করোনা মহামারি চলাকালীন জীবন জীবিকায় নারী-পুরুষ যখন ভিন্ন মাত্রার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে তখন তা উত্তরণে এবারের বাজেটে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা উত্থাপন করা হয়নি। এমন কি গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও জেন্ডার বাজেট উত্থাপন করা হয়নি।
গতকাল শনিবার বিকালে ‘কোভিড-১৯-এর অভিঘাত: নারীর চ্যালেঞ্জ, উত্তরণ ও জেন্ডার বাজেট’ বিষয়ক বাজেট পরবর্তী আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ অনলাইনে এই সভার আয়োজন করে।
লিখিত বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শরমিন্দ নিলোর্মী বলেন, এখন যেসব নারী মা হচ্ছেন তাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জেলা সিভিল সার্ভিস অফিসে একটা ডাটাবেস তৈরি করে একটি হটলাইন নাম্বার থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। নারীদের সামাজিক নিরাপত্তা তৈরির জন্য শুধু আর্থিক সাহায্য না দিয়ে সরকারি কর্মসূচিতে, যেখানে নারী শ্রমিক নিয়োগের সুযোগ আছে সেখানে ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ নারী শ্রমিক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও মোবাইলের অতিরিক্ত কল রেট কমাতে হবে, নারীদের প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করতে হবে, গার্মেন্টস সেক্টরে ছাঁটাই প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে।
এই অনলাইন আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, এবারের বাজেটে জরুরি দুর্যোগকালীন মোকাবিলা কীভাবে হবে সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে হওয়া উচিত ছিল। ইমিডিয়েট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা বা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলার প্রতিফলন বাজেটে নেই।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, জেন্ডার বাজেট মনিটরিংয়ের ন্যাশনাল প্রসিডিউর থাকতে হবে। এর মাধ্যমে আগের বছরে বরাদ্দকৃত টাকার আয় ব্যয়ের হিসাব পাওয়া যাবে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ পেতে নারীবান্ধব সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। অপরদিকে, বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, নারীর কর্মসংস্থান এখন হুমকির মুখে এবং নারী উদ্যোক্তারাও সংকটের মুখে আছেন। ই-কমার্স বিষয়ে নারীদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে যাতে তারা নিজ নিজ ব্যবসার ক্ষেত্রকে চালিয়ে নিতে পারেন। অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য স্বল্পসুদে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা বাজেটে থাকা দরকার ছিল, যাতে তারা স্বকর্মে যুক্ত হতে পারে। অনলাইন এই সভার সভাপতিত্ব করেন মহিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।
