একটি অধরা কবিতা

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:১৪

একটি  অধরা কবিতা আমার চারপাশে বৃত্তের মতো আবর্তিত হয়

দৌড়য়, কখনো শ্লথপায়ে হাঁটে

মনে হয় ছুঁয়ে ফেলছি, ধরে ফেলছি তাকে সহসা

তবু সে পাশকাটানো নারীর মতো উপেক্ষায় থাকে অবিরত।

 

যেভাবে শৈশবের চাঁদ হেঁটে যেত কিংবা আকাশ

কিংবা স্বপ্নের মতো উল্লাসে

ইকারুশের মতো ডানাওয়ালা উড়তে উড়তে শৃঙ্গের সমান্তরালে

অতঃপর বিধ্বস্ত ডানায় পতনের পর পতনে হূত্কম্প-তাড়িত।

 

যদিও কবিতা ছুঁয়ে এখনো

ফসল থেকে চুইয়ে রক্ত গড়াচ্ছে জমিতে, তবু

আলপথ জুড়ে সেই পুরাতন গান

গ্রামগুলোর ওপারে আগের মতোই আকাশ নেমেছে

শুকনো নদীর ওপর অর্ধেক হওয়া সেতুগুলো দুলছে

                                        কাঁচা বাঁশের সাঁকোর স্মৃতিভারে।

 

অনঙ্গ অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে

প্রাগৈতিহাসিক জ্যোত্স্নায় ভাসা রাত

                    হাহাকারের ভেতর রুপালি সব কান্না।

অর্জনের মুঠো থেকে বেরিয়ে যাওয়া উত্তরাধিকার

রক্তে গাঁথা মানুষের বসত, বাস্তুচ্যুতি, অভিবাস

                                        স্বপ্নভঙ্গ, ব্যর্থতা, ভাঙন।

 

ধুলোবালিমাখা প্রবাহের পর প্রবাহ আর

এক অসহ্য নৈঃশব্দ্য চাপা পাথরের মতো ঘিরে থাকে

যেন দেহাতি হাওয়ায় উড়ে আসে নানাবর্ণ ফড়িঙের ঝাঁক

                      শব্দহীন উড়ে তারা স্বরচিত জীবনের কলরবে।

 

মানুষও পরিযায়ী হয়

কুয়াশার রহস্য চাদর জড়িয়ে বসে থাকে

তলিয়ে যায়, যেতে থাকে

একাকীত্ব, অন্তর্দ্বন্দ্ব ও অ্যাবসার্ডিটির ভেতর ।

 

গ্রাস করে দ্বন্দ্ব, রাজনীতি, মিথ্যাচার আর তঞ্চকতা

ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় বিশাল একান্নবর্তী সব উঠোন

বাঁশপাতার ছায়ায় লাফিয়ে-পড়া দীর্ঘ জ্যোত্স্না

তুমুল লিবিডো চৈতন্যে ডুবে যায় আত্মমগ্ন সময়।

 

পাকিয়ে ওঠে একটি ঘন, কুয়াশাচ্ছন্ন ভবিষ্যত্

                                    আবেগহীন, নির্লিপ্ত, যান্ত্রিক

সমস্ত লিরিক, সমস্ত স্বতস্ফূর্ততা একটি বিমূর্ত মূর্তির মতো স্থির

সারসার পাথরের মতো অবিচল।

 

এইসব নিয়ে একটি অধরা কবিতা কেবল হাঁটে

চারপাশে বৃত্তের মতো আবর্তিত হয়

চাপা আত্মবিস্মৃতির ভেতর নিয়ত দৌড়য়

পাশকাটানো নারীর মতো উপেক্ষায় থাকে অবিরত।