পহেলা জুলাই থেকে সুন্দরবনের নদী-খালে দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ

আপডেট : ২৭ জুন ২০২০, ২১:৩৭

খাদ্যসংকটের আশঙ্কায় জেলেরা

শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা

পহেলা জুলাই থেকে দুই মাস সুন্দরবনের নদী-খালে মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সুন্দরবন বিভাগ। বিকল্প কর্মসংস্থান না করে বন বিভাগের এমন সিদ্ধান্তে জীবন-জীবিকার অনিশ্চয়তায় জেলেদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীন জানান, জুলাই ও আগস্ট মাস হচ্ছে মত্স্য প্রজননের জন্য উপযুক্ত মৌসুম। এই সময় সাধারণত সব মাছে ডিম ছাড়ে। তাই প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও ১ জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত দুই মাস সব প্রকার মত্স্য আহরণ বন্ধ থাকবে। সুন্দরবনের মত্স্য সম্পদ রক্ষায় ইন্টিগ্রেটেড রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানস এর (আইআরএমপি) সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৯ সালে এ সিদ্ধান্ত নেয় বন বিভাগ। এর ফলে সুন্দরবনে এ দুই মাস নিরাপদে মত্স্য প্রজনন ঘটে থাকে। পূর্ব সুন্দরবনের ২ লাখ ৩৪ হাজার একশত ৪৭ বর্গ কিলোমিটার বনভূমির মধ্যে দুই শতাধিক নদী ও খাল রয়েছে। এর মধ্যে অভয়ারণ্য এলাকাসহ ১৮টি খাল এবং ২৫ ফুটের কম প্রশস্ত খালে সারা বছর মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। এছাড়া মত্স্য প্রজননের জন্য জুলাই ও আগস্ট দুই মাস সব খালে মত্স্য আহরণ বন্ধ করা হয়।  উপজেলার বকুলতলা গ্রামের জেলে নুর ইসলাম মুন্সি, সোনাতলা গ্রামের জেলে আসাদুল মাতুব্বর, খুড়িয়াখালী গ্রামের জেলে হাবিব হাওলাদার ও জামাল হাওলাদার জানান, আমরা ৩০/৪০ বছর ধরে বংশ পরম্পরায় সুন্দরবনে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। এখন মাছ ধরা বন্ধ করে দিলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে। সরকার আমাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিলে আমরা আর সুন্দরবনে যাব না। শরণখোলার মত্স্য ব্যবসায়ী মাহাবুব হোসেন সেলু ও জালাল মোল্লা জানান, প্রায় ২ হাজার পারমিটধারী জেলে মত্স্য আহরণ করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। এ মত্স্য আহরণের ওপর প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। এ বছর দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকলে জেলেরা ছেলেমেয়ে নিয়ে না খেয়ে থাকবে। তাই এ বছর জেলেদের মাছ ধরার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তারা। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বেলায়েত হোসেন জানান, মত্স্যসম্পদ রক্ষায় প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও একই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। তবে করোনাকালীন সময়ে জেলেদের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।