আমাদের দেশে কি আদৌ ইনফেকশন কন্ট্রোল নামে কোনো ডিপার্টমেন্ট আছে? যেটি স্বাস্থ্যক্ষেত্রে অতি গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বাইরে কাজ না করতে এলে হয়তো এই বিভাগ সম্পর্কে জানাই হতো না। উন্নত দেশগুলোতে অতি সতর্ক পদক্ষেপ নেওয়ার পরও শতভাগ সাফল্য পাওয়া যায় না। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগটি উপেক্ষিত আমাদের দেশে! বিভিন্ন ইনফেকশাস ডিজিজে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চিকিত্সক এবং স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হচ্ছেন আমাদের দেশে। ব্যাপারটা কি গবেষণার দাবি রাখে না? আমার ধারণা, এর একটা বিশেষ কারণ হচ্ছে কর্মক্ষেত্র। ইনফেকশন কন্ট্রোল সম্পর্কে সঠিক ধারণা এবং সেকেন্ডারি ইনফেকশন ব্যাপারটি অতিমাত্রায় অবহেলিত আমাদের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে। কেউ সাধারণ দুর্ঘটনায় হয়তো হাত, পা জাতীয় অঙ্গ হারিয়েছেন, এম্পুটেশন করার কিছুদিন পর রোগী মারা যাচ্ছেন, যিনি কি না পুরোপুরি নীরোগ একজন মানুষ ছিলেন, সার্জারি সফল হওয়া সত্ত্বেও মারা যাচ্ছেন। রোগীরা সম্ভবত সেকেন্ডারি ইনফেকশনে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে আমাদের দেশে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কথাই ধরা যাক—বাড়িতে চিকিত্সা নিয়ে যেখানে অনেক বয়স্ক মানুষ সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন, সেখানে তরুণ টগবগে চিকিত্সককে করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ দিতে হচ্ছে! গত বছর ডেঙ্গু এপিডেমিকের সময় একই ধরনের ব্যাপার লক্ষ করা গিয়েছিল। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি—স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ইনফেকশন কন্ট্রোলের ওপর গুরুত্ব দিন, একে শক্তিশালী করুন। ইনফেকশন কন্ট্রোল কার্যকর করার জন্য কিন্তু একজন ক্লিনার থেকে শুরু করে মহাপরিচালক পর্যন্ত সবার সমান অংশগ্রহণ আবশ্যকীয়। যথাযথ প্রশিক্ষণ এবং তদারকি হলে আমাদের দেশেও ইনফেকশন কন্ট্রোল যথেষ্ট শক্তিশালী হতে পারে। এ ব্যাপারে দৃষ্টি দেওয়া জরুরি।
ডা. শায়লা, প্রবাসী চিকিত্সক, সৌদি আরব
