বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের দুই দশক

আপডেট : ২৭ জুন ২০২০, ২১:৫০

বর্তমানে ৮৮ পয়েন্ট লইয়া ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের র্যাংকিং সপ্তম। টি-টুয়েন্টিতে অষ্টম। আর ক্রিকেটের আদি ও মূল ভার্শন টেস্টে নবম। ওয়ানডেতে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের উপরে রহিয়াছে। এই ক্ষেত্রে বেশকিছু নজরকাড়া সাফল্য যে নাই তাহা নহে। টি-টোয়েন্টিতেও আমরা রহিয়াছি ওয়েস্ট ইন্ডিজের উপরে; কিন্তু তুলনামূলকভাবে পিছাইয়া রহিয়াছি টেস্টে; কিন্তু কেন? বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরীর মতে, বিসিবিতে অনিয়ম আর জবাবদিহিতার অভাব থাকায় আমাদের এই ধরনের অবস্থার তৈরি হইয়াছে। ১৯৯৯ সালের ২৬ জুন বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস পায়। এই সময় তিনি ছিলেন বিসিবির সভাপতি। সেই সময় আইসিসির সভাপতি ছিলেন প্রয়াত জগমোহন ডালমিয়া। টেস্ট স্ট্যাটাস লাভে তাহার অবদানও চিরস্মরণীয়। মূলত ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশে আইসিসি মিনি বিশ্বকাপের সফল আয়োজন, ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়লাভ এবং ক্রিকেট কূটনীতির সাফল্যের পথ ধরিয়া বাংলাদেশ ক্রিকেটের অভিজাত টেস্ট অঙ্গনে প্রবেশ করে। ইতিমধ্যে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর ২০ বত্সর অতিবাহিত হইয়াছে; কিন্তু পিছনে ফিরাইয়া তাকাইলে দেখা যায় চাওয়া-পাওয়া ও বাস্তবতার মধ্যে অনেক ফারাক।

টেস্ট ক্রিকেটে এখনো টাইগাররা সংগ্রাম করিতেছেন, সাধনা করিতেছেন। পরিসংখ্যানও বলিতেছে সেই কথা। গত দুই দশকে আমরা ১১৯টি টেস্টে মাত্র ১৪টি জয় পাইয়াছি। ৮৯টি টেস্ট ম্যাচেই পরাজিত হইয়াছি। ড্র করিয়াছি ১৬টি ম্যাচে। আরো বিস্ময়ের ব্যাপার হইল, আমরা যেই সকল টেস্ট ম্যাচ জিতিয়াছি তাহার অর্ধেকই (সাতটি) খর্বশক্তির জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে। তাহার পরও অনেকে মনে করেন, আমাদের হতাশ হওয়ার কিছু নাই। সবকিছুর মতো ক্রিকেটেও উত্থানপতন রহিয়াছে। আমাদের আগামীতে আরো ভালো করিবার সুযোগ আছে। বিশেষ করিয়া ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে হারানো অনেকে বড় সাফল্য হিসাবে বিবেচনা করেন। টেস্ট খেলিবার মাধ্যমে বাংলাদেশ সাকিব আল হাসানের মতো বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার এবং তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমের মতো খ্যাতিমান ব্যাটসম্যান পাইয়াছে। পাইয়াছে মুমিনুলের মতো ধারাবাহিকভাবে সফল ব্যাটসম্যান এবং রফিক, সাকিব ও তাইজুলের মতো স্পিনার; কিন্তু বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে সফল পেস বোলারের অভাব বোধ করিয়াছে বরাবরই। তাহার চাইতে বড় কথা হইল, এত দীর্ঘ সময়ে বাংলাদেশ টেস্ট খেলিবার সুযোগও পাইয়াছে কম। প্রতি বত্সর গড়ে ছয়টি টেস্ট ম্যাচও খেলার সৌভাগ্য হয় নাই।

টেস্ট ক্রিকেটে উন্নতি লাভ করিতে হইলে আমাদের ধারাবাহিকভাবে ও অধিক সংখ্যক টেস্ট খেলিবার ব্যবস্থা করিতে হইবে। অত্যন্ত দুঃখজনক খবর এই যে, বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির কারণে অন্যান্য খেলাধুলার মতো ক্রিকেট জগতেরও প্রচুর ক্ষতি হইয়াছে। করোনার পেটে বিলীন হইয়াছে এখন অবধি আটটি টেস্ট ম্যাচ। এই বত্সর বাংলাদেশের সূচিতে আর কোনো টেস্ট খেলা নাই। স্বাভাবিক কারণে টেস্ট ক্রিকেটারগণ হতাশ। তবে করোনার দুর্যোগ চলিয়া যাওয়া মাত্রই আবার সুযোগ তৈরি হইবে বলিয়া আমরা আশা করি। টেস্ট ক্রিকেটে উন্নতির জন্য দরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। ইহার সহিত যোগ্য ব্যক্তিদের উপযুক্ত জায়গায় অধিষ্ঠিত করিতে হইবে। যাহারা পেশাদার ও সফল টেস্ট ক্রিকেটার তাহাদের অভিজ্ঞতা ও মেধার মূল্য দিতে হইবে। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ২০ বত্সর পূর্তি উপলক্ষ্যে আমরা ক্রিকেটারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি জানাই শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।