‘নিউ নরমালে’ আমরা যেন পিছাইয়া না পড়ি

আপডেট : ২৭ জুন ২০২০, ২১:৫০

কিছু কিছু ঘটনা সারা বিশ্বের মানুষের জীবনে শত বত্সরের মধ্যে সবচাইতে বেশি ছাপ রাখিয়া যায়। যেমনটি ছাপ রাখিয়াছিল গত শতাব্দীর দুইটি বিশ্বযুদ্ধ। করোনা ভাইরাসও তেমনি এক যুগান্তকারী সময়ের সাক্ষী হইয়া থাকিয়া যাইতেছে। করোনা শিগিগর যাইবেও না, আবার জীবন বাঁচাইতে জীবনের স্বাভাবিক কাজকর্মও শুরু করা প্রয়োজন—এমনি এক জটিল পরিস্থিতিতে সারা বিশ্বের সামনে ‘নিউ নরমাল’ জীবন শুরু করিবার প্রয়োজন দেখা দিয়াছে। করোনা ভাইরাসই ঠিক করিয়া দিতেছে এই নিউ নরমালের নিয়মকানুন। এই নিউ নরমালের প্রধান অবলম্বনই হইল তথ্যপ্রযুক্তি।

তথ্যপ্রযুক্তি কত বড় আশীর্বাদ এই বিশ্বের জন্য, তাহা করোনার সময় আসিয়া মর্মে মর্মে উপলব্ধি করা যাইতেছে। পৃথিবীতে নানান সময়ে এমন মহামারি আসিয়াছে। আজি হইতে শতবর্ষ পূর্বেও মহামারি হইয়াছিল। ছোঁয়াচে রোগ, কোয়ারেন্টাইন, দূরত্ব মানিয়া চলিবার ব্যাপারটি তখনো ছিল। তবে যোগাযোগব্যবস্থায় এখনকার মতো বিপ্লব ঘটে নাই বিধায় মহামারি ছড়াইয়া পড়ে ধীরে ধীরে; কিন্তু এখন যোগাযোগব্যবস্থায় ফিজিক্যালি যেমন বিপ্লব ঘটিয়াছে, তেমনি আরো বড় বিপ্লব ঘটিয়াছে ভার্চুয়াল যোগাযোগে। কেবল এই ভার্চুয়াল যোগাযোগব্যবস্থা এইভাবে আবিষ্কৃত না হইলে সারা বিশ্বে করোনাসৃষ্ট অর্থনৈতিক মহামন্দা আরো অনেক বেশি গভীর হইত। সত্যিকার অর্থে, এই বিশ্ব এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফরমের কারণেই করোনার বিরুদ্ধে তুলনামূলক সহজে যুদ্ধ চালাইয়া যাইতে পারিতেছে। এই জন্য লকডাউনে জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখিতে বিশ্বের কোথাও কোথাও মানুষকে ফ্রি ইন্টারনেট সার্ভিসও দেওয়া হইয়াছে। ধারণা করা হইতেছে, ইহা বদলাইয়া দিতে যাইতেছে ভবিষ্যতের কাজের ধরনও। বিশ্বের বিভিন্ন শহরে স্বাভাবিক সময়ে রাস্তার যেই ভোগান্তি হইত, যানজট ঠেলিয়া অফিসে যাইতে হইত, এখন অনেক কাজই অনলাইনে খুব স্বাভাবিকভাবেই সম্পন্ন করা সম্ভব হইতেছে। আসলে প্রয়োজনই আবিষ্কারের জননী। সেইভাবেই করোনার সময় ইন্টারনেট প্রযুক্তি আমাদের নূতন স্বাভাবিক জীবন উপহার দিতে পারিতেছে। ই-মেইল, ফেসবুক, ইউটিউবের ঘেরাটোপ হইতে বাহির হইয়া প্রযুক্তি এখন জীবনযাপনের অন্যতম অবলম্বন হইয়া উঠিয়াছে। জুম, গুগল মিট কিংবা ফেসবুকের মেসেঞ্জারে গ্রুপ চ্যাটে চলিতেছে মিটিং। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অনলাইনের মাধ্যমে সারাদেশে মিটিং করিতেছেন। মন্ত্রীর ব্রিফিং, সংবাদ সম্মেলন—সকল কিছুই চলিয়া আসিয়াছে অনলাইনে, প্রযুক্তির আওতায়। এমনকি টেলিভিশনের টকশোগুলিতেও অতিথিরা অংশ লইতেছেন নিজ নিজ গৃহে অবস্থান করিয়া।

করোনাকাল সারা বিশ্বের মানুষকেই নূতন পৃথিবীর সামনে, নূতন জীবনযাত্রার সহিত পরিচয় করাইয়া দিয়াছে। এই জন্যই বিশ্বব্যাপী এই করোনাকালকে বলা হইতেছে ‘নিউ নরমাল লাইফ’। যেহেতু করোনার কারণে বিশ্বে কর্মসংস্থানের প্রেক্ষাপট বদলাইয়া যাইতেছে, সেই কারণে দেশের সকল প্রান্তে প্রয়োজন উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সুবিধা এবং তাহা যেন হয় সাশ্রয়ী মূল্যে। এখনো মোবাইল ইন্টারনেটের মূল্য আমাদের দেশে ভারতের তুলনায় বহু গুণ বেশি। জানা গিয়াছে, সরকার গ্রাম পর্যায়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করিতেছে। ইতিমধ্যে ১ হাজার ২০০ ইউনিয়নে ব্রডব্যান্ড সুবিধা পৌঁছাইয়াও গিয়াছে। এই সকল সুবিধা কার্যকর করিতে হইবে বিশেষ গুরুত্বসহকারে। সারা বিশ্বের সহিত তাল মিলাইয়া নিউ নরমালে ঢুকিয়া পড়িতে আমরা যেন পিছাইয়া না যাই।