অপমান সইতে না পেরে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা!

আপডেট : ২৭ জুন ২০২০, ২২:৫৮

প্রেমিকের সামনে গণধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ এবং পরে প্রেমিক বিয়ে করতে অস্বীকার করায় অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী অপমানে আত্মহত্যা করেছে! ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার দুপুরে জেলার দৌলতপুর উপজেলায়। এ ঘটনায় প্রেমিকসহ বখাটেদের নামে মামলা হয়েছে। পুলিশ প্রেমিক অয়ন আলীকে গ্রেপ্তার করেছে। পলাতক রয়েছে রতন, তন্ময়সহ চার বখাটে। 

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুরের পাঁচকলিয়া গ্রামের কাজী আরিফুর ইসলামের মেয়ে আফরোজা আক্তার (১৫) বৃহস্পতিবার দুপুরে তার প্রেমিক অয়ন আলীর সঙ্গে বেড়াতে যায়। একপর্যায়ে ঘড়িয়াল এলাকায় উদীয়মান যুবসংঘ ক্লাবের রতন, তন্ময়সহ কয়েকজন বখাটে তাদের ক্লাব ঘরে আটকে রাখে। পরে রাতে তারা আফরোজাকে তার চাচা মামলার বাদী কাজী নাজিমুদ্দিনের বাড়িতে রেখে আসে। শুক্রবার সকালে স্থানীয় কয়েকজন মাতবরকে সঙ্গে নিয়ে প্রেমিক অয়নসহ বখাটেরা আফরোজার চাচার বাড়িতে আসে। সেখানে আফরোজার বাবা তার মেয়েকে বিয়ে করার জন্য অয়নকে চাপ দেন। কিন্তু অয়ন রাজি না হয়ে চলে যায়। দুপুরের দিকে               আফরোজা তার ফুফু রুবিয়ার ঘরে গিয়ে আত্মহত্যা করে। সন্ধ্যায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে রাতে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠায়। ওই রাতেই পুলিশ প্রেমিক অয়ন আলীকে গ্রেপ্তার করে।

এ ঘটনায় শনিবার আফরোজার চাচা কাজী নাজিমুদ্দিন বাদী হয়ে প্রেমিক অয়ন আলী,  রতন, তন্ময়সহ আরো অজ্ঞাত দুই বখাটের নামে মামলা করেন। এদিকে পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রেমিক অয়ন আলী স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, উদীয়মান ক্লাবের ছেলেরা তাদের আটক করে মোবাইল ফোন টাকাপয়সা নিয়ে নেয়। এরপর তারা আফরোজাকে মারধর করে ভয় দেখিয়ে তার সামনেই ধর্ষণ করে। এ কারণে সে বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে। এতে যে আফরোজা আত্মহত্যা করবে—সেটা সে বুঝতে পারেনি।

এ ব্যাপারে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, অয়ন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রতন ও তন্ময়ের বিরুদ্ধে আফরোজাকে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছে। তার অভিযোগ কতটা সত্য তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। সে অনুযাযী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।    

গৃহবধূ গণধর্ষণের শিকার

ঝিনাইগাতী (শেরপুর) সংবাদদাতা জানান, গতকাল শনিবার উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের বাকাকুড়া গ্রামে এক গৃহবধূ (২৭) গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। সকালে ওই গৃহবধূ খালাতো ভাইকে নিয়ে গজনী অবকাশকেন্দ্রে ভ্রমণ করতে আসে। পরে বাকাকুড়া গুচ্ছগ্রাম এলাকায় এলে কতিপয় বখাটে তাকে ইজিবাইক থেকে নামিয়ে নেয়। পরে জঙ্গলে নিয়ে তাকে উপর্যুপরি ধর্ষণ করে। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং ধর্ষক বাকাকুড়া গ্রামের চাঁদ মিয়ার ছেলে খোকন মিয়া (২৬) ও শহীদ মিয়ার ছেলে রাসেলকে (২০) গ্রেফতার করে। ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বকর ছিদ্দিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। গৃহবধূকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য শেরপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।