বিজ্ঞান
হিমন এডওয়ার্ড গমেজ, সিনিয়র শিক্ষক
সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
৪) হাঁচি-কাশির সময় হাত দিয়ে মুখ ঢেকে বা রুমাল ব্যবহার করে আমরা সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করতে পারি। এক্ষেত্রে হাতের তালু ব্যবহার করার চেয়ে হাতের উল্টো পিঠ বা কুনুইর ভাঁজ ব্যবহার করা ভালো কেন?
উত্তর : হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সংক্রামক রোগের জীবাণু বায়ুতে ছড়িয়ে পড়ে। এসময় যদি রুমাল বা টিস্যু দিয়ে মুখ ঢাকা হয় তখন জীবাণু রুমাল বা টিস্যুতে আটকে পড়ে। ফলে বায়ুতে জীবাণু ছড়ায় না। শুধু তাই নয় হাঁচি-কাশির সময় হাতের তালু ব্যবহার না করে হাতের উল্টোদিক এবং কনুই এর ভাঁজ ব্যবহার করলে জীবাণুর সংক্রমণ কম ঘটে। কারণ হাতের তালু ব্যবহার করলে এবং পরে সেই হাত দিয়ে কোনো কিছু ধরলে জীবাণু দ্রুত ছড়ায়। তাই সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে হাঁচি-কাশির সময় হাতের উল্টোদিক এবং কনুই এর ভাজ ব্যবহার করা ভালো।
১.সংক্রামক রোগ কী? সংক্রামক রোগ প্রতিরোধের চারটি উপায় লেখ।
উত্তর : যে রোগ একজন থেকে অন্য জনে ছড়ায় তাকে সংক্রামক রোগ বলে। সংক্রামক রোগ প্রতিরোধের চারটি উপায় নিম্নরূপ—
১.সুষম খাদ্য গ্রহণ করা।
২.নিরাপদ পানি ব্যবহার করা।
৩.হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু-রুমাল বা হাঁত দিয়ে মুখ ডাকা।
৪.চার পাশের পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা।
২.সংক্রামক রোগের প্রকারভেদ সম্পর্কে আলোচনা কর?
উত্তর : সংক্রমণ পদ্ধতি এবং জীবাণুর বাহকের ওপর ভিত্তি করে সংক্রামক রোগ বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। নিচে এর প্রকারভেদ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো—
১.বায়ুবাহিত রোগ : এ সকল রোগ হাঁচি-কাশি বা কথাবার্তা বলার সময় বায়ুতে জীবাণু ছড়ানোর মাধ্যমে হয়। যেমন— সোয়াইন ফ্লু, হাম, গুটিবসন্ত, যক্ষ্মা এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা ইত্যাদি।
২.পানিবাহিত রোগ : এ সকল রোগ দূষিত পানির মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে। যেমন— ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয় এবং টাইফয়েড ইত্যাদি।
৩.ছোঁয়াচে রোগ : রোগাক্রান্ত ব্যক্তির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংস্পর্শে এ সকল রোগ সংক্রামিত হয়। যেমন— ফ্লু, ইবেলা, হাম ইত্যাদি।
৪.প্রাণী ও পোকা মাকড় বাহিত রোগ : বিভিন্ন প্রাণী এবং পোকা মাকড়ের মাধ্যমে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ে। যেমন— কুকুরের কামড়ের মাধ্যমে জলাতঙ্ক রোগ এবং মশার কামড়ের মাধ্যমে ম্যালেরিয়া এবং ডেঙ্গু রোগ ছড়ায়।
৩.মশার কামড়ে দোলার ম্যালেরিয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা দোলার রোগটি প্রতিকারে যে ব্যবস্থা নিয়েছে তার মধ্যে ৫টি ব্যবস্থা লেখ।
উত্তর : দোলার সংক্রামক রোগ হয়েছে।
এটি প্রতিকারের ৫টি ব্যবস্থা নিম্নরূপ
১.পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিতে হবে।
২.পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো।
৩.প্রচুর পরিমাণে নিরাপদ পানি পান করানো।
৪.জ্বরের ওষুধ খাওয়ানো।
৫.ক্রমাগত বমি হলে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া।
