করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ওষুধ উত্পাদনকারী অ্যাস্ট্রাজেনেকার পরীক্ষামূলক প্রথম ভ্যাকসিন হিসেবে চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছেছে। এ পর্যায়ে এটি কোভিড-১৯ থেকে মানুষকে কতটা কার্যকরভাবে সুরক্ষা দিতে পারে, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। বিশ্বের যে কয়টি ভ্যাকসিন এখন পরীক্ষাধীন, তার মধ্যে অগ্রগতি বিবেচনায় শীর্ষে রয়েছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনটি।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান বিজ্ঞানী সৌম্য স্বামীনাথম শুক্রবার এমন কথা জানিয়েছেন। ব্রিটিশ ওষুধ কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তৈরি এই ভ্যাকসিনটি বৃহত্ ও মাঝারি পরিসরে এরই মধ্যে মানবদেহে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ শুরু করেছে। ভ্যাকসিনটির উত্পাদন নিয়ে চলতি সপ্তাহে দশম কোম্পানির সঙ্গেও চুক্তি করা হয়েছে। এখন অপেক্ষা মানবদেহের পরীক্ষায় ভ্যাকসিনটির কার্যকারিতা প্রমাণিত হওয়ার। প্রাথমিকভাবে অ্যাস্ট্রাজেনেকার লাইসেন্সকৃত সিএইচএডিওএক্সওয়ান এনকোভ-১৯ (ChAdOx1 nCoV-19) ভ্যাকসিনটি যুক্তরাজ্যে ১০ হাজার ২৬০ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুকে দেওয়া হবে। এটি দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলেও পরীক্ষা করা হচ্ছে। ভ্যাকসিনটি তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে ‘সিএইচএডিওএক্সওয়ান’ ভাইরাস, যা মূলত সাধারণ সর্দি-কাশির দুর্বল ভাইরাস (অ্যাডেনো ভাইরাস) হিসেবে পরিচিত। এটি শিম্পাঞ্জিকে সংক্রমিত করে। গবেষকরা এ ভাইরাসের জিনেটিক পরিবর্তন করেছেন, যাতে তা মানুষের ক্ষতি না করে। সৌম্য স্বামীনাথম বলেন, মার্কিন কোম্পানি ‘মডার্নার তৈরি ভ্যাকসিনটিও উন্নতির দিক দিয়ে অ্যাস্ট্রাজেনেকার চেয়ে খুব দূরে নেই। এ প্রসঙ্গে সৌম্য স্বামীনাথম বলেন, ‘আমরা জানি যে, মডার্নার তৈরি ভ্যাকসিনটিও তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল শুরু করতে যাচ্ছে, সম্ভবত জুলাইয়ের মাঝামাঝি এবং সম্ভাব্য এই ভ্যাকসিনটিও (অ্যাস্ট্রাজেনেকার থেকে) খুব বেশি দূরে নেই।’
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন করোনা ভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের গবেষণা চলছে। এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক ভ্যাকসিন বা টিকা নিয়ে গবেষণার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে ১৫টির। এরই মধ্যে মানবদেহে বেশ কয়েকটি ভ্যাকসিন প্রয়োগের পরীক্ষাও শুরু হয়েছে। তবে সেগুলো কবে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছবে তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
