেয়েছেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই একমাত্র সাহিত্য-ব্যক্তিত্ব। সেলিনা হোসেন ২০১৮ সাল জুড়ে দেশ-বিদেশের অনেকগুলো অনুষ্ঠানে যোগদান করেছেন। তিনি এবং সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক সেপ্টেম্বরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিলিট ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি (সেলিনা হোসেন) ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই সাহিত্যের সেমিনার-সিম্পোজিয়াম এবং বইমেলা ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের বক্তা হিসেবে ভ্রমণ করেছেন কানাডা, ভারত ও ইউরোপের অনেক দেশ। কানাডায় গেছেন বইমেলা উদ্বোধন করতে; ভারতের কলকাতা, শান্তিনিকেতন ও দিল্লিতে ছুটেছেন অতিথি হয়ে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হিসেবে মে মাসে শান্তিনিকেতনে ‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধনে অন্য অনেক সাহিত্যিকের সঙ্গে তিনিও ছিলেন। ২৫ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর ভারতের পুনেতে লেখক, ব্লগার ও সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন পেন ইন্টারন্যাশনালের ৮৪তম কংগ্রেসে যোগ দেন ‘পেন বাংলাদেশ’-এর প্রেসিডেন্ট, কথাসাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। সেখানে নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিকসহ বিশ্বের প্রায় ১৪০টি শাখার খ্যাতিমান সাহিত্যিক ও সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।

?২৬ অক্টোবর বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম ‘ঢাকা ট্রান্সলেশন ফেস্ট’। বাংলাদেশের সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এবং ভারতের এস সি নারুলাকে ‘ঢাকা ট্রান্সলেশন ফেস্টিভ্যাল পুরস্কার ২০১৮’ প্রদান করা হয়। দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন দেশ-বিদেশের ১৭০ জন কবি, কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক। অন্যদিকে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর আন্তর্জাতিক সাহিত্য উত্সব ঢাকা লিটের্যারি ফেস্টিভ্যাল সংক্ষেপে ‘ঢাকা লিট ফেস্ট’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যদিও এর মূল আয়োজক সংস্থা ‘যাত্রিক’। তবে বাংলাদেশ সরকারের সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় এই ফেস্টিভ্যালের পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকে। ৮ নভেম্বর বাংলা একাডেমি চত্বরে শুরু হয় তিন দিনব্যাপী অষ্টম ঢাকা লিট ফেস্ট। বাংলাদেশের প্রায় দেড়শ’ লেখক, অনুবাদক, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ ছাড়াও এতে অংশ নেন পুলিত্জার বিজয়ী মার্কিন সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ অ্যাডাম জনসন, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্র্রিটিশ লেখক ও কলামিস্ট মোহাম্মদ হানিফ, ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক ফিলিপ হেনশের, বুকার বিজয়ী ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক জেমস মিক, লন্ডন ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব রাইটিংয়ের পরিচালক ও কথাসাহিত্যিক রিচার্ড বিয়ার্ড, ভারতীয় লেখক হিমাঞ্জলি শংকর ও জয়শ্রী মিশরা,  শিশুসাহিত্যিক মিতালি বোস পারকিন্স, ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল এশিয়ার প্রধান হুগো রেস্টল, মার্কিন সাংবাদিক প্যাট্রিক উইন, লেখক ও সাংবাদিক নিশিদ হাজারি প্রমুখ। কথাসাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এসেছিলেন কলকাতা থেকে। ছিলেন অস্কার বিজয়ী অভিনেত্রী টিলডা সুইন্টন। অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা এবং অভিনেত্রী ও অ্যাক্টিভিস্ট নন্দিতা দাস বক্তব্য দিয়ে অভিভূত করেন দর্শক-শ্রোতাকে।

 

৪.

এবার বাংলাদেশ শিশু একাডেমী অগ্রণী ব্যাংক শিশু সা?হিত্য পুরস্কার পেলেন উপ-পুলিশ কমিশনার মোশতাক আহমেদ। ২০১৭ সালে প্রকাশিত ‘রি?বিট ও দুলাল’ প্যারাসাই?কোল?জি সা?য়েন্স ফিকশন উপন্যা?সের জন্য তিনি এই পুরস্কার পান।

 

৫.

সাহিত্যের উত্সব এবং পুরস্কারের আনন্দের পাশে বেশকিছু মৃত্যুসংবাদ আমাদের শহীদ মিনার এবং বাংলা একাডেমির বটতলায় টেনে নিয়ে গেছে। কেবল দেশে নয়, বিশ্বসাহিত্যের অনেককে আমরা ২০১৮ সালে হারিয়েছি। কথাসাহিত্যিক শওকত আলী প্রয়াত হলেন ২৫ জানুয়ারি। ১৯৬৮ সালে তিনি বাংলা একাডেমি এবং ১৯৯০ সালে সাহিত্যে অবদানের জন্য একুশে পদকে ভূষিত হন। কবি বেলাল চৌধুরী প্রয়াত হলেন ২৪ এপ্রিল। তিনি ১৯৮৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ২০১৪ সালে একুশে পদক পান। ২৭টি উপন্যাস ও ১৪টি অন্যান্য বইয়ের রচয়িতা এবং সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক আফসার আমেদের কলকাতায় মৃত্যু ঘটে ৩ আগস্ট। ২৫ ডিসেম্বর ৯৪ বছর বয়সে দক্ষিণ কলকাতায় প্রয়াত হলেন কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। ১৯৭৪ সালে তিনি সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ৩০ ডিসেম্বর পরপারে চলে গেলেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার মৃণাল সেন। তিনি ১৯২৩ সালের ১৪ মে বাংলাদেশের ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন।  

১৯৭১ সালে বুকার এবং ২০১১ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাওয়া ভি এস নাইপল ৮৫ বছর বয়সে ১১ আগস্ট পরলোক গমন করেন। স্যার বিদ্যাধর সূর্যপ্রসাদ নাইপল ২০১৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সাহিত্য উত্সব ‘ঢাকা লিটারেরি ফেস্টিভ্যাল’-এর ষষ্ঠ পর্বে অংশ নিয়েছিলেন। নোবেলজয়ী এই লেখক ৩০টিরও বেশি বই লিখেছেন। 

৬ মার্চ স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী মারা গেলেন ৭১ বছর বয়সে। তিনি ভাস্কর ও লেখক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০১৪ সালে একুশের বইমেলায় তাঁর আত্মজৈবনিক গ্রন্থ ‘নিন্দিত নন্দন’ প্রকাশিত হয়। ১৯৮৫ সালে একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী সৈয়দ জাহাঙ্গীর ২৯ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী শাম্মী আখতার (১৯৫৫-২০১৮) মারা গেছেন ৬ জানুয়ারি। ৭৯ বছর বয়সে একাত্তরের বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরী ৯ সেপ্টেম্বর প্রয়াত হন। ‘’৭১ এর জননী’, ‘এক হাজার এক দিন যাপনের পদ্য’, ‘ভাব বৈচিত্র্যে রবীন্দ্রনাথ’সহ ১৯টি বই লিখে গেছেন তিনি। 

সাহিত্যিক এবং জাতীয় অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলাম ৯ এপ্রিল ৯২ বছর বয়সে প্রয়াত হন। তাঁর প্রবন্ধ-সঙ্কলন ও গবেষণাগ্রন্থের সংখ্যা ৩০টিরও বেশি। ‘সুন্দরম’ নামে একটি ত্রৈমাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন তিনি। ১৫ ডিসেম্বর চিরবিদায় নিলেন লেখক ও চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেন।

 

৬.

উত্সব, অনুষ্ঠান, পুরস্কার আর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সাহিত্যের একটি বছর অতিবাহিত হলো। বাংলাদেশে ২০১৮ সালে প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে বিপুল সংখ্যক তরুণদের বই বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গতি-প্রকৃতিকে দিক-নির্দেশনা দিচ্ছে কি-না সে সম্পর্কে আরো বিশ্লেষণের অবকাশ আছে। অবশ্য কোনো কোনো তরুণের প্রথম বই নাড়া দিয়েছে পাঠকগোষ্ঠীকে। সাহিত্যের জন্য এটা সুখবর বৈকি। আসলে বইমেলা, সাহিত্য উত্সব আর নিভৃতে সাহিত্যচর্চা সব মিলে ২০১৮ সাল ছিল প্রাণবন্ত। তবে আগামী বছর সাহিত্যের ক্ষেত্রে আরো বেশি সৃষ্টিশীলতা ও ভাষার কারুকার্য দেখতে চাই আমরা।